সহবাসের নিয়ম নীতি

প্রথম মিলনের আগে সহবাসের নিয়ম নীতি জেনে রাখুন!

সহবাসের নিয়ম নীতি বলতে শারীরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে শালীনতা, দায়িত্ববোধ ও পারস্পরিক সম্মানকে বোঝায়। সহবাসের আগে উভয় পক্ষের সম্মতি, মানসিক প্রস্তুতি ও স্বাচ্ছন্দ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত, যাতে শারীরিক ক্ষতি বা রোগের ঝুঁকি না থাকে। একে অপরের অনুভূতি বোঝা, জোর বা চাপ না দেওয়া এবং গোপনীয়তা রক্ষা করা সম্পর্ককে সুন্দর করে। বৈবাহিক জীবনে সহবাস ভালোবাসা ও বন্ধন দৃঢ় করার মাধ্যম, তাই এতে দায়িত্বশীলতা ও নৈতিকতা বজায় রাখা জরুরি।

সহবাসের নিয়ম নীতি ৫টি 

ইসলামিক দৃষ্টিকোণ এবং স্বাস্থ্যবিজ্ঞান উভয় দিক বিবেচনা করে সহবাসের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি নিয়ম নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।

সহবাসের আগে পরিচ্ছন্নতা ও মানসিক প্রস্তুতি

ইসলামিক এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী সহবাসের পূর্বে স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই শারিরীকভাবে পরিচ্ছন্ন হওয়া অত্যন্ত জরুরি। দুর্গন্ধযুক্ত শরীর বা অপরিচ্ছন্ন পোশাক নিয়ে মিলন করা অনুচিত, কারণ এটি একে অপরের প্রতি বিতৃষ্ণা তৈরি করতে পারে। সুগন্ধি ব্যবহার করা এবং নিজেকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত।

মানসিক প্রস্তুতির ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো না করে একে অপরের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করা, চুম্বন ও আলিঙ্গনের মাধ্যমে একটি রোমান্টিক পরিবেশ তৈরি করা উচিত। একে বলা হয় ‘ফোরপ্লে’, যা স্ত্রীকে শারিরীক ও মানসিকভাবে মিলনের জন্য প্রস্তুত করে তোলে। এটি বাদ দিলে মিলন যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে এবং সম্পর্কের মাধুর্য নষ্ট হয়।

দোয়া পাঠ ও পবিত্রতা নিশ্চিত করা

যেকোনো ভালো কাজ শুরুর আগে মহান আল্লাহর নাম নেওয়া মুমিনের বৈশিষ্ট্য। সহবাস শুরুর আগে নির্দিষ্ট দোয়া পাঠ করা সুন্নাহ, যা সন্তানকে শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করে। দোয়াটি হলো: ‘বিসমিল্লাহি আল্লাহুম্মা জান্নিবনাশ শায়ত্বানা ওয়া জান্নিবিশ শায়ত্বানা মা রাযাক্বতানা’। এই দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও বরকত প্রার্থনা করা হয়।

কেবল জৈবিক চাহিদা মেটানোই উদ্দেশ্য হওয়া উচিত নয়, বরং এটি যেন একটি পবিত্র ইবাদত হিসেবে গণ্য হয় সেই নিয়ত রাখা জরুরি। আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করলে সম্পর্কে বরকত আসে এবং উভয়ের মনে প্রশান্তি ও পবিত্রতা বজায় থাকে।

পর্দা রক্ষা ও গোপনীয়তা বজায় রাখা

 সহবাসের সময় পূর্ণ উলঙ্গ হওয়া বা একদম খোলা পরিবেশে মিলন করা ইসলামে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। অন্তত একটি চাদর বা পোশাক দিয়ে নিজেদের আবৃত রাখা উচিত। এছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হলো স্বামী-স্ত্রীর গোপন মুহূর্তের কোনো কথা বা বর্ণনা কখনো অন্য কারো কাছে প্রকাশ করা যাবে না।

রাসুলুল্লাহ (সা.) একে অত্যন্ত জঘন্য কাজ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং যারা এমন গল্প করে বেড়ায় তাদের শয়তানের সাথে তুলনা করেছেন। দাম্পত্য জীবনের গোপনীয়তা রক্ষা করা ঈমানের অংশ এবং এটি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধকে অটুট রাখে।

নিষিদ্ধ সময় ও পদ্ধতি এড়িয়ে চলা

 সহবাসের ক্ষেত্রে কিছু কঠোর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে যা মানা বাধ্যতামূলক। স্ত্রীর মাসিক চলাকালীন (হায়য) এবং সন্তান প্রসব পরবর্তী রক্তস্রাবের (নিফাস) সময় মিলন করা ইসলামে সম্পূর্ণ হারাম এবং স্বাস্থ্যগতভাবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এছাড়া পায়ুপথে মিলন করা লুত (আ.)-এর কওমের কাজ হিসেবে গণ্য এবং এটি ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ বা লানতযোগ্য কাজ।

এছাড়া দিনে রোজা রাখা অবস্থায় সহবাস করা যাবে না। সুস্থ ও স্বাভাবিক পদ্ধতিতে মিলন করা উচিত যাতে কারো ক্ষতি না হয়। এই সীমাবদ্ধতাগুলো মেনে চলা কেবল ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং শারিরীক সুস্থতা বজায় রাখার জন্যও অপরিহার্য।

সহবাস পরবর্তী পবিত্রতা ও গোসল

 মিলন শেষ করার পরপরই অলসতা না করে দ্রুত পবিত্র হওয়ার চেষ্টা করা উত্তম। সহবাসের পর ফরজ গোসল না করে খাবার খাওয়া বা দীর্ঘক্ষণ অপবিত্র অবস্থায় থাকা অনুচিত। যদি সাথে সাথে গোসল করা সম্ভব না হয়, তবে অন্তত লজ্জাস্থান ধুয়ে অজু করে নেওয়া উচিত। এটি শরীরের ক্লান্তি দূর করে এবং অলসতা কমায়।

ফরজ গোসলের নিয়ম হলো প্রথমে দুই হাত ধোয়া, লজ্জাস্থান পরিষ্কার করা, অজু করা এবং সবশেষে সারা শরীরে পানি পৌঁছে দেওয়া যাতে এক চুল পরিমাণ জায়গাও শুকনো না থাকে। পূর্ণ পবিত্রতা অর্জন ছাড়া নামাজ বা কুরআন তিলাওয়াত করা জায়েজ নেই, তাই দ্রুত গোসল করা জরুরি।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *