সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর শিক্ষার্থীদের শুধু কাহিনি মুখস্থ করানোর জন্য নয়, বরং গভীরভাবে ভাবতে শেখানোর জন্য তৈরি করা হয়। এখানে চরিত্র বিশ্লেষণ, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, বিশ্বাসঘাতকতা, দেশপ্রেম ও ট্রাজেডির দিকগুলো ব্যাখ্যা করতে হয়।
উদ্দীপকভিত্তিক প্রশ্নে নাটকের ঘটনার সঙ্গে বাস্তব জীবনের মিল খুঁজে বের করতে বলা হয়, যা বোঝার ক্ষমতা বাড়ায়। উত্তরে নিজের ভাষায় যুক্তি ও উদাহরণ দিতে হয়, তাই সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ থাকে। এভাবে সৃজনশীল প্রশ্ন অনুশীলন করলে নাটকের মূল বক্তব্য পরিষ্কার হয় এবং পরীক্ষায় ভালো ফল করা সহজ হয়ে ওঠে।
সিরাজউদ্দৌলা নাটকের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : মধুমতি নদীতে জেগে উঠেছে চান্দের চর। পলিময় উর্বর সেই ভূমি, দেখলে যে কারওই চোখ টাটায়। মন্তু মিয়াও এর বাইরে নয়। কিন্তু এলাকার প্রবল প্রতাপশালী জমিদারের সঙ্গে লড়বে কে? মন্তু মিয়া তাই গোপনে হাত মেলায় জমিদারের জাতি ভাই গজনবী চৌধুরীর সঙ্গে। তার সহায়তায় মন্তু মিয়া এবং তার লাঠিয়াল বাহিনী চরটি দখল করে নেয়। এবার মন্তু মিয়ার নতুন চরের দায়িত্ব নেওয়ার পালা। সে গজনবী চৌধুরীর উপস্থিতি ও দোয়া ছাড়া চান্দের চরের দায়িত্ব গ্রহণ করতে অপারগতা প্রকাশ করে। এভাবেই নদীর বুকে জেগে ওঠা নতুন চর চিরকালের জন্য জমিদারের হাতছাড়া হয়ে যায়।
ক. সিরাজউদ্দৌলার শ্বশুরের নাম কী?
খ. ‘আমার নালিশ আজ আমার নিজের বিরুদ্ধে’ বুঝিয়ে লেখ।
গ. উদ্দীপকের মন্তু মিয়ার সঙ্গে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মিরজাফর চরিত্রের তুলনা কর।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের বেদনাবহ পরিণতির খণ্ডিত চিত্র। তোমার মতামত দাও।
ক. সিরাজউদ্দৌলার শ্বশুরের নাম কী?
উত্তর: সিরাজউদ্দৌলার শ্বশুরের নাম ইরিচ খাঁ।
খ. ‘আমার নালিশ আজ আমার নিজের বিরুদ্ধে’ বুঝিয়ে লেখ।
উত্তর: এই উক্তিটির মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলা নিজের অদূরদর্শিতা এবং ভুল সিদ্ধান্তের প্রতি আত্মোপলব্ধি ও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন।
নবাব হওয়ার পর সিরাজউদ্দৌলা অনেক সময় আবেগের বশবর্তী হয়ে কাজ করেছেন। তিনি মীর জাফর ও উমিচাঁদদের মতো চক্রান্তকারীদের বারবার ক্ষমা করেছেন এবং তাদের ওপর আস্থা রেখেছেন, যারা আসলে ভেতরে ভেতরে তার পতনের ছক কষছিল। নবাব যখন দেখলেন তার চারপাশের সবাই বিশ্বাসঘাতকতায় মত্ত এবং রাজ্য হাতছাড়া হওয়ার পথে, তখন তিনি বুঝতে পারেন এই পরিস্থিতির জন্য তার অতি উদারতা ও উদাসীনতাই দায়ী। মূলত নিজের কৃত ভুলের দায়ভার গ্রহণ করতেই তিনি আক্ষেপ করে এই কথাটি বলেছেন।
গ. উদ্দীপকের মন্তু মিয়ার সঙ্গে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মিরজাফর চরিত্রের তুলনা কর।
