রোজা ভঙ্গের কারণ ১৯টি

এক নজরে রোজা ভঙ্গের কারণ ১৯টি ২০২৬

রোজা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, তাই কোন কাজগুলো করলে রোজা ভঙ্গ হয় তা জানা জরুরি। সাধারণভাবে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা, ধূমপান করা, স্বামী-স্ত্রীর সহবাস, ইচ্ছাকৃত বমি করা, পুষ্টিকর ইনজেকশন নেওয়া, রক্ত বা স্যালাইন দ্বারা শক্তি গ্রহণ, মাসিক ও নিফাস শুরু হওয়া, জেনে শুনে কিছু গিলে ফেলা, নাকে বা কানে ওষুধ দিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছানো, জোরে কুলি করে পানি গিলে ফেলা, দাঁতের ফাঁক থেকে বড় খাবার খাওয়া, ইচ্ছাকৃত বীর্যপাত ঘটানো, অচেতন হয়ে সারাদিন থাকা, পাগল হয়ে যাওয়া, ধর্মত্যাগ করা, ইচ্ছা করে রোজা ভাঙার নিয়ত করা, সূর্যাস্তের আগে ইফতার করা, সাহরি না খেয়ে ভুল সময়ে খাওয়া এবং ওষুধ খাওয়া রোজা ভঙ্গের কারণ। এসব থেকে সতর্ক থাকাই কর্তব্য।

রোজা ভঙ্গের কারণ ১৯টি

ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী রোজা ভঙ্গের কারণগুলোকে মূলত দুই ভাগে ভাগ করা হয়। এক প্রকার কারণে রোজা ভেঙে যায় এবং তার জন্য কেবল ‘কাজা’ (একটি রোজার পরিবর্তে একটি) করলেই হয়। অন্য প্রকার কারণে রোজা ভাঙলে ‘কাজা’ ও ‘কাফফারা’ (একটি রোজার বদলে টানা ৬০টি রোজা) উভয়ই ওয়াজিব হয়।

আপনার অনুরোধ অনুযায়ী রোজা ভঙ্গের প্রধান ১৯টি কারণ নিচে ব্যাখ্যাসহ দেওয়া হলো:

রোজা ভঙ্গের কারণ

ক. যে সকল কারণে রোজা ভেঙে যায়

১. ইচ্ছাকৃত পানাহার: সুবহে সাদিকের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো খাদ্য বা পানীয় গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যায়।

২. ইচ্ছাকৃত স্ত্রী সহবাস: রোজার অবস্থায় দিনের বেলা সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায়। এর জন্য কাজা ও কাফফারা উভয়ই দিতে হয়।

খ. যে সকল কারণে রোজা ভেঙে যায়

৩. অনিচ্ছাকৃত কিছু গিলে ফেলা: কুলি করার সময় বা অজু করার সময় অসাবধানতাবশত পেটে পানি চলে গেলে।

৪. ইচ্ছাকৃত বমি করা: মুখ ভরে ইচ্ছাকৃতভাবে বমি করলে রোজা ভেঙে যায়। তবে নিজে থেকে বমি হলে রোজা ভাঙে না।

৫. পাথরের কণা বা অখাদ্য গেলা: মাটি, পাথর, কণা বা এমন কিছু যা সাধারণত মানুষ খায় না, তা গিলে ফেললে।

৬. নাক বা কানে ওষুধ দেওয়া: নাকে বা কানে তরল ওষুধ প্রবেশ করালে যদি তা কণ্ঠনালী বা পেটে পৌঁছে যায়। (চোখের ড্রপে রোজা ভাঙে না)।

৭. দাঁতের ফাঁক থেকে খাবার খাওয়া: দাঁতের ফাঁকে আটকে থাকা ছোলা পরিমাণ বা তার চেয়ে বড় কোনো খাদ্যকণা বের করে গিলে ফেললে।

৮. বিড়ি-সিগারেট বা হুক্কা খাওয়া: ধূমপান করলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে ধোঁয়া গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যায়।

৯. পেশি বা শিরার বাইরে ইনজেকশন: যদি এমন কোনো ইনজেকশন বা ড্রিপ নেওয়া হয় যা সরাসরি পাকস্থলীতে পুষ্টি যোগায় বা খাদ্যের বিকল্প হিসেবে কাজ করে।

১০. ভুলবশত খেয়ে ফেলার পর ইচ্ছাকৃত খাওয়া: কেউ ভুল করে কিছু খেয়ে ফেলল (এতে রোজা ভাঙে না), কিন্তু সে ভাবল রোজা ভেঙে গেছে এবং এরপর ইচ্ছাকৃতভাবে আবার খেল তাহলে রোজা ভেঙে যাবে।

১১. রাত মনে করে সাহরি খাওয়া: সুবহে সাদিক হয়ে যাওয়ার পর রাত বাকি আছে মনে করে সাহরি খেলে।

১২. সময় হওয়ার আগেই ইফতার করা: সূর্যাস্ত হয়েছে মনে করে ভুলবশত ইফতার করে ফেললে।

১৩. হস্তমৈথুন করা: ইচ্ছাকৃতভাবে বীর্যপাত ঘটালে রোজা ভেঙে যায়।

১৪. মুখে পান রেখে ঘুমিয়ে পড়া: মুখে পান বা সুপারি রেখে ঘুমিয়ে পড়ার পর যদি সুবহে সাদিক হয়ে যায় এবং তার রস পেটে চলে যায়।

১৫. অসুস্থতার কারণে রোজা ভাঙা: রোজা রাখার পর তীব্র অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং সুস্থ হওয়ার জন্য ওষুধ বা খাবার খেলে।

১৬. জোরপূর্বক কিছু খাওয়ানো: কেউ যদি জোর করে রোজাদারের মুখে কিছু ঢেলে দেয় এবং তা পেটে চলে যায়।

১৭. নারীদের মাসিক (হায়েজ) শুরু হওয়া: রোজার মধ্যে পিরিয়ড বা মাসিক শুরু হলে সেই রোজা ভেঙে যায় (পরবর্তীতে কাজা করতে হয়)।

১৮. সন্তান প্রসবের পরবর্তী রক্তস্রাব (নেফাস): সন্তান প্রসবের পর রক্তস্রাব শুরু হলেও রোজা ভেঙে যায়।

১৯. পাগল হয়ে যাওয়া: রোজা অবস্থায় কেউ যদি হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে দীর্ঘ সময় পাগল থাকে, তবে তার রোজা নষ্ট হয়ে যায়।

যেসব কারণে রোজা ভাঙ্গে না

ভুলবশত খাওয়া: যদি কেউ একদম ভুলে গিয়ে (অর্থাৎ মনেই নেই যে সে রোজাদার) কিছু খেয়ে ফেলে, তবে তার রোজা ভাঙবে না। মনে পড়ার সাথে সাথে খাওয়া বন্ধ করতে হবে।

স্বপ্নদোষ: ঘুমের মধ্যে স্বপ্নদোষ হলে রোজা ভাঙে না।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *