10+ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর 2026

ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর: শামসুর রাহমানের ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে রচিত। এটি মূলত দেশপ্রেম ও সংগ্রামী চেতনার কবিতা। কবি কৃষ্ণচূড়া ফুলকে শহিদদের রক্তের বুদ্বুদ এবং জাতির চেতনার রঙ হিসেবে তুলে ধরেছেন। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের বীর শহিদ সালাম ও বরকতকে প্রতীকরূপে ব্যবহার করে কবি দেখিয়েছেন যে তাদের আত্মত্যাগেই অনুপ্রেরণা পেয়েছিল ঊনসত্তরের মানুষ।

ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

সৃজনশীল-১ 

ক. ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি কোন কাব্যগ্রন্থের কবিতা?
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটি শামসুর রাহমানের বন্দী শিবির থেকে কাব্যগ্রন্থের কবিতা।

খ. ‘সারা দেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
‘সারা দেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা’ বলতে তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর দমন-পীড়ন ও হত্যাযজ্ঞের ফলে সমগ্র দেশের নিরাপত্তাহীন এবং ভীতিকর পরিস্থিতিকে বোঝানো হয়েছে।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের সময় সামরিক জান্তার নির্বিচার গুলিবর্ষণ ও অত্যাচারে দেশের আপামর মানুষের জীবন বিপন্ন হয়ে উঠেছিল। শাসকগোষ্ঠী তখন নিরীহ ও প্রতিবাদী মানুষের ওপর আক্রমণ চালিয়ে দেশকে এক মৃত্যুপুরীতে পরিণত করেছিল। তাদের সেই হত্যাকাণ্ড ও স্বৈরাচারী মনোভাবের কারণেই কবি দেশকে ঘাতক অর্থাৎ হত্যাকারীদের অপবিত্র ও অনিরাপদ ঘাঁটি বা ‘অশুভ আস্তানা’ বলে অভিহিত করেছেন।

গ. উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার বক্তব্যের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি ব্যাখ্যা করো।
উদ্দীপকের বক্তব্যের সাথে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার বক্তব্যের প্রধান সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি হলো শ্রেণিনির্বিশেষে সকল মানুষের সম্মিলিতভাবে আন্দোলনে অংশগ্রহণ এবং দেশপ্রেমের জাগরণ।

উদ্দীপকে দেখা যায়: কারখানার শ্রমিক, কৃষক, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত কেরানি, নারী, বৃদ্ধ—সব শ্রেণি-পেশার মানুষ একই আকাঙ্ক্ষা ও স্বপ্ন নিয়ে রাজপথে নেমে এসেছে। তাদের হাতে ছিল মৃত্যুর ঝুঁকি, কিন্তু চোখে ছিল মুক্তির স্বপ্ন। এটি ছিল স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ।

‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায়: কবিও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার বাঁধভাঙা জোয়ারের কথা তুলে ধরেছেন। কবি দেখেছেন, কীভাবে শহিদ সালামের (৫২-এর শহিদ) নাম ও অনুপ্রেরণা নিয়ে দেশের আপামর জনতা রাজপথে এসেছে। এই আন্দোলনে ধর্ম-বর্ণ-পেশা নির্বিশেষে সকলে এক কাতারে দাঁড়িয়েছিল, যা কবিতায় ‘মিছিলের ঢল’ ও ‘হাজারো হাতে’র অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রতিফলিত হয়েছে।

সুতরাং, উভয় ক্ষেত্রেই স্বাধীনতা ও মুক্তির লক্ষ্যে সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের দুর্বার ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন তুলে ধরা হয়েছে, যা তাদের মূল সাদৃশ্য।

ঘ. “উদ্দীপকে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার খণ্ডাংশ প্রতিফলিত হয়েছে।”- মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
মন্তব্যটি যথাযথ। উদ্দীপকে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার মূলভাবের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অর্থাৎ গণজাগরণের সর্বজনীন রূপটি প্রতিফলিত হয়েছে।