উত্তর: উদ্দীপকের মন্তু মিয়া এবং ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মীর জাফর উভয়ই নিজ নিজ স্বার্থ হাসিলের জন্য আপনজন বা পরিচিত পক্ষের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে বাইরের শক্তির সাহায্য নিয়েছে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে মীর জাফর ছিলেন নবাবের প্রধান সেনাপতি এবং নিকটাত্মীয়। কিন্তু নবাব হওয়ার লালসায় তিনি বাংলার স্বাধীনতার বিনিময়ে ইংরেজদের সঙ্গে গোপন চুক্তি করেন। তিনি নবাবের স্বার্থ রক্ষা না করে ব্যক্তিগত স্বার্থকে বড় করে দেখেন, যা বাংলার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবে চিহ্নিত।
উদ্দীপকের মন্তু মিয়ার মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যায়। সে এলাকার উর্বর ‘চান্দের চর’ দখল করার লোভে নিজের পক্ষের লোক বা এলাকার প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে গিয়ে জমিদারের শত্রু গজনবী চৌধুরীর সঙ্গে হাত মেলায়। মীর জাফর যেমন ইংরেজদের শক্তির ওপর ভর করে নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করার পথ তৈরি করেছিলেন, মন্তু মিয়াও তেমনি গজনবী চৌধুরী ও তার লাঠিয়াল বাহিনীর সাহায্যে জমিদারের জমি দখল করে নেয়। উভয়েই নিজেদের লাভের জন্য আপন স্বার্থের পরিপন্থী কাজ করেছে এবং বাইরের শক্তিকে হস্তক্ষেপ করার সুযোগ করে দিয়েছে। তাই চারিত্রিক দিক থেকে মন্তু মিয়া মীর জাফরেরই একটি ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি।
ঘ. উদ্দীপকটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের বেদনাবহ পরিণতির খণ্ডিত চিত্র। তোমার মতামত দাও।
উত্তর: উদ্দীপকটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের মূল ঘটনার একটি অংশ বা খণ্ডিত চিত্রকে তুলে ধরলেও পুরো ট্র্যাজেডি বা পরিণতির বিশালতাকে পুরোপুরি ধারণ করতে পারেনি।
নাটকে সিরাজউদ্দৌলার পতন ছিল একটি স্বাধীন দেশের পরাধীন হওয়ার শুরু। সেখানে কেবল একটি চর হাতছাড়া হয়নি, বরং মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় নবাবের পরাজয় ঘটে, তাকে সপরিবারে লাঞ্ছিত হতে হয় এবং শেষ পর্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে মৃত্যুবরণ করতে হয়। এটি ছিল একটি জাতির ট্র্যাজেডি, যা কেবল ভূখণ্ড হারানোর গল্প নয়, বরং চরম আত্মত্যাগ ও শোকের এক মহাকাব্য।
উদ্দীপকে দেখা যায়, মন্তু মিয়ার বিশ্বাসঘাতকতায় জমিদারের হাত থেকে চরটি চিরকালের জন্য চলে যায়। এখানে জমিদারের অধিকার হারানোর বিষয়টি ফুটে উঠেছে, যা নাটকের নবাবের ক্ষমতা হারানোর সমান্তরাল। মন্তু মিয়ার গজনবী চৌধুরীর তোষামোদ করা এবং তার সাহায্য ছাড়া দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করা অনেকটা মীর জাফরের ইংরেজদের প্রতি মুখাপেক্ষী থাকার কথা মনে করিয়ে দেয়।
তবে নাটকের পরিণতি ছিল অনেক বেশি রক্তক্ষয়ী এবং গভীর। সিরাজউদ্দৌলা নাটকে দেশপ্রেম এবং বিশ্বাসঘাতকতার যে দ্বন্দ্ব, তার চূড়ান্ত রূপ হলো নবাবের মৃত্যু ও ইংরেজদের শাসন প্রতিষ্ঠা। উদ্দীপকে কেবল একটি সম্পদ (চর) হারানোর ঘটনা আছে, কিন্তু সিরাজউদ্দৌলার মতো বীরের করুণ মৃত্যু বা একটি জাতির দীর্ঘকালীন দাসত্বের যে বিশাল বেদনা, তা এখানে অনুপস্থিত। তাই বলা যায়, উদ্দীপকটি বিশ্বাসঘাতকতার মাধ্যমে সম্পদ বা ক্ষমতা হারানোর অংশটি তুলে ধরলেও এটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের সেই বিশাল ও গভীর বেদনাবহ পরিণতির একটি আংশিক বা খণ্ডিত চিত্র মাত্র।
সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : বিধবা সখিনা বেগম নিঃসন্তান। স্বামীর রেখে যাওয়া সকল সম্পত্তির মালিক এখন সে। বোনের ছেলে মিরাজকে সন্তান স্নেহে বড় করেছে। পারিবারিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘তিব্বত কোম্পানি’র অংশীদার সখিনা বেগম এবং তার দেবর। দেবর-পুত্র রিয়াজও মিরাজের সমবয়সী। সখিনা বেগম ভাবে ‘তিব্বত কোম্পানি’র পুরো অংশীদারিত্ব যদি মিরাজকে দেওয়া যেত তবে ভালো হত। ভিতরে ভিতরে অনেক কূটকৌশল আঁটে সে। এক সময় সিদ্ধান্ত নেয়, রিয়াজকে সে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেবে। কিন্তু সুপ্ত বিবেক তাকে বাধা দেয়।
ক. নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দুর্গ দখল করে তার কী নাম রাখেন?
খ. ‘ইনি কি নবাব না ফকির’ – উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন অংশের রেখাপাত ঘটেছে? বুঝিয়ে দাও।
ঘ. “সখিনা বেগমের মতো ঘসেটি বেগম যদি বিবেকবান হতো, তবে পলাশির প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হতো না” – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
ক. নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দুর্গ দখল করে তার কী নাম রাখেন?
উত্তর: নবাব সিরাজউদ্দৌলা কলকাতা দুর্গ দখল করে তার নাম রাখেন ‘আলিনগর’।
খ. ‘ইনি কি নবাব না ফকির’ – উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: এই উক্তিটির মাধ্যমে নবাব সিরাজউদ্দৌলার চরম দুর্দিন এবং তার ছদ্মবেশে পলায়নরত অবস্থার করুণ রূপ বোঝানো হয়েছে।
পলাশির যুদ্ধে পরাজয়ের পর নবাব যখন প্রাণ বাঁচাতে ছদ্মবেশে অজানার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন, তখন তার পরনে ছিল সাধারণ পোশাক এবং চেহারায় ছিল ক্লান্তির ছাপ। ভগবানগোলার এক চটিয়াল বা দোকানদার নবাবকে দেখে চিনতে না পেরে তার সাধারণ বেশভূষা ও অসহায়ত্ব লক্ষ্য করে এই মন্তব্যটি করেছিলেন। একসময়ের প্রতাপশালী বাংলার নবাবকে অতি সাধারণ মানুষের মতো রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখে এই বিস্ময়সূচক কথাটি বলা হয়েছে।
গ. উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন অংশের রেখাপাত ঘটেছে? বুঝিয়ে দাও।
উত্তর: উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের অন্যতম প্রধান কুচক্রী চরিত্র ঘষেটি বেগমের পারিবারিক কলহ ও উত্তরাধিকার নিয়ে ষড়যন্ত্রের অংশের রেখাপাত ঘটেছে।
নাটকে দেখা যায়, নবাব আলিবর্দী খাঁ-র বড় মেয়ে ঘষেটি বেগম নিঃসন্তান ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন তার ছোট বোনের ছেলে একরামউদ্দৌলাকে দত্তক নিয়ে তাকে সিংহাসনে বসাতে। কিন্তু সিরাজউদ্দৌলা নবাব হওয়ায় তার সেই স্বপ্ন ভেঙে যায় এবং তিনি সিরাজের প্রতি চরম প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে ওঠেন। সিরাজকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে নিজের পছন্দের কাউকে বসানোর জন্য তিনি ইংরেজ ও মীর জাফরদের সাথে হাত মেলান।
