ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ হলো স্তনের কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি যা একটি টিউমার তৈরি করে। এটি মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সারের একটি, তবে পুরুষরাও আক্রান্ত হতে পারে। প্রথম ধাপেই শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা সহজ হয়। সাধারণ লক্ষণ হলো স্তনে গুটির উপস্থিতি, আকার বা আকৃতির পরিবর্তন, স্তন বা ছাতির ত্বকে অসহ্য ব্যথা, ওষুধ বা লিকুইড নিঃসরণ। ডায়াগনোসিসে মমোগ্রাফি, আলট্রাসাউন্ড বা বায়োপসি ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসা অপারেশন, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন বা হরমোন থেরাপির মাধ্যমে করা হয়। সময়মতো শনাক্তকরণ জীবন রক্ষা করতে সাহায্য করে।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ ও করনীয়
ব্রেস্ট ক্যান্সার মহিলাদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ ক্যান্সারের মধ্যে একটি, যদিও পুরুষরাও আক্রান্ত হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে এটি অনেক সময় লক্ষণহীন থাকে, তবে কয়েকটি পরিবর্তন লক্ষ্য করলে সময়মতো চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণত খুব সূক্ষ্ম এবং ধীরে ধীরে প্রকাশ পায়। তাই স্তনের নিয়মিত স্ব-পরীক্ষা ও সচেতনতা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
লক্ষণ-১: একটি সাধারণ এবং প্রাথমিক লক্ষণ হলো স্তনে বা আশেপাশের অঞ্চলে অস্বাভাবিক গুটি বা ভারী অংশের উপস্থিতি। এই গুটি সাধারণত ব্যথাহীন হয় এবং সময়ের সাথে আকার বা অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে, এটি স্পর্শ করলে কঠিন এবং অনিয়মিত মনে হতে পারে। গুটির সাথে মিলিয়ে অন্যান্য লক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ।
লক্ষণ-২: স্তনের আকার বা আকৃতিতে হঠাৎ পরিবর্তন ব্রেস্ট ক্যান্সারের আরেকটি প্রাথমিক লক্ষণ। স্তন বড় হওয়া, ছোট হওয়া বা আকারে অসমতা দেখা দিতে পারে। এক বা দুই স্তনের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করা গেলে তা উপেক্ষা করা ঠিক নয়। স্তনের ত্বক বা ছাতির ত্বকে পরিবর্তনও প্রাথমিক সতর্কতা সংকেত হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, ত্বক খসে যাওয়া, চামড়ার গাঁথা বা সোলার মতো দাগ তৈরি হওয়া, লালচে বা নরম হওয়া প্রভৃতি লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
লক্ষণ-৩: ছাতি বা নিপলেও প্রাথমিক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। ছাতির মধ্যে অস্বাভাবিক ইনডেন্টেশন (ভাঁজ), ঘূর্ণন বা উল্টো দিকে ধাবিত হওয়া, ফোলা বা লালচে ভাব, এবং ছাতি থেকে অজানা লিকুইড বা রক্তের নিঃসরণ প্রাথমিক সতর্কতার সংকেত। এই নিঃসরণ স্বাভাবিক দুধের জন্য নয় এবং তা একপাশের ছাতি থেকে হতে পারে।
লক্ষণ-৪: ব্রেস্ট ক্যান্সারের কিছু প্রাথমিক লক্ষণ শারীরিক ব্যথা হিসেবে প্রকাশ পেতে পারে। স্তনে বা বুকে হালকা বা স্থায়ী ব্যথা অনুভূত হতে পারে, যদিও এটি সব সময় ক্যান্সারের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তবে অন্যান্য লক্ষণের সঙ্গে মিলিত হলে সতর্ক হওয়া উচিত।
লক্ষণ-৫: এছাড়া লিম্ফ নোডে পরিবর্তনও প্রাথমিক সংকেত হতে পারে। কাঁধ, গলা বা বুকে লিম্ফ নোড ফুলে যাওয়া, শক্ত হওয়া বা অস্বাভাবিক আকারে অনুভূত হওয়া ব্রেস্ট ক্যান্সারের ইঙ্গিত দিতে পারে।
প্রাথমিক ধাপে এই লক্ষণগুলো অনেক সময় ছোট ও অস্বস্তিহীন হওয়ায় উপেক্ষা করা হয়। তাই নিয়মিত স্ব-পরীক্ষা, মাসিক ভিত্তিতে স্তনের স্ব-পরীক্ষা করা, এবং কোনো অস্বাভাবিক গঠন বা পরিবর্তন দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারকে দেখানো খুব জরুরি। প্রাথমিক ধাপে শনাক্তকরণ ক্যান্সারের সফল চিকিৎসা এবং জীবনের সম্ভাব্য দীর্ঘায়ু বাড়াতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণগুলো সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এটি সময়মতো শনাক্ত করা যায়, যা চিকিৎসার জটিলতা কমায় এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।
স্তন ক্যান্সার হলে করনীয়
যদি স্তন ক্যান্সারের কোনো প্রাথমিক লক্ষণ দেখা যায় বা ডাক্তার নিশ্চিত করেন যে ক্যান্সার হয়েছে, তখন দ্রুত এবং সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রথমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ডায়াগনোসিস নিশ্চিত করার জন্য মমোগ্রাফি, আলট্রাসাউন্ড, এমআরআই বা বায়োপসি করা হয়। ক্যান্সারের ধরণ, আকার এবং অবস্থানের উপর ভিত্তি করে চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। চিকিৎসার মধ্যে প্রধানত সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি বা হরমোন থেরাপি অন্তর্ভুক্ত।
চিকিৎসার পাশাপাশি মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার দিকে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। পরিবার বা বন্ধুদের সহায়তা নেওয়া, প্রয়োজন হলে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। জীবনধারার পরিবর্তনও সাহায্য করতে পারে, যেমন স্বাস্থ্যকর খাদ্য, নিয়মিত ব্যায়াম, ধূমপান বা মদ্যপান এড়ানো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সময়মতো চিকিৎসা শুরু করা। প্রাথমিক ধাপে শনাক্ত হলে নিরাময়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি। তাই কোনো অস্বাভাবিক গুটি, ছাতির পরিবর্তন বা ত্বকের লক্ষণ লক্ষ্য করলে দেরি না করে ডাক্তারকে দেখানো উচিত।

