সেহরি ও ইফতারের দোয়া রোজার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ, যা আমাদের ইবাদতকে আরও অর্থবহ করে তোলে। সেহরির সময় দোয়া করলে আল্লাহর কাছে শক্তি, ধৈর্য ও সঠিক পথে থাকার প্রার্থনা করা হয়, যেন সারাদিনের রোজা সুন্দরভাবে পালন করা যায়। আর ইফতারের দোয়া হলো কৃতজ্ঞতার প্রকাশ, যেখানে আমরা আল্লাহর নেয়ামতের জন্য শুকরিয়া আদায় করি। সারাদিনের কষ্টের পর এই দোয়া মনকে শান্তি দেয় এবং আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস আরও গভীর করে। তাই সেহরি ও ইফতারের দোয়া আমাদের আত্মাকে পবিত্র করে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সুযোগ এনে দেয়।
সেহরি ও ইফতারের দোয়া
সেহরি ও ইফতারের জন্য নির্ধারিত ছোট কিছু দোয়া আছে যা আমাদের নিয়ত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশে সাহায্য করে। আপনাদের সুবিধার জন্য নিচে দোয়াগুলো দেওয়া হলো:
সেহরির দোয়া (রোজার নিয়ত)
সেহরির শেষ সময় পার হওয়ার আগে মনে মনে রোজার ইচ্ছা করাই যথেষ্ট। তবে অনেকে এই দোয়াটি পড়েন:
আরবি: نَوَيْتُ اَنْ اَصُوْمَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمَضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَكَ يَا اَللهُ فَتَقَبَّلْ مِنِّيْ اِنَّكَ اَنْتَ السَّمِيْعُ الْعَلِيْمُ
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আসুমা গাদাম মিন শাহরি রামাদ্বানাল মুবারাকি ফারদাল্লাকা ইয়া আল্লাহু ফাতাক্বাব্বাল মিন্নী ইন্নাকা আনতাস সামিউল আলীম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আগামীকাল পবিত্র রমজান মাসে তোমার পক্ষ থেকে নির্ধারিত ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। অতএব তুমি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করো। নিশ্চয়ই তুমি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।
ইফতারের দোয়া
ইফতারের সময় বিসমিল্লাহ বলে ইফতার শুরু করা সুন্নত। ইফতারের পর এই দোয়াটি পড়া হয়:
আরবি: ذَهَبَ الظَّمَأُ وَابْتَلَّتِ الْعُرُوقُ وَثَبَتَ الأَجْرُ إِنْ شَاءَ اللَّهُ
উচ্চারণ: জাহাবায জামাউ ওয়াবতাল্লাতিল উরুকু ওয়া সাবাতাল আজরু ইনশাআল্লাহ।
অর্থ: পিপাসা দূর হয়েছে, শিরা-উপশিরা সিক্ত হয়েছে এবং আল্লাহ চাইলে পুরস্কারও নির্ধারিত হয়েছে।
মনে রাখবেন, রোজার মূল বিষয় হলো মনের ইচ্ছা বা সঙ্কল্প। আপনি যদি মনে মনে ভাবেন যে “আমি আগামীকাল রোজা রাখব,” তবেই আপনার নিয়ত হয়ে যাবে। আরবি দোয়া পড়া জরুরি নয়, তবে পড়লে সওয়াব পাওয়া যায়।
সেহরি ও ইফতারের সময়সূচি (ঢাকা)
| রমজান | তারিখ | সেহরির শেষ সময় | ইফতারের সময় |
| ১ | ১৮ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) | ৫:০৮ | ৫:৫৮ |
| ২ | ১৯ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) | ৫:০৭ | ৫:৫৮ |
| ৩ | ২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) | ৫:০৬ | ৫:৫৯ |
| ৪ | ২১ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) | ৫:০৫ | ৬:০০ |
| ৫ | ২২ ফেব্রুয়ারি (রবিবার) | ৫:০৪ | ৬:০০ |
| ৬ | ২৩ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) | ৫:০৩ | ৬:০১ |
| ৭ | ২৪ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) | ৫:০২ | ৬:০১ |
| ৮ | ২৫ ফেব্রুয়ারি (বুধবার) | ৫:০১ | ৬:০২ |
| ৯ | ২৬ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) | ৫:০০ | ৬:০২ |
| ১০ | ২৭ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) | ৪:৫৯ | ৬:০৩ |
| ১১ | ২৮ ফেব্রুয়ারি (শনিবার) | ৪:৫৮ | ৬:০৩ |
| ১২ | ১ মার্চ (রবিবার) | ৪:৫৭ | ৬:০৪ |
| ১৩ | ২ মার্চ (সোমবার) | ৪:৫৬ | ৬:০৪ |
| ১৪ | ৩ মার্চ (মঙ্গলবার) | ৪:৫৫ | ৬:০৫ |
| ১৫ | ৪ মার্চ (বুধবার) | ৪:৫৪ | ৬:০৫ |
| ১৬ | ৫ মার্চ (বৃহস্পতিবার) | ৪:৫৩ | ৬:০৬ |
| ۱৭ | ৬ মার্চ (শুক্রবার) | ৪:৫২ | ৬:০৬ |
| ১৮ | ৭ মার্চ (শনিবার) | ৪:৫১ | ৬:০৭ |
| ১৯ | ৮ মার্চ (রবিবার) | ৪:৫০ | ৬:০৭ |
| ২০ | ৯ মার্চ (সোমবার) | ৪:৪৯ | ৬:০৭ |
| ২১ | ১০ মার্চ (মঙ্গলবার) | ৪:৪৮ | ৬:০৮ |
| ২২ | ১১ মার্চ (বুধবার) | ৪:৪৭ | ৬:০৮ |
| ২৩ | ১২ মার্চ (বৃহস্পতিবার) | ৪:৪৬ | ৬:০৯ |
| ২৪ | ১৩ মার্চ (শুক্রবার) | ৪:৪৫ | ৬:০৯ |
| ২৫ | ১৪ মার্চ (শনিবার) | ৪:৪৪ | ৬:০৯ |
| ২৬ | ১৫ মার্চ (রবিবার) | ৪:৪৩ | ৬:১০ |
| ২৭ | ১৬ মার্চ (সোমবার) | ৪:৪২ | ৬:১০ |
| ২৮ | ১৭ মার্চ (মঙ্গলবার) | ৪:৪১ | ৬:১১ |
| ২৯ | ১৮ মার্চ (বুধবার) | ৪:৪০ | ৬:১১ |
| ৩০ | ১৯ মার্চ (বৃহস্পতিবার) | ৪:৩৯ | ৬:১২ |
মনে রাখবেন: ১. চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে রমজান শুরু ও শেষ হওয়ার তারিখ একদিন কম-বেশি হতে পারে।
২. ঢাকার বাইরে অন্যান্য জেলার ক্ষেত্রে সময়ের কিছুটা পার্থক্য (১-৭ মিনিট) হবে।