উদ্দীপকের সখিনা বেগমও নিঃসন্তান এবং তিনি তার বোনের ছেলে মিরাজকে বড় করেছেন। মিরাজকে ‘তিব্বত কোম্পানি’র পুরো মালিকানা দেওয়ার জন্য তিনি তার দেবর-পুত্র রিয়াজকে সরিয়ে দেওয়ার কূটকৌশল আঁটেন। এই যে পরিবারের যোগ্য উত্তরাধিকারীকে বাদ দিয়ে নিজের পছন্দের মানুষকে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ষড়যন্ত্র এবং প্রিয়জনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা এই দিকটিই ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ঘষেটি বেগমের প্রাথমিক ষড়যন্ত্রের অংশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
ঘ. “সখিনা বেগমের মতো ঘসেটি বেগম যদি বিবেকবান হতো, তবে পলাশির প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হতো না” – মন্তব্যটি বিশ্লেষণ কর।
উত্তর: মন্তব্যটি যথার্থ। ঘষেটি বেগমের অন্ধ প্রতিহিংসা এবং বিবেকহীন কর্মকাণ্ডই মূলত বাংলার স্বাধীনতার পথকে রুদ্ধ করেছিল।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে ঘষেটি বেগম ছিলেন নবাবের আপন খালা। কিন্তু ক্ষমতার লোভ আর ব্যক্তিগত আক্রোশ তাকে এতটাই অন্ধ করে দিয়েছিল যে, তিনি দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজের জিদকে বড় করে দেখেছিলেন। তিনি ইংরেজদের অর্থ ও বুদ্ধি দিয়ে সাহায্য করেছেন এবং মীর জাফরদের ষড়যন্ত্রে ইন্ধন জুগিয়েছেন। তার এই বিবেকহীন ষড়যন্ত্রের ফলেই পলাশির যুদ্ধে নবাবের পরাজয় ত্বরান্বিত হয় এবং বাংলার স্বাধীনতা ইংরেজদের হাতে চলে যায়।
উদ্দীপকের সখিনা বেগমও ষড়যন্ত্র শুরু করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার ‘সুপ্ত বিবেক’ তাকে বাধা দিয়েছে। তিনি রিয়াজকে হত্যা করার মতো চরম সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন কারণ তার ভেতরে মনুষ্যত্ব বোধ কাজ করেছে। সখিনা বেগমের মতো ঘষেটি বেগম যদি শেষ মুহূর্তেও তার বিবেককে জাগ্রত করতে পারতেন, তবে তিনি হয়তো নিজের ভাগ্নে সিরাজের বিরুদ্ধে বিদেশি শক্তির সাথে হাত মেলাতেন না।
যদি ঘষেটি বেগম ষড়যন্ত্র থেকে সরে দাঁড়াতেন, তবে মীর জাফররা হয়তো সাহস পেত না এবং নবাবের পারিবারিক শক্তি অটুট থাকত। দেশীয় শক্তির এই ঐক্য বজায় থাকলে পলাশির আম্রকাননে বাংলার পরাজয় ঘটত না। তাই বলা যায়, ঘষেটি বেগমের বিবেকের অভাবই ছিল বাংলার পরাধীনতার অন্যতম কারণ, যা সখিনা বেগমের আচরণের বিপরীতে দাঁড়িয়ে এই সত্যটিকেই প্রমাণ করে।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ : পলাশপুরের বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী পাকবাহিনীর বিরুদ্ধে পরিচালিত সবকটি যুদ্ধাভিযানে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়েছে। পাক সেনাদের কুপোকাত করে নিজের এলাকা সুরক্ষিত রেখেছে। রুস্তম আলীর জ্ঞাতি ভাই কাশেম আলী একজন দেশদ্রোহী, একজন বিশ্বাসঘাতক রাজাকার। রুস্তম আলী অনেক বুঝিয়েও তাকে সুপথে আনতে পারেনি। একদিন কাশেম আলী সুকৌশলে রুস্তম আলীকে ধরিয়ে দেয় পাক সেনাদের হাতে।
ক. কোন ফরাসি সেনাপতি পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করেন?
