লালসালু উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন মূলত শিক্ষার্থীদের বোঝার ক্ষমতা যাচাই করার জন্য করা হয়। এখানে কাহিনির ঘটনা, চরিত্রের আচরণ, পরিবেশ ও লেখকের মূল বক্তব্য সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।
এসব প্রশ্নের মাধ্যমে মজিদের প্রতারণা, ধর্মীয় কুসংস্কার, গ্রামীণ সমাজের সরলতা এবং মানুষের মানসিকতা সহজভাবে তুলে ধরা হয়। শিক্ষার্থীরা পাঠ্যাংশ পড়ে নিজের ভাষায় উত্তর লেখে, ফলে বিষয়টি গভীরভাবে মনে থাকে। অনুধাবন প্রশ্ন শুধু তথ্য জানা নয়, বরং অর্থ বুঝে ব্যাখ্যা করার দক্ষতা বাড়ায়। এতে সাহিত্য পড়ার প্রতি আগ্রহ ও বিশ্লেষণী চিন্তাভাবনাও উন্নত হয়।
লালসালু উপন্যাসের অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর
১. ‘মনে হয় এটা খোদাতালার বিশেষ দেশ।’—উক্তিটি ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: উক্তিটি দিয়ে মজিদ মহব্বতনগর গ্রামের উর্বরতা এবং গ্রামবাসীদের ধর্মীয় উদাসীনতাকে বিদ্রূপ করেছে।
মজিদ যখন প্রথম মহব্বতনগর গ্রামে প্রবেশ করে, তখন সে দেখে সেখানকার জমি খুব উর্বর এবং শস্যে ভরপুর। কিন্তু তার চোখে পড়ে গ্রামবাসীরা ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে একেবারেই অজ্ঞ। সে অবাক হওয়ার ভান করে গ্রামবাসীদের বোঝাতে চায় যে, আল্লাহ তাদের এত নেয়ামত দিয়েছেন অথচ তারা শুকরিয়া আদায় করতে জানে না। মূলত মানুষের মনে অপরাধবোধ জাগিয়ে তুলে নিজের আধিপত্য বিস্তার করার জন্যই সে এই নাটকীয় উক্তিটি করেছিল।
২. মজিদ যে খেলা খেলতে যাচ্ছে তা সাংঘাতিক কেন?
উত্তর: মজিদের ‘খেলা’ বলতে একটি সাধারণ কবরকে মিথ্যে মাজার সাজানোকে বোঝানো হয়েছে, যা জানাজানি হলে তার প্রাণনাশের ঝুঁকি ছিল।
মজিদ নোয়াখালীর শস্যহীন অঞ্চল থেকে এসে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য মহব্বতনগর গ্রামে একটি প্রাচীন পরিত্যক্ত কবরকে ‘মোদাচ্ছের পীরের মাজার’ বলে ঘোষণা করে। এটি ছিল সরাসরি ধর্মের অবমাননা এবং একটি বিশাল জালিয়াতি। যদি কোনোভাবে গ্রামবাসীরা বুঝতে পারত যে এই কবরের সাথে কোনো পীরের সম্পর্ক নেই, তবে মজিদকে গ্রাম ছাড়তে হতো অথবা মানুষের গণপিটুনির শিকার হতে হতো। এই চরম ঝুঁকির কারণেই লেখক বিষয়টিকে ‘সাংঘাতিক’ বলেছেন।
৩. ‘মাটি-এ গোস্বা করে’—এ কথার ভাবার্থ কী?
উত্তর: ‘মাটি গোস্বা করে’ বলতে মজিদ বুঝিয়েছে যে, মানুষ যদি ধর্মীয় বিধান না মানে তবে জমিন তার উর্বরতা হারিয়ে ফেলবে।
মজিদ মহব্বতনগর গ্রামের সহজ-সরল ও ধর্মভীরু মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে সবসময় ভয়ের আশ্রয় নিত। সে গ্রামবাসীদের বিশ্বাস করাত যে, তারা যদি নামাজ না পড়ে বা মাজারের খেদমত না করে, তবে জমি তাদের ওপর অসন্তুষ্ট হবে। আর মাটি রাগ করলে ফসল হবে না, ফলে তাদের না খেয়ে মরতে হবে। মানুষের পেটের ক্ষুধা আর ধর্মীয় ভয়কে এক করে দিয়ে নিজের স্বার্থ হাসিল করতেই সে এই কথাটি বলত।
৪. মজিদ রহীমার প্রতি গুরুগম্ভীর হয়ে পড়ে কেন?
উত্তর: নিজের তথাকথিত আধ্যাত্মিক ব্যক্তিত্ব এবং অন্দরমহলে একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার জন্য মজিদ রহীমার প্রতি গম্ভীর হয়ে থাকত।
মজিদ জানে যে রহীমা তার স্ত্রী হলেও সে মূলত মজিদের অনুগত সেবিকা এবং গ্রামের নারীদের কাছে মজিদের বার্তার বাহক। মজিদ যদি রহীমার সাথে স্বাভাবিক হাসি-তামাশা করত, তবে তার সেই রহস্যময় ‘পীর’ ইমেজটি ক্ষুণ্ণ হতো। রহীমার মনে সবসময় একটি সমীহ ও ভয়ের জায়গা ধরে রাখার জন্যই সে নিজেকে ধরা-ছোঁয়ার বাইরের এক গম্ভীর মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করত।
৫. মজিদ আউয়ালপুরে গেল কেন?
উত্তর: আউয়ালপুরে আসা নতুন পীরের প্রভাব মূল্যায়ন করতে এবং তাকে প্রতিহত করার কৌশল খুঁজতে মজিদ সেখানে গিয়েছিল।
মজিদ মহব্বতনগর গ্রামে নিজের একক আধিপত্য কায়েম করে রেখেছিল। যখন সে শুনল পাশের আউয়ালপুর গ্রামে এক অলৌকিক ক্ষমতা সম্পন্ন পীর এসেছেন এবং মানুষ দলে দলে সেখানে যাচ্ছে, তখন সে নিজের অস্তিত্ব নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়ে। মজিদ বুঝতে পারে, ওই পীরের প্রভাব বাড়লে তার মাজারের ব্যবসা লাটে উঠবে। তাই সে পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখতে এবং ওই পীরকে গ্রামবাসীর সামনে হেয় প্রতিপন্ন করার সুযোগ খুঁজতে সেখানে যায়।
৬. ‘কুৎসা রটনা বড় গর্হিত কাজ’—কেন?
উত্তর: ধর্মীয় দৃষ্টিতে পরনিন্দা বা মানুষের অগোচরে খারাপ কথা বলা মহাপাপ, যা মজিদ নিজের স্বার্থে ব্যবহার করেছে।
ইসলাম ধর্মে গীবত বা কুৎসা রটানোকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মজিদ যখন দেখে তার কোনো অন্যায় বা চাতুর্য নিয়ে কেউ আলোচনা করছে, তখন সে এই ধর্মীয় বাণীর ঢাল ব্যবহার করে। সে গ্রামবাসীদের বোঝাতে চায় যে, মাজার বা তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলা মানেই ‘কুৎসা রটানো’। মূলত নিজের খুঁতগুলো আড়াল করতে এবং মানুষের মুখ বন্ধ রাখতেই সে একে ‘গর্হিত কাজ’ হিসেবে প্রচার করে।
৭. ‘সে ঝংকার মানুষের প্রাণে লাগে, কানে লাগে।’—ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: এখানে মজিদের সেই তীক্ষ্ণ ও প্রভাববিস্তারকারী কণ্ঠস্বরের কথা বলা হয়েছে, যা দিয়ে সে গ্রামবাসীদের মোহাবিষ্ট ও ভীত করে রাখে।
মজিদ সাধারণ মানুষের মতো কথা বলে না; তার কথা বলার এক বিশেষ ভঙ্গি ও সুর আছে। যখন সে কোরআন তিলাওয়াত করে বা নসিহত দেয়, তখন তার কণ্ঠে এক ধরণের কৃত্রিম গাম্ভীর্য ও ঝংকার সৃষ্টি হয়। এই সুর গ্রামের নিরক্ষর ও ধর্মভীরু মানুষের মনে এক রহস্যময় ভীতির সৃষ্টি করে। তারা মনে করে মজিদ সাধারণ কেউ নয়, বরং ঐশ্বরিক কোনো শক্তির অধিকারী।
৮. যে জিনিস বোঝার নয়, তার জন্য কৌতূহল প্রকাশ করা অর্থহীন কেন?
উত্তর: মজিদ আধ্যাত্মিকতার দোহাই দিয়ে মাজারের যাবতীয় রহস্যকে সাধারণ মানুষের চিন্তার বাইরে রাখতে এই উক্তিটি করেছে।
মজিদের মাজারটি ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যে ও সাজানো। কেউ যদি মাজারের ইতিহাস বা পীরের পরিচয় নিয়ে বেশি কৌতূহল দেখায়, তবে মজিদের ভণ্ডামি ধরা পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সে প্রচার করে যে, আধ্যাত্মিক বিষয়গুলো যুক্তি দিয়ে বোঝার নয়, কেবল বিশ্বাস করার। কৌতূহল দমন করে মানুষকে অন্ধবিশ্বাসী বানিয়ে রাখতেই সে এই কৌশল অবলম্বন করে।
৯. আল্লাহর ওপর এত ভরসা সত্ত্বেও মজিদের চোখে জ্বালাময়ী ছবি ভেসে ওঠে কেন?
উত্তর: মজিদের মনে আধ্যাত্মিক বিশ্বাসের চেয়ে বৈষয়িক স্বার্থ ও প্রতিপত্তি হারানোর ভয় বেশি ছিল বলে তার চোখে প্রতিহিংসার ছবি ভেসে ওঠে।
মুখে আল্লাহর ওপর অগাধ ভরসার কথা বললেও মজিদ আসলে একজন স্বার্থান্বেষী মানুষ। আউয়ালপুরে নতুন পীরের আগমনে যখন তার মাজারের প্রভাব কমে যাওয়ার উপক্রম হয়, তখন সে বিচলিত হয়ে পড়ে। তার মনে হয় তার অন্ন-বস্ত্র ও সম্মানের জায়গাটি অন্য কেউ দখল করে নিচ্ছে। এই ঈর্ষা ও অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ের কারণেই তার মনে প্রতিহিংসার আগুন জ্বলে ওঠে।
১০. মজিদের মন থম থম করে কেন?
উত্তর: নিজের সাজানো মিথ্যে সাম্রাজ্যের ভবিষ্যৎ এবং সম্ভাব্য সংকট নিয়ে মজিদের অবচেতন মনে যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়, তাকেই ‘মন থম থম করা’ বলা হয়েছে।
মজিদ জানে তার পুরো জীবনটাই একটি মিথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে। যখনই গ্রামে কোনো নতুন শক্তির উদ্ভব হয় (যেমন আউয়ালপুরের পীর বা আক্কাস আলীর স্কুল), তখনই মজিদ তার পতন আসন্ন ভেবে শঙ্কিত হয়। এই অনিশ্চয়তা ও মানসিক অস্থিরতা তার মনের ভেতর এক গুমোট ও থমথমে পরিবেশ তৈরি করে।
১১. মজিদের ক্রোধ হয় কেন?
উত্তর: মজিদের একচ্ছত্র আধিপত্য ও মাজারের কর্তৃত্বকে কেউ চ্যালেঞ্জ করলে বা তার কথার অবাধ্য হলে সে চরম রাগান্বিত হয়।
মজিদ নিজেকে মহব্বতনগর গ্রামের ভাগ্যবিধাতা মনে করে। যখন আক্কাস আলী গ্রামে স্কুল প্রতিষ্ঠা করতে চায় কিংবা তার দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলা মাজারের প্রতি অবজ্ঞা দেখায়, তখন মজিদ একে তার ক্ষমতার ওপর আঘাত মনে করে। নিজের নিয়ন্ত্রণ হারানোর এই আতঙ্ক থেকেই তার মনে প্রচণ্ড ক্রোধের সৃষ্টি হয়।
১২. ‘এ বিচিত্র বিশাল দুনিয়ায় কী যাবার জায়গার কোনো অভাব আছে?’—ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: এই উক্তিটি মজিদের আত্মবিশ্বাস ও তার নিরাশ্রয় অতীতের অভিজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।
মজিদ এক সময় নোয়াখালীর শস্যহীন অঞ্চল থেকে পেটের দায়ে দেশান্তরী হয়েছিল। সে জানে তার মতো ধূর্ত মানুষের জন্য দুনিয়ার কোথাও না কোথাও ঠাঁই হবেই। যদি মহব্বতনগর গ্রাম থেকে তাকে চলে যেতেও হয়, তবে সে অন্য কোথাও গিয়ে আবার নতুন কোনো প্রতারণার জাল বিছিয়ে নিজের আস্তানা গেড়ে নিতে পারবে এই মানসিক দৃঢ়তাই এখানে প্রকাশ পেয়েছে।
১৩. মজিদ আউয়ালপুরে গেল কেন?
উত্তর: আউয়ালপুরের নতুন পীরের প্রভাব ও জনপ্রিয়তা স্বচক্ষে দেখে তাকে প্রতিহত করার ফন্দি আঁটতে মজিদ সেখানে গিয়েছিল।
আউয়ালপুরে এক নতুন পীরের আগমনে মহব্বতনগরের মানুষও সেখানে ভিড় করতে শুরু করে। এটি মজিদের আধিপত্যের জন্য বড় হুমকি ছিল। তাই মজিদ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে এবং ওই পীরকে গ্রামবাসীর সামনে ছোট করার কোনো সুযোগ পাওয়া যায় কি না, তা যাচাই করতেই সেখানে গিয়েছিল।
১৪. ‘যেন বিশাল সূর্যোদয় হয়েছে, আর সে আলোয় প্রদীপের আলো নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।’—ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: এখানে আউয়ালপুরের পীরের বিশাল প্রভাবের কাছে মজিদের ক্ষুদ্র প্রতিপত্তির অসহায়ত্বের তুলনা করা হয়েছে।
মজিদ আউয়ালপুরে গিয়ে দেখে সেখানে হাজার হাজার মানুষের ভিড়। মজিদ নিজেকে একটি ছোট ‘প্রদীপ’ এবং আউয়ালপুরের পীরকে বিশাল ‘সূর্য’ হিসেবে কল্পনা করে। সূর্যের প্রখর আলোয় যেমন প্রদীপের আলো ম্লান হয়ে যায়, মজিদও ভয় পায় যে নতুন পীরের জনপ্রিয়তায় তার সাজানো মাজারের অস্তিত্ব হয়তো বিলীন হয়ে যাবে।
১৫. পির সাহেব হামলা করতে চায়নি কেন?
উত্তর: আউয়ালপুরের পীর নিজেকে উচ্চমার্গের আধ্যাত্মিক পুরুষ হিসেবে জাহির করতে চেয়েছিলেন বলে মজিদের মতো সাধারণ মানুষের সাথে বিবাদে জড়াতে চাননি।
পীর সাহেব জানতেন যে সরাসরি মজিদের সাথে তর্ক বা হাতাহাতি করলে তার সম্মান ও গাম্ভীর্য নষ্ট হবে। তিনি শান্ত থেকে এবং মজিদকে তুচ্ছজ্ঞান করে গ্রামবাসীদের বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি অনেক বড় মাপের মানুষ। মজিদকে অবজ্ঞা করাটাই ছিল তার একটি কৌশল।
১৬. মজিদের মনে অস্বস্তি কেন?
উত্তর: মজিদের দ্বিতীয় স্ত্রী জমিলার চপলতা, নির্ভীকতা এবং মাজারের প্রতি অনীহা মজিদের সাজানো গাম্ভীর্যকে নষ্ট করে দিচ্ছিল বলে তার মনে অস্বস্তি ছিল।
মজিদ অভ্যস্ত ছিল সবার ওপর হুকুম চালাতে এবং সবাই তাকে ভয় পাবে এমনটা দেখতে। কিন্তু জমিলা ছিল কিশোরী ও প্রাণচঞ্চল; সে মজিদকে ভয় পেত না এবং মাজারকেও বিশেষ গুরুত্ব দিত না। জমিলার এই আচরণ মজিদের দীর্ঘদিনের তৈরি করা শোষণের কাঠামোকে নাড়িয়ে দিচ্ছিল, যা তাকে মানসিকভাবে অশান্ত করে তোলে।
১৭. আমেনা আউয়ালপুরের পীরের সাহায্য চায় কেন?
উত্তর: নিঃসন্তান আমেনা বিবি দীর্ঘদিনের আক্ষেপ মেটাতে এবং শেষ ভরসা হিসেবে আউয়ালপুরের পীরের ‘পড়াপানি’ পেতে চেয়েছিলেন।
আমেনা বিবি মজিদের মাজার ও দোয়া-কালামে কোনো ফল পাননি। যখন তিনি শুনলেন আউয়ালপুরের পীর সাহেবের অলৌকিক ক্ষমতা আছে, তখন তার মনে সুপ্ত আকাঙ্ক্ষা জেগে ওঠে যে হয়তো এবার তার সন্তান হবে। মূলত মাতৃত্বের তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি মজিদকে লুকিয়ে পীরের সাহায্য পেতে চেয়েছিলেন।
১৮. ধলা মিঞা আউয়ালপুরে যেতে চায় না কেন?
উত্তর: ধলা মিঞা মজিদের রাগী স্বভাব ও তীক্ষ্ণ চোখকে প্রচণ্ড ভয় পেতেন বলে আউয়ালপুরের পীরের কাছে যেতে রাজি হননি।
ধলা মিঞা জানতেন যে আমেনা বিবিকে আউয়ালপুরে নিয়ে যাওয়া মজিদ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। মজিদ যদি একবার টের পায় যে তারা অন্য পীরের কাছে গিয়েছে, তবে তার রক্ষা নেই। মজিদের ক্রোধ ও লাঞ্ছনার ভয়েই তিনি আমেনা বিবির প্রস্তাবে রাজি হতে পারছিলেন না।
১৯. ‘সে অন্দরের লোক, আর তার তাগিদটা বাঁচা মরার মতো জোরালো।’—ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: আমেনা বিবির সন্তান লাভের তীব্র আকাঙ্ক্ষা এবং সামাজিক অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইকে এখানে ‘বাঁচা-মরার তাগিদ’ বলা হয়েছে।
তৎকালীন সমাজে নিঃসন্তান নারীর জীবন ছিল অত্যন্ত লাঞ্ছনার। আমেনা বিবিকে তার সতিন ও সমাজের মানুষের কথা শুনতে হতো। একজন পুরুষ হিসেবে মজিদের কাছে যা কেবল একটি দোয়া, আমেনার কাছে তা ছিল তার সারা জীবনের সম্মান ও পরিচয়ের প্রশ্ন। এই অভ্যন্তরীণ যাতনা থেকেই তিনি যেকোনো উপায়ে সন্তানের মুখ দেখতে চেয়েছিলেন।
২০. ‘সজ্ঞানে না জানলেও তারা একটা, পথ তাদের এক’—ব্যাখ্যা কর।
উত্তর: মজিদ এবং আউয়ালপুরের পীর পরস্পর বিরোধী হলেও তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল এক ধর্মকে পুঁজি করে মানুষকে শোষণ করা।
বাহ্যিকভাবে মজিদ ও আউয়ালপুরের পীর একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন, কিন্তু তারা উভয়েই ধর্ম ব্যবসায়ী। তারা দুজনেই সাধারণ মানুষের সরলতা ও কুসংস্কারকে কাজে লাগিয়ে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন। লেখক বোঝাতে চেয়েছেন, শোষক শ্রেণির পোশাক ভিন্ন হলেও তাদের কাজের ধরণ ও শোষণের পথ একই।

