স্বার্থপর আত্মীয় স্বজন নিয়ে উক্তি সাধারণত বাস্তব জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে আসে। আত্মীয়তা যেখানে বিশ্বাস আর সহানুভূতির হওয়ার কথা, সেখানে যখন স্বার্থ জড়িয়ে পড়ে, তখন কষ্টটা বেশি লাগে।
এসব উক্তিতে প্রয়োজনে কাছে থাকা আর সময় বদলালে দূরে সরে যাওয়ার সত্য প্রকাশ পায়। কথাগুলো সরাসরি হলেও বাস্তব। এগুলো মানুষকে আবেগের চেয়ে বাস্তবতা বুঝতে শেখায়। এমন উক্তি মনে করিয়ে দেয়, রক্তের সম্পর্কই সব নয়, আচরণ আর মনুষ্যত্বই আসল পরিচয়। এতে সতর্কতা আছে, আবার নিজেকে শক্ত রাখার বার্তাও থাকে।
স্বার্থপর আত্মীয় স্বজন নিয়ে উক্তি
রক্তের সম্পর্ক থাকলেই সবাই আত্মীয় হয় না, বিপদের সময় যে পাশে থাকে সেই আসল আপন। স্বার্থপর আত্মীয়রা শুধু সুসময়ের অতিথি।
কিছু আত্মীয় অনেকটা আগাছার মতো। তারা আপনার বাগানে থাকবে ঠিকই, কিন্তু সুযোগ পেলেই আপনার সবটুকু রস শুষে নিয়ে আপনাকে মেরে ফেলবে।
স্বার্থপর আত্মীয়দের চেনার সবচেয়ে ভালো সময় হলো যখন আপনার পকেট খালি থাকে। তখন তাদের আর দূরবীন দিয়েও খুঁজে পাওয়া যায় না।
নিজের স্বার্থ হাসিল করার জন্য যারা রক্তের সম্পর্ককে ব্যবহার করে, তারা আসলে মানুষ হিসেবে চরম নিচু মানসিকতার পরিচয় দেয়।
আপনি তাদের জন্য জীবন দিয়ে দিলেও তারা মনে রাখবে না, কিন্তু একবার না করতে পারলেই আপনি তাদের চোখে আজীবনের শত্রু হয়ে যাবেন।
কিছু আত্মীয় শুধু আপনার খুত বের করার জন্য বেঁচে থাকে। আপনি সফল হলে তারা ঈর্ষায় জ্বলে, আর ব্যর্থ হলে তারা আড়ালে হাসাহাসি করে।
স্বার্থপর আত্মীয়রা সবসময় আপনার ব্যক্তিগত বিষয়ে নাক গলাবে, কিন্তু আপনার প্রয়োজনে এক পা-ও এগোবে না। এরা আসলে বিষাক্ত বন্ধু।
বংশের দোহাই দিয়ে যারা আপনাকে ছোট করার চেষ্টা করে, তাদের থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই হলো নিজের আত্মসম্মান বাঁচানোর সেরা উপায়।
রক্তের টান বলে চিৎকার করা মানুষগুলোই মাঝেমধ্যে পিঠে ছুরি মারে। স্বার্থের টানে এরা নিজেদের নীতি আর নৈতিকতা বিসর্জন দিতে দ্বিধা করে না।
আত্মীয়তার মুখোশ পরে যারা আপনার ক্ষতি করতে চায়, তারা বাইরের শত্রুর চেয়েও অনেক বেশি বিপজ্জনক। এদের থেকে সাবধান থাকা জরুরি।
কিছু আত্মীয় আপনার উন্নতিতে অভিনন্দন জানাবে ঠিকই, কিন্তু তাদের চোখের কোণায় তাকালে আপনি স্পষ্ট হিংসার ছায়া দেখতে পাবেন।
স্বার্থপর আত্মীয়দের সাথে থাকা মানে হলো নিজের শান্তি বিসর্জন দেওয়া। এরা আপনার ছোট সাফল্যকেও ছোট করে দেখানোর চেষ্টায় ব্যস্ত থাকে।
সম্পর্কের খাতিরে অনেক সময় আমরা মুখ বুজে সহ্য করি, কিন্তু স্বার্থপর আত্মীয়রা একে আমাদের দুর্বলতা ভেবে সুযোগ নিতে শুরু করে।
যারা শুধু নিজের পরিবারের সুবিধা বোঝে কিন্তু অন্যের বিপদ দেখেও না দেখার ভান করে, তাদের সাথে আত্মীয়তা রাখা নিরর্থক।
রক্তের সম্পর্ক কোনো অধিকার নয়, বরং এটি একটি দায়িত্ব। যারা এই দায়িত্ব পালন করতে জানে না, তাদের আত্মীয় বলে পরিচয় দেওয়া বৃথা।
স্বার্থপর আত্মীয়রা অনেকটা মরীচিকার মতো। দূর থেকে মনে হয় তারা আছে, কিন্তু কাছে গেলে বোঝা যায় তাদের ভেতরটা কতটা শূন্য।

কিছু আত্মীয়ের কাজই হলো আপনার সংসারে অশান্তি লাগানো। এরা মুখে মধু আর অন্তরে বিষ নিয়ে আপনার ড্রয়িংরুমে বসে আড্ডা দেয়।
আত্মীয়রা যদি আপনার কষ্টের কারণ হয়, তবে সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা কোনো অন্যায় নয়। নিজের শান্তি সবার আগে।
স্বার্থপর আত্মীয়দের সাথে তর্ক করে নিজেকে ছোট করবেন না। তাদের নিচু মানসিকতাকে তুচ্ছ করে নিজের পথে এগিয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
আপনি তাদের কতটা সাহায্য করেছেন সেটা তারা ভুলে যাবে, কিন্তু আপনি তাদের থেকে কী সুবিধা পাননি সেটা তারা সারাজীবন গেয়ে বেড়াবে।
রক্তের সম্পর্ক কখনো মিথ্যা হয় না, কিন্তু রক্তের সম্পর্কের মানুষগুলো স্বার্থের প্রয়োজনে চরম মিথ্যা আর অভিনয় করতে পারে।
কিছু আত্মীয় শুধু আপনার সম্পত্তির হিসাব রাখতে পছন্দ করে, আপনার শরীরের স্বাস্থ্যের খবর নেওয়ার প্রয়োজন তারা মনে করে না।
স্বার্থপর আত্মীয়দের কাছে ক্ষমা আর কৃতজ্ঞতা আশা করা বোকামি। তাদের জীবন দর্শন শুধুই ‘আমি’ আর ‘আমার’ কেন্দ্রিক।
সম্পর্কের মায়া কাটিয়ে স্বার্থপর আত্মীয়দের থেকে দূরে থাকা শিখুন। কারণ এরা আপনার ডালপালা ছেঁটে আপনাকে বামন করে রাখতে চায়।
যারা আপনার বিপদে আড়ালে আনন্দ পায়, তারা আপনার কোনোভাবেই আপন হতে পারে না। এদের রক্ত এক হলেও হৃদয় ভিন্ন।
স্বার্থপর আত্মীয়রা সবসময় আপনাকে দোষী প্রমাণের চেষ্টা করবে যাতে তারা নিজেদের অন্যায়গুলো আড়াল করতে পারে।
আপনার মুখের ওপর মিষ্টি কথা বলে আর আপনার অগোচরে বিষ ছড়ায়—এমন আত্মীয়ের চেয়ে পথের অপরিচিত মানুষও অনেক ভালো।
জীবনের কঠিন সময়েই বোঝা যায় কোন আত্মীয়রা শুধু নামেই আছে আর কারা সত্যিই বিপদের সাথী হয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে।
রক্তের সম্পর্ক থাকলেই যে কেউ আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী হবে, এই ভুল ধারণা যত দ্রুত ভাঙবে ততই আপনার জন্য মঙ্গল।
কিছু আত্মীয় শুধু উৎসবের দিনগুলোতে উপস্থিত হয় সুবিধা নেওয়ার জন্য, আর বিপদের দিনগুলোতে তারা অনেক ব্যস্ততার নাটক করে।
স্বার্থপর আত্মীয়দের সান্নিধ্য বিষের মতো। এরা তিলে তিলে আপনার আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দেবে এবং আপনাকে হীনম্মন্যতায় ভোগাবে।
আত্মীয়তার দোহাই দিয়ে যারা আপনার স্বাধীনতা কেড়ে নিতে চায়, তাদের সাথে আপস করা মানে নিজের ব্যক্তিসত্তাকে বিসর্জন দেওয়া।
স্বার্থপর মানুষের কোনো ধর্ম নেই, কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের একমাত্র উপাস্য হলো তাদের নিজস্ব ব্যক্তিগত লাভ আর সুবিধা।
যারা আপনার সফলতার ভাগ নিতে আসে কিন্তু আপনার কষ্টের বোঝা বইতে নারাজ, তারা আসলে পরগাছা ছাড়া আর কিছুই নয়।
কিছু আত্মীয় আপনার ঘরে এসে আপনার হাঁড়ির খবর নেবে শুধু অন্যদের কাছে গল্প করার রসদ হিসেবে। এদের থেকে সতর্ক থাকুন।
রক্তের সম্পর্ক থাকার পরও যারা আপনার সাথে প্রতিযোগীতা করে আর আপনার ক্ষতি চায়, তাদের ত্যাগ করাটাই সবচেয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত।
স্বার্থপর আত্মীয়রা আয়নার মতো; তারা শুধু নিজেদের স্বার্থের প্রতিফলন দেখতে চায়। আপনার ত্যাগ তাদের কাছে মূল্যহীন।
অন্যের সমালোচনা করা যাদের মজ্জাগত স্বভাব, এমন আত্মীয়দের সাথে ঘনিষ্ঠতা রাখা আপনার ব্যক্তিগত ইমেজের জন্য ক্ষতিকর।
আত্মীয় হিসেবে তারা আপনাকে কতটা ভালোবাসে সেটা বড় কথা নয়, বড় কথা হলো বিপদের দিনে তারা আপনাকে কতটা মনে রাখে।
স্বার্থপর আত্মীয়রা সবসময় নিজেকে অসহায় প্রমাণের নাটক করে আপনার থেকে সুবিধা আদায় করবে, কিন্তু দেওয়ার বেলায় তারা উধাও।
যারা আপনার আবেগ নিয়ে খেলে এবং রক্তের দোহাই দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করে, তারা আসলে মানসিকভাবে অসুস্থ আর স্বার্থপর।
আত্মীয়তার বন্ধন টিকিয়ে রাখার দায়িত্ব শুধু একজনের নয়। আপনি একা চেষ্টা করে কোনোদিন স্বার্থপর আত্মীয়কে পাল্টাতে পারবেন না।
কিছু মানুষ জন্মগতভাবেই স্বার্থপর। তারা আপনার ভাই, বোন বা আত্মীয় যাই হোক না কেন, তাদের স্বভাব কোনোদিন বদলাবে না।
স্বার্থপর আত্মীয়দের উপেক্ষা করা শিখুন। আপনার নিরবতাই হবে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি এবং আপনার জন্য সবচেয়ে বড় জয়।
রক্তের সম্পর্কের ওপর যখন স্বার্থের কালো ছায়া পড়ে, তখন সেই সম্পর্ক তিক্ততায় ভরে যায়। সেখানে আর ভালোবাসা অবশিষ্ট থাকে না।
কিছু আত্মীয় আপনার জীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলবে শুধু তাদের অহংকার আর স্বার্থপরতার কারণে। এদের সঙ্গ ত্যাগ করাই হলো মুক্তি।