খ. ‘আমার শেষ যুদ্ধ পলাশিতেই কে, কোন প্রসঙ্গে বলেছেন?
গ. উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. আপনজনের দ্বারা ভয়াবহ বিপর্যয়ের শিকার নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও রুস্তম আলী – মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
ক. কোন ফরাসি সেনাপতি পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করেন?
উত্তর: ফরাসি সেনাপতি সাঁফ্রে পলাশীর প্রান্তরে নবাব সিরাজউদ্দৌলার পক্ষে যুদ্ধ করেন।
খ. ‘আমার শেষ যুদ্ধ পলাশিতেই’ – কে, কোন প্রসঙ্গে বলেছেন?
উত্তর: এই উক্তিটি নবাব সিরাজউদ্দৌলা তার প্রধান সেনাপতি মীর জাফরের উদ্দেশ্যে বলেছেন।
পলাশীর যুদ্ধের আগে মীর জাফর যখন বারবার নবাবের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছিলেন, তখন নবাব তাকে পবিত্র কুরআন ছুঁয়ে শপথ করতে বলেন। নবাব বুঝতে পেরেছিলেন যে ইংরেজদের রুখতে হলে এটাই তার শেষ সুযোগ। তাই মীর জাফরকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে এবং যুদ্ধের গুরুত্ব বোঝাতে নবাব আবেগজড়িত কণ্ঠে বলেছিলেন যে, ইংরেজদের বিরুদ্ধে তার চূড়ান্ত ফয়সালা হবে পলাশীর ময়দানেই।
গ. উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উদ্দীপকে ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের ‘ঘরের শত্রুর বিশ্বাসঘাতকতা’ বা ‘স্বজনপ্রীতি ও দেশদ্রোহিতার’ দিকটি ফুটে উঠেছে।
‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকে আমরা দেখি, নবাব যখন ইংরেজদের হাত থেকে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার লড়াই করছেন, তখন তার আপন খালা ঘষেটি বেগম এবং প্রধান সেনাপতি মীর জাফর ইংরেজদের সাথে হাত মেলান। তারা নবাবের আপনজন ও বিশ্বস্ত লোক হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার লোভে দেশের সর্বনাশ ডেকে আনেন।
উদ্দীপকেও বীর মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম আলী যখন দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে পাকিস্তান বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করছেন, তখন তার আপন জ্ঞাতি ভাই কাশেম আলী রাজাকারের ভূমিকা পালন করে। রুস্তম আলী তাকে সুপথে আনার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। শেষ পর্যন্ত কাশেম আলী নিজের ভাইয়ের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে তাকে পাক সেনাদের হাতে ধরিয়ে দেয়। এই যে আপনজনের হাতে দেশের বীর বা নেতার লাঞ্ছিত হওয়া এবং বিশ্বাসঘাতকতার শিকার হওয়া এই বিশেষ দিকটিই উদ্দীপক ও নাটকের মধ্যে সাদৃশ্য তৈরি করেছে।
ঘ. “আপনজনের দ্বারা ভয়াবহ বিপর্যয়ের শিকার নবাব সিরাজউদ্দৌলা ও রুস্তম আলী” – মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ কর।
উত্তর: মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। ইতিহাস এবং উদ্দীপক উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, বাইরের শত্রুর চেয়ে ঘরের শত্রুই পরাজয়ের প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নবাব সিরাজউদ্দৌলার ক্ষেত্রে তার পরাজয় কেবল ইংরেজদের সামরিক শক্তির কারণে হয়নি। যুদ্ধের ময়দানে মীর জাফরের বিশাল সেনাবাহিনী যদি পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে না থাকত, তবে ক্লাইভের ক্ষুদ্র বাহিনীর পক্ষে জয়লাভ অসম্ভব ছিল। সিরাজউদ্দৌলার পতন এবং পরবর্তী করুণ মৃত্যুর পেছনে মূল কারিগর ছিল তার নিজের পরিবারের সদস্য ও অমাত্যরা। আপনজনদের এই অবিশ্বস্ততা নবাবের জীবন ও বাংলার স্বাধীনতায় এক ভয়াবহ বিপর্যয় ডেকে আনে।
একইভাবে উদ্দীপকের রুস্তম আলীও একজন সফল যোদ্ধা ছিলেন। তিনি তার দক্ষতা দিয়ে এলাকা সুরক্ষিত রেখেছিলেন। তাকে রণক্ষেত্রে পরাজিত করা পাক সেনাদের জন্য কঠিন ছিল। কিন্তু তার আপন ভাই কাশেম আলী যখন বিশ্বাসঘাতকতা করল, তখন রুস্তম আলীর সব প্রতিরোধ ভেঙে পড়ল। কৌশলে তাকে পাক সেনাদের হাতে ধরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে রুস্তম আলীর জীবনে বিপর্যয় নেমে এল।
পরিশেষে বলা যায়, নবাব সিরাজউদ্দৌলা এবং রুস্তম আলী উভয়ই বীর হওয়া সত্ত্বেও পরাজিত হয়েছেন আপনজনদের বিশ্বাসঘাতকতায়। শত্রু যখন ঘরের ভেতরে থাকে, তখন বীরের সংকল্প বা সাহস দিয়েও অনেক সময় বিপর্যয় ঠেকানো সম্ভব হয় না। তাই উল্লিখিত মন্তব্যটি অত্যন্ত বাস্তবসম্মত ও সঠিক।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ : শহিদ মুক্তিযোদ্ধা তরুন বদির নাম আমাদের সবার জানা। অসম্ভব মেধাবী ছেলেটি ইচ্ছা করলেই অন্যভাবে জীবনযাপন করতে পারত, কিন্তু দেশের ক্রান্তিকালে সে নিজের স্বার্থকে দেশের স্বার্থে বির্সজন দিয়েছিল। অসম সাহসের সাথে অনেক অভিযান পরিচালনা করে শেষ পর্যন্ত সে ধরা পড়ে পাকিস্তানি সেনাদের কাছে। পাকিস্তানি সেনারা তাকে ক্ষমার জন্য আবেদন করতে বললে সে অস্বীকৃতি জানায় এবং স্বানন্দ্যে মৃত্যুকে বরণ করে নেয়।
ক. সিরাজউদ্দৌলার গুপ্তচরের প্রকৃত নাম কী?
খ. পলাশিতে দেশপ্রেমিক সৈনিকরা যুদ্ধ করার সুযোগ পায়নি কেন?
গ. উদ্দীপটি ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের যে দিকটির সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা ব্যাখ্যা কর।
ঘ. ‘প্রকৃত দেশপ্রেমিকের কাছে স্বাধীনতা অর্জন কিংবা রক্ষার জন্য মৃত্যুভয় তুচ্ছ’ – মন্তব্যটি উদ্দীপক ও ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটক অবলম্বনে বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৫ : শেক্সপিয়র তাঁর ‘হ্যামলেট’ নাটকে সময়ের ঐক্যকে ব্যবহার করেছেন। তিনি একদিকে ছিলেন সমাজ সচেতন অন্যদিকে রাজনীতি সচেতন লেখক। তাই রাষ্ট্রনায়কদের নানা ত্রুটি বিচ্যুতিগুলোই অত্যন্ত দরদ দিয়ে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছেন। নাটকটিতে বিশ্বাসঘাতকতা, বিষাদ, উন্মত্ততা ও প্রতিশোধ সুন্দরভাবে চিত্রিত করেছেন তিনি।
ক. কোম্পানির ঘুষখোর ডাক্তার কে?
খ. ‘উমিচাঁদে এ যুগের সেরা বিশ্বাসঘাতক’ কেন?
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত বিষয়গুলো ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের যে দিকের প্রতিফলন ঘটিয়েছে তার ব্যাখ্যা দাও।
ঘ. “উদ্দীপকটি কেবল বিষয়বস্তু নয় আঙ্গিককেও ধারণ করেছে” ‘সিরাজউদ্দৌলা’ নাটকের আলোকে মন্ত্যটির যৌক্তিকতা বিচার কর।