খণ্ডাংশ বা আংশিক প্রতিফলন: উদ্দীপকটি গণঅভ্যুত্থানে জনগণের ব্যাপক ও সর্বজনীন অংশগ্রহণকে তুলে ধরেছে। এতে শ্রমিক, কৃষক, কেরানি, নারী, শিশু, মধ্যবিত্ত—সবার আন্দোলনে আসার কথা বলা হয়েছে। এটি কবিতার মূল প্রতিপাদ্যের একটি শক্তিশালী দিক।

যে অংশ অনুপস্থিত: তবে, ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতাটির মূল চেতনা শুধু অংশগ্রহণেই সীমাবদ্ধ নয়। কবিতাটিতে ৫২-এর ভাষা আন্দোলনের শহিদ সালামের স্মৃতি, রক্তরাঙা কৃষ্ণচূড়া ফুলের মাধ্যমে দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের প্রতীকী প্রকাশ, এবং স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আপসহীন লড়াইয়ের যে গভীর দার্শনিকতা আছে—সেগুলো উদ্দীপকে নেই। কবিতাটি আন্দোলনের সামগ্রিক প্রেক্ষাপট, এর ঐতিহাসিক ভিত্তি ও পরিণতিকে তুলে ধরে, যেখানে উদ্দীপক কেবল আন্দোলনের অংশগ্রহণের চিত্র অঙ্কন করেছে।

উপসংহারে বলা যায়, উদ্দীপকে গণঅভ্যুত্থানের একটি চিত্র বা খণ্ডাংশ দেখানো হয়েছে, যেখানে কবি ও কবিতা উভয়ই স্বীকৃত। কিন্তু কবিতার গভীর প্রতীকী ব্যঞ্জনা ও ঐতিহাসিক প্রেরণা এখানে অনুপস্থিত। তাই, মন্তব্যটি যথার্থ যে উদ্দীপকে কবিতার মূল বক্তব্য আংশিক বা খণ্ডাংশরূপে প্রতিফলিত হয়েছে।

সৃজনশীল-২

ক. ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কোন ফুলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে?
‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কৃষ্ণচূড়া ফুলের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

খ. ‘দুঃখিনী মাতার অশ্রুজলে ফোটে ফুল’ বলতে কী বোঝানো হযেছে?
‘দুঃখিনী মাতার অশ্রুজলে ফোটে ফুল’ বলতে শহিদদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে অর্জিত সংগ্রামী চেতনার প্রতীকী প্রকাশকে বোঝানো হয়েছে।

এখানে ‘দুঃখিনী মাতা’ বলতে মাতৃভূমি বা দেশকে বোঝানো হয়েছে, যা সামরিক স্বৈরাচারী শাসকের দ্বারা অত্যাচারিত, শোষিত ও নিপীড়িত। এই দুঃখিনী মায়ের চোখের জল অর্থাৎ দেশের মানুষের দুঃখ, বেদনা ও আত্মত্যাগ থেকেই ফুল ফোটে। এই ফুল সাধারণ কোনো ফুল নয়, এটি হলো ৫২’র শহিদ সালাম, বরকতের মতো বীরদের রক্তরঞ্জিত দেশপ্রেম ও প্রতিবাদের প্রতীক কৃষ্ণচূড়া। অর্থাৎ, সকল দুঃখ, বেদনা ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে মুক্তি ও জাগরণের জন্ম হয় এই গভীর অর্থটিই এখানে তুলে ধরা হয়েছে।

See More  ১০০টি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাসের উক্তি ২০২৬

গ. উদ্দীপকে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার কোন দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা করো।
উদ্দীপকে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে আত্মত্যাগ ও প্রতিবাদের মাধ্যমে মুক্তির আকাঙ্ক্ষার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে।

উদ্দীপকের বক্তব্য: উদ্দীপকে নূর হোসেনের কথা বলা হয়েছে, যিনি স্বৈরাচারী শাসকের বিরুদ্ধে আন্দোলনে মৃত্যুকে ভয় না করে বেয়নেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন। তাঁর আত্মত্যাগের ফলে স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং দেশে গণতান্ত্রিক আবহ ফিরে আসে। তিনি ছিলেন দেশপ্রেম ও প্রতিবাদের প্রতীক।

কবিতার প্রতিফলন: ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায়ও স্বৈরাচারী শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এই আন্দোলন ছিল শহিদদের রক্তের চেতনায় উদ্দীপ্ত। কৃষ্ণচূড়া ফুল এখানে শহিদদের রক্তের প্রতীক হিসেবে আত্মত্যাগের মাধ্যমে জাগরণের বার্তাকে বহন করে। কবিতায় ৫২-এর শহিদ সালামের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তাঁরই অনুপ্রেরণায় ঊনসত্তরের বীর জনতা মৃত্যুকে তুচ্ছ করে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

সুতরাং, উভয় ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দেশ ও গণতন্ত্র রক্ষায় তরুণদের বলিদান এবং সেই বলিদান থেকে গণজাগরণ ও মুক্তি লাভ করার দিকটি প্রতিফলিত হয়েছে। নূর হোসেনের আত্মত্যাগ যেমন স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল, তেমনি কবিতাটিতে উল্লেখিত আন্দোলনও একই আকাঙ্ক্ষা বহন করে।

ঘ. “বাংলাদেশের সব আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। উদ্দীপক ও ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার আলোকে তোমার মতামত দাও।
হ্যাঁ, মন্তব্যটি সম্পূর্ণ যথার্থ। বাংলাদেশের ইতিহাসের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন-সংগ্রামে তরুণ ও যুবশক্তিই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যা উদ্দীপক ও ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার মাধ্যমে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত।

তরুণদের ভূমিকা:
১. আত্মত্যাগ ও সাহস: উদ্দীপকের নূর হোসেন একজন বলিষ্ঠ যুবক, যিনি সামরিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর বুকে ও পিঠে লেখা স্লোগান ছিল প্রবল প্রতিবাদের প্রতীক। তাঁর এই চরম আত্মত্যাগ আন্দোলনকে চূড়ান্ত রূপ দিয়েছিল। ঠিক তেমনি, ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় ৫২-এর তরুণ শহিদ সালামের নাম বারবার উচ্চারিত হয়েছে, যা ঊনসত্তরের তরুণদের আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রেরণা যুগিয়েছে।

২. পরিবর্তনের প্রতীক: কবিতাটি ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান নিয়ে রচিত, যেখানে শিক্ষার্থী, যুবক ও সাধারণ তরুণরাই স্বৈরাচারী আইয়ুব খানের বিরুদ্ধে মিছিলের ঢল নামিয়েছিল। এই তরুণরাই ‘কৃষ্ণচূড়ার ডাল’ নিয়ে এসেছিল, যা ছিল মৃত্যুকে জয় করে এগিয়ে যাওয়ার প্রতীক।

৩. ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা: ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, এবং ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তরুণ শিক্ষার্থীরাই ছিল অগ্রভাগে। উদ্দীপকে উল্লেখিত নূর হোসেনের সংগ্রামও সেই একই সাহস, দেশপ্রেম ও আপসহীন চেতনার ধারাবাহিকতা।

তরুণরাই দেশের বুকে জমে থাকা জঞ্জাল সরাতে এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবচেয়ে বেশি আবেগ, সাহস ও শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। উদ্দীপকের নূর হোসেন এবং কবিতার শহিদ সালামের অনুপ্রেরণা বহনকারী তরুণ সমাজ—উভয়ই প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের সব ধরনের মুক্তি ও জাগরণের মূলমন্ত্র হলো এই তরুণদের বলিষ্ঠ অংশগ্রহণ।

ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন 

৩। তুমি তরুণ, তুমি অরুণ, জাতির ভাগ্যাকাশে
তোমার তাজা প্রাণের ছোঁয়ায় বাংলা ভাষা হাসে
উনসত্তরের অভ্যুত্থানে তোমারই বুক পাতা
তোমারই লাল রক্তে ভিজে এসেছে স্বাধীনতা।

ক. ধরে ধরে কৃষ্ণচূড়া কোথায় ফুটেছে।
খ. ফুল নয়, ওরা শহিদদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকটি ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার যে দিকটিকে নির্দেশ করে তা তুলে ধরো।
ঘ. ‘বাঙালির মুক্তির সংগ্রামে তরুণদের ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ।’- উদ্দীপক ও ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।

৪। সুন্দর সকাল। কুজনে মুখরিত চারপাশ। আকাশটা যেন আজ ধূপছায়া শাড়িতে নিজেকে জড়িয়েছে। এমনি মনোরম নৈসর্গিক নান্দনিকতা ভেদ করে চিৎকার করে উঠল ভিনদেশি যন্ত্রদানব। ছুটল গুলি! ঝরল রক্ত! বিনিময়ে বায়ান্নতে আমরা পেলাম কথা বলবার অধিকার। চুয়ান্ন, ছেষট্টি, ঊনসত্তর পেরিয়ে একাত্তরে আমরা পেলাম লাল-সবুজের পতাকা, পবিত্র মানচিত্র আর প্রিয় স্বদেশ। ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর

ক. শহরের পথে কী ফুটেছে?
খ. ‘অবিনাশী বর্ণমালা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটি ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার সঙ্গে কোন কোন দিক থেকে সাদৃশ্যপূর্ণ—তুলে ধর।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার পূর্ণ অনুরণন ঘটেনি।”— মন্তব্যটি যাথার্থ্য নির্ণয় কর।

৫। তোমার রাইফেল থেকে বেরিয়ে আসছে জীবন
তুমি দাও থরোথরো দীপ্ত প্রাণ বেয়নেটে নিহত লাশকে
তোমার আগমনে প্রাণ পায় মরা গাছ পোড়া প্রজাপতি
তোমার পায়ের শব্দে বাংলাদেশে ঘনায় ফাল্গুন
৫৬,০০০ বর্গমাইলের এই বিধ্বস্ত বাগানে
এক সুরে গান গেয়ে ওঠে সাত কোটি বিপন্ন কোকিল।
(মুক্তিবাহিনীর জন্য- হুমায়ূন আজাদ]

See More  ৮০+ সোনার তরী কবিতার MCQ প্রশ্নের উত্তর ২০২৬

ক. ফুল কোথায় ফোটে?
খ. ‘সারা দেশ ঘাতকের অশুভ আস্তানা’- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় সাদৃশ্য তুলে ধরো।
ঘ. ‘বাঙালির সংগ্রাম ছিল ধ্বংসের বিরুদ্ধে মানবতার লড়াই।’ মন্তব্যটির যথার্থতা নিরূপণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৬: ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার নামটি স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে। তিনি ছিলেন প্রথম মহিলা শহিদ। দেশের জন্য মানুষের ওপর অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে মাস্টার দা সূর্য সেনের নেতৃত্বে প্রতিরোধ গড়তে সশস্ত্র বিদ্রোহে শামিল হন প্রীতিলতা। ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণের পর পটাশিয়াম সায়ানাইড খেয়ে তিনি আত্মাহুতি দেন। প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের বিপ্লবী চেতনা যুগ যুগ ধরে স্বাধীনতাকামী মানুষকে প্রেরণা দিয়েছে, আজও দেয়। কারণ, বিপ্লবীদের মৃত্যু নেই।

ক. কবি শামসুর রাহমানের প্রথম কবিতা প্রকাশিত হয় কোন পত্রিকায়?’
খ. ‘হৃদয়ের হরিৎ উপত্যকায়’- বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের কোন চেতনাটি ‘ফেব্রুয়ারি-১৯৬৯’ কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ? যুক্তি দেখাও।
ঘ. “উদ্দীপকে উল্লিখিত ‘বিপ্লবীদের মৃত্যু নেই’ কথাটি ফেব্রুয়ারি- ১৯৬৯’ কবিতায় প্রতিফলিত হয়েছে” বিশ্লেষণ করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৭: গীতিকার আব্দুল গাফফার চৌধুরীর লেখা গান, ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো/ একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি।

