বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উক্তি, এটি একটি ইসলামী রাজনৈতিক দল যা ১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দলটি ইসলামী শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে এবং ইসলামী মূল্যবোধের প্রচার করে। দলটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে এবং একে একে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতায় অংশগ্রহণ করেছে। জামায়াতে ইসলামী মুসলিম সমাজের বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, ও অর্থনৈতিক বিষয়ে মত প্রকাশ করে থাকে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উক্তি
আল্লাহর সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করাই মুমিনের জীবনের মূল লক্ষ্য। মানুষের তৈরি আইনের গোলামি ছেড়ে এক আল্লাহর দাসত্ব কবুল করাই হলো প্রকৃত মুক্তি।
জামায়াতে ইসলামীর প্রধান লক্ষ্য হলো ইকামাতে দ্বীন বা দ্বীনকে বিজয়ী আদর্শ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা। আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীন কায়েম করাই আমাদের রাজনীতির মূল ভিত্তি।
ইসলাম কেবল একটি ধর্ম নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান। ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায় পর্যন্ত ইসলামের বিধান বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য।
সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ করা প্রতিটি মুসলমানের ঈমানি দায়িত্ব। আমরা সেই দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও ইনসাফপূর্ণ সমাজ গড়তে চাই।
জামায়াতে ইসলামী একটি দাওয়াতি কাফেলা। মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকা এবং তাদের জীবনকে পবিত্র করার মাধ্যমেই সমাজে পরিবর্তন আনা সম্ভব।
আমরা এমন এক নেতৃত্বের স্বপ্ন দেখি যারা হবে পরহেজগার, আমানতদার এবং জনগণের প্রকৃত সেবক। নেতৃত্বের পরিবর্তন ছাড়া জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন সম্ভব নয়।
যোগ্য ও সৎ লোক তৈরি করাই আমাদের আন্দোলনের অন্যতম প্রধান কাজ। সোনার বাংলা গড়তে হলে আগে সোনার মানুষ গড়তে হবে।
সংগঠনের মূল ভিত্তি হলো আনুগত্য এবং পরামর্শ। আমরা বিশ্বাস করি, আল্লাহর ওপর ভরসা এবং নেক পরামর্শের মাধ্যমেই যেকোনো কঠিন পরিস্থিতি মোকাবেলা করা সম্ভব।
নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি আদর্শ পরিবার ও সমাজ গড়ে ওঠে। ইসলাম নারীদের যে সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে, তা রক্ষা করাই আমাদের অঙ্গীকার।
আমরা বিশ্বাস করি, কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে পরিচালিত রাষ্ট্র ব্যবস্থাই কেবল মানুষের মৌলিক অধিকার ও ইনসাফ নিশ্চিত করতে পারে।
শাহাদাতের তামান্না মুমিনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। বাতিলের সামনে মাথা নত না করে সত্যের ওপর অটল থাকাই হলো ঈমানি সাহসিকতা।
বিপদ ও মুসিবতে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা আমাদের আন্দোলনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বিজয় কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।
আমরা একটি শোষণমুক্ত সমাজ গড়তে চাই যেখানে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য থাকবে না এবং প্রত্যেকের অধিকার সংরক্ষিত হবে।
আদর্শিক লড়াইয়ে জয়ী হতে হলে আমাদের জ্ঞান ও প্রযুক্তিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হবে। ইসলামের দাওয়াতকে আধুনিক বিশ্বের কাছে তুলে ধরাই সময়ের দাবি।
জামায়াতে ইসলামী কোনো ব্যক্তিকেন্দ্রিক দল নয়, এটি একটি সুশৃঙ্খল গণতান্ত্রিক সংগঠন। এখানে ব্যক্তিস্বার্থের চেয়ে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ও আদর্শ বড়।
পরকালের জবাবদিহিতার ভয়ই একজন মানুষকে প্রকৃত দেশপ্রেমিক ও সৎ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। দুনিয়ার চেয়ে আখেরাতের কামিয়াবীই আমাদের বড় চাওয়া।
অন্যায়ের প্রতিবাদ করা এবং মজলুমের পাশে দাঁড়ানো ঈমানের দাবি। আমরা সব সময় জুলুমের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
একটি ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণই আমাদের উদ্দেশ্য। ইসলামের সুমহান ভ্রাতৃত্বের ছায়াতলে সবাই নিরাপদ এবং সম্মানিত।
মানুষের সেবা করাই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম পথ। জামায়াতে ইসলামী আর্তমানবতার সেবায় সব সময় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে চায়।
কুরআন আমাদের সংবিধান এবং রাসুল (সা.) আমাদের চিরন্তন আদর্শ। এই দুই পথ থেকে বিচ্যুত হওয়া মানেই ধ্বংসের অতল গহ্বরে হারিয়ে যাওয়া।
দেশপ্রেম ঈমানের অঙ্গ। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।
প্রতিটি কর্মীকে হতে হবে আমল ও আখলাকে অনন্য। মানুষের কাছে ইসলামের জীবন্ত দাওয়াত হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।

রাজনীতি আমাদের কাছে ইবাদত। যদি তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং জনগণের কল্যাণের উদ্দেশ্যে পরিচালিত হয়।
দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে আল্লাহর আইন ও সৎ লোকের শাসন অনিবার্য। এটিই আমাদের আন্দোলনের মূল শ্লোগান।
যুগে যুগে ইসলামের এই পথে অনেক ত্যাগ ও কোরবানি দিতে হয়েছে। ত্যাগের বিনিময়েই সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়—এটিই ইতিহাসের শিক্ষা।
আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমরা চাই সহনশীলতা এবং ন্যায়ের ভিত্তিতে একটি সুন্দর রাজনৈতিক সংস্কৃতি।
শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা ইসলামের শিক্ষা। আমরা মেহনতি মানুষের অধিকার রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
সুদ ও শোষণের কবল থেকে অর্থনীতিকে মুক্ত করে জাকাত ও ওশর ভিত্তিক অর্থব্যবস্থা চালুই হলো অর্থনৈতিক মুক্তির পথ।
যুবকদের নৈতিক চরিত্র রক্ষা করা আমাদের অন্যতম লক্ষ্য। চরিত্রহীন যুবসমাজ দিয়ে জাতির কল্যাণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
আমরা এমন এক বিচার ব্যবস্থা চাই যেখানে নিরপরাধ মানুষ সাজা পাবে না এবং অপরাধী তার উপযুক্ত শাস্তি ভোগ করবে।
জ্ঞানের চর্চা এবং গবেষণার মাধ্যমে সমাজকে অন্ধকার থেকে আলোতে নিয়ে আসাই আমাদের আন্দোলনের বুদ্ধিভিত্তিক লড়াই।
আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস এবং নিজেদের ওপর আত্মবিশ্বাস নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। বিজয় আমাদের ইনশাআল্লাহ।
অন্য ধর্মের অনুসারীদের অধিকার রক্ষা করা ইসলামের নির্দেশ। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখা আমাদের অন্যতম রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
সংস্কৃতি হতে হবে রুচিশীল এবং ইসলামের আদর্শের পরিপন্থী নয়। অপসংস্কৃতির হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব।
সত্যের পথে চলতে গিয়ে যারা জীবন দিয়েছেন, তাদের রক্ত বৃথা যাবে না। শহীদদের ত্যাগের ওপর ভিত্তি করেই একদিন ইসলামের বিজয় নিশান উড়বে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিয়ে স্ট্যাটাস
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও আদর্শিক অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে আরও ৩০টি গুরুত্বপূর্ণ উক্তি ও মূলনীতি নিচে দেওয়া হলো:
দ্বীন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে টিকে থাকার জন্য নিয়মিত কুরআন-হাদিস অধ্যয়ন এবং আত্মশুদ্ধি অপরিহার্য। আধ্যাত্মিক শক্তি ছাড়া বাতিলের মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।
জামায়াতে ইসলামী একটি সুশৃঙ্খল ক্যাডার ভিত্তিক সংগঠন, যেখানে নেতার চেয়ে নীতি এবং ব্যক্তির চেয়ে আদর্শকে সবসময় বড় করে দেখা হয়।
ইসলামি সমাজ ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের প্রধান কাজ হলো জনগণের জান-মাল ও ইজ্জতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের মাঝে ন্যায়বিচার কায়েম করা।
আমরা এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা চাই যা একজন মানুষকে শুধু দক্ষ হিসেবেই নয়, বরং একজন নৈতিক ও খোদাভীরু নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।
বিজয় বা পরাজয় বড় কথা নয়, বড় কথা হলো আমরা শেষ পর্যন্ত হকের পথে অটল থাকতে পারলাম কি না। চূড়ান্ত ফয়সালা আল্লাহর হাতে।
সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে মিশে থাকা অনৈতিকতা ও দুর্নীতির মূল উৎপাটন করতে হলে মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর ভয় জাগ্রত করতে হবে।
একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনে ইসলামি শ্রমনীতি ও বণ্টন ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। সম্পদের সুষম বণ্টনই দারিদ্র্য বিমোচনের একমাত্র পথ।
আন্দোলনের কর্মীদের পারস্পরিক সম্পর্ক হতে হবে সিসাঢালা প্রাচীরের মতো মজবুত। একে অপরের ভাই হয়ে কাজ করাই হলো সাফল্যের চাবিকাঠি।
ইসলাম কোনো বিশেষ জাতি বা গোষ্ঠীর জন্য নয়, এটি সমগ্র মানবতার কল্যাণের জন্য। তাই আমাদের দাওয়াত সব মানুষের তরে।
রাজনীতিকে কলুষমুক্ত করতে হলে চরিত্রবান ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন। অসৎ লোকের হাতে ক্ষমতা থাকা জাতির জন্য অভিশাপ।
ইসলামি ইনকিলাব বা বিপ্লব কোনো হঠকারিতার নাম নয়; বরং নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনমতের ভিত্তিতে সমাজ পরিবর্তনই আমাদের পথ।
মাযলুমের আর্তনাদ আল্লাহর আরশ কাঁপিয়ে দেয়। তাই আমাদের প্রতিটি কাজ যেন হয় মানুষের চোখের পানি মোছার এবং অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য।
জামায়াতে ইসলামীর কর্মীরা হলো রাতের দরবেশ আর দিনের অশ্বারোহী। আল্লাহর ইবাদত এবং জনগণের সেবা—দুটোই আমাদের অভিন্ন কর্মসূচি।
আমরা জাতীয় ঐক্যে বিশ্বাস করি। দেশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং উন্নয়নের প্রশ্নে সব দেশপ্রেমিক শক্তির এক প্ল্যাটফর্মে আসা সময়ের দাবি।
সুদভিত্তিক অর্থব্যবস্থা মানুষকে দাসে পরিণত করে, আর ইসলামি অর্থব্যবস্থা মানুষকে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সম্মান দান করে।
কুরআনের আইন মানলে কারো অধিকার খর্ব হয় না, বরং পাপিষ্ঠ ছাড়া সাধারণ মানুষের জীবনে শান্তি ও স্বস্তি ফিরে আসে।

সংগঠনের পক্ষ থেকে অর্পিত দায়িত্ব একটি পবিত্র আমানত। এই আমানতের খেয়ানত করা মুমিনের কাজ নয়; বরং সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে তা পালন করা কর্তব্য।
যুগের চাহিদা অনুযায়ী নিজেদের আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ করতে হবে। ইসলামি আদর্শকে বিজ্ঞানের যুক্তিতে উপস্থাপন করা বর্তমান প্রজন্মের কর্মীদের প্রধান কাজ।
আমরা পরনির্ভরশীল জাতি হিসেবে নয়, বরং একটি আত্মমর্যাদাশীল ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বের দরবারে দেখতে চাই।
দাওয়াতের কাজে ধৈর্য ও সহনশীলতা সবচেয়ে বড় অস্ত্র। গালির জবাবে গালি নয়, বরং সুন্দর আচরণের মাধ্যমে মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে।
একটি শক্তিশালী সমাজ গড়তে হলে সুস্থ পারিবারিক কাঠামো প্রয়োজন। মা-বোনদের ইসলামি শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং তাদের অধিকার নিশ্চিত করা আমাদের অগ্রাধিকার।
ইসলামের ইতিহাসে কোনো বিজয়ই ত্যাগের বিহীন আসেনি। তাই আন্দোলনের পথে জেল-জুলুম ও নির্যাতনকে মুমিন হাসিমুখে গ্রহণ করে।
ক্ষমতা আমাদের মূল লক্ষ্য নয়, আমাদের লক্ষ্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি। ক্ষমতা কেবল সেই সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম মাত্র।
আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই, যেখানে সংখ্যালঘু ও সংখ্যাগুরু সবাই সমান নাগরিক সুবিধা ভোগ করবে।
ইসলামি আন্দোলনের পথে বাধা আসবেই। এই বাধাগুলোই হলো ঈমানের কষ্টিপাথর। বাধা দেখে পিছু হটা মানে পরাজয় বরণ করা।
সমাজের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই হলো রাজনীতির আসল সার্থকতা। আমরা সেই সার্থকতার পথেই হাঁটতে চাই।
ইসলামি সংস্কৃতির বিকাশ ও প্রসারের মাধ্যমে অপসংস্কৃতির জোয়ার রুখে দিতে হবে। সুস্থ বিনোদন ও সৃজনশীলতা আমাদের আন্দোলনের অংশ।
বিগত দিনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে এবং আগামীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নতুন উদ্যমে এগিয়ে যাওয়াই হলো সজীব সংগঠনের বৈশিষ্ট্য।
এই ছিলো আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উক্তি। আশা করছি আপনাদের পছন্দ হয়েছে।