ক. ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কোথায় ফুল ফোটার কথা বলা হয়েছে?
খ. “একুশের কৃষ্ণচূড়া আমাদের চেতনারই রং”- ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো’ চরণটির সাথে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার সালাম ও বরকত চরিত্রের সাদৃশ্য কোথায়?
ঘ. ‘উদ্দীপকটি ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার মূল-চেতনাকে ধারণ করে কি? উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৮: ১৯৫২ সালের ঐতিহাসিক রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের ক্রমধারায় ছাত্র অসন্তোষকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে আন্দোলন। যা ১৯৬৯ এ ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নেয়। এরপর ১৯৭০ সালে সাধারণ নির্বাচন। ১৯৭১ সালে মহান যুক্তিযুদ্ধে এক সাগর রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। এ দেশের মানুষের মনে তখন অনুপ্রেরণা হয়ে কাজ করেছে অদম্য প্রাণশক্তি, জুগিয়েছে অকৃত্রিম দেশপ্রেম।

ক. শামসুর রাহমান কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
খ. “ওরা শহিদের ঝলকিত রক্তের বুদ্বুদ স্মৃতিগন্ধে ভরপুর” বলতে ‘কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটিতে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার কোন দিকটি ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য।” উদ্দীপক ও ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার আলোকে উক্তিটির তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন ৯: ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লক্ষ বীর মুক্তিযোদ্ধা দেশমাতৃকার মুক্তির জন্য জীবন বিসর্জন দিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে জন্ম হয়েছে লাল সবুজের পতাকা ও প্রিয় বাংলাদেশ। জাতির এ সূর্যসন্তানেরাই আমাদের চলার পথের দিশারি। তাঁদের এ আত্মত্যাগ আমাদের দেশপ্রেমের মূলমন্ত্রে উজ্জীবিত রাখে সারাক্ষণ।

ক. “হরিৎ উপত্যকা’ অর্থ কী?
খ. ‘সেই ফুল আমাদের প্রাণ’- চরণটির দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার সংস্কৃতির রক্ষার যে সংগ্রামী চেতনা ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ‘উদ্দীপকের বীর মুক্তিযোদ্ধারা যেমন আমাদের অনুপ্রেরণা, ৫২’র ভাষা শহিদরাও পরবর্তী সকল আন্দোলনের অনুপ্রেরণা’- ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতা অবলম্বনে মন্তব্যটি মূল্যায়ন করো।

সৃজনশীল প্রশ্ন ১০: রাশেদের গ্রামের বাড়ি সিলেট। পেশায় সে কেরানি ছিল। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা আন্দোলনে শহিদ হয়। তার ছোট্ট মেয়ে শেফা কাল বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছে। আজ হাতে মেহেদি পরেছে। সকালে রাঙা হাত দেখে মায়ের চোখ ছলছল করে। লাল রঙের এমন দাগ রাশেদের শরীরে সেদিন দেখেছিলেন তিনি। আজও রক্তবর্ণ তার চোখে চেতনার রং হয়ে ভাসল।

ক. ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতায় কৃষ্ণচূড়ার লাল রং কীসের প্রতীক?
খ. ‘ফুল নয়, ওরা শহিদদের ঝলকিত রক্তের বুদ্‌বুদ’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে রাশেদের মায়ের অশ্রু ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার যে আন্দোলনের কথা মনে করিয়ে দেয়, তা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “আজও রক্তবর্ণ তার চোখে চেতনার রং হয়ে ভাসল”- উক্তিটিতে ‘ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯’ কবিতার মূল সুরের প্রতিফলন হতে দেখা যায়। বিশ্লেষণ করো।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *