সহজে পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায় আছে। গরম পানির বোতল বা হিটিং প্যাড পেটের নিচে দিলে পেশি শিথিল হয় এবং ব্যথা কমে। হালকা গরম পানিতে গোসল করলেও আরাম পাওয়া যায়। এই সময় অতিরিক্ত কফি বা ঠান্ডা পানীয় এড়িয়ে চলা ভালো। হালকা ব্যায়াম, হাঁটা বা স্ট্রেচিং রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব জরুরি। ঘুম ও বিশ্রামও ব্যথা কমাতে ভূমিকা রাখে। কারও কারও ক্ষেত্রে আদা বা তুলসি চা উপকারী হয়। ব্যথা বেশি হলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায়
পিরিয়ডের ব্যথা বা ডিসমেনোরিয়া বেশিরভাগ নারীর জন্য প্রতি মাসের একটি কষ্টকর অভিজ্ঞতা। কারো জন্য এটি সামান্য অস্বস্তি, আবার কারো জন্য এটি দৈনন্দিন কাজ থামিয়ে দেওয়ার মতো তীব্র হতে পারে। এই ব্যথা কমানোর জন্য সব সময় ওষুধের ওপর নির্ভর না করে কিছু প্রাকৃতিক পদ্ধতি এবং জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা বেশ কার্যকর হতে পারে।
১. গরম সেঁক
পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর সবচেয়ে পুরনো এবং কার্যকর পদ্ধতি হলো গরম সেঁক দেওয়া। তলপেটে গরম পানির ব্যাগ বা হট ওয়াটার বোতল রাখলে জরায়ুর পেশিগুলো শিথিল হয়। এটি রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং পেশির সংকোচনজনিত ব্যথা দ্রুত কমিয়ে দেয়। এমনকি গবেষণায় দেখা গেছে, গরম সেঁক অনেক সময় ব্যথানাশক ওষুধের মতোই কাজ করে।
২. সঠিক খাবার নির্বাচন
পিরিয়ডের সময় আপনার খাদ্যতালিকায় কিছুটা পরিবর্তন আনলে ব্যথার তীব্রতা কমে আসতে পারে।
-
ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার: কলা, বাদাম এবং সবুজ শাকসবজিতে প্রচুর ম্যাগনেসিয়াম থাকে যা পেশি শিথিল করতে সাহায্য করে।
-
ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড: সামুদ্রিক মাছ বা তিসির বীজে ওমেগা-৩ থাকে, যা শরীরের প্রদাহ (Inflammation) কমায়।
-
অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট: জাম, বেরি জাতীয় ফল বা টমেটো পিরিয়ডের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক।
-
যা এড়িয়ে চলবেন: অতিরিক্ত লবণ, ক্যাফেইন (চা-কফি) এবং চিনি এই সময় এড়িয়ে চলাই ভালো। লবণ শরীরে পানি জমিয়ে রাখে, যা পেট ফাঁপা বা ব্লটিংয়ের সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।
৩. ভেষজ চা
প্রাকৃতিক কিছু পানীয় পিরিয়ডের ব্যথায় জাদুর মতো কাজ করে।
-
আদা চা: আদায় থাকা অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিন হরমোনের মাত্রা কমায়, যা ব্যথার প্রধান কারণ।
-
দারুচিনি চা: এটি রক্তপাত কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং বমি বমি ভাব বা ব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
-
ক্যামোমাইল চা: এটি স্নায়ু শান্ত করে এবং জরায়ুর খিঁচুনি কমায়।
৪. হালকা ব্যায়াম ও যোগব্যায়াম
ব্যথা থাকলে নড়াচড়া করতে ইচ্ছা করে না, কিন্তু হালকা হাঁটাহাঁটি বা স্ট্রেচিং করলে শরীরে এন্ডোরফিন (Endorphin) নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। একে শরীরের ‘প্রাকৃতিক পেইনকিলার’ বলা হয়। যোগব্যায়ামের কিছু নির্দিষ্ট আসন যেমন—ধনুরাসন বা ভুজঙ্গাসন পিরিয়ডের ব্যথায় আরাম দেয়। তবে খুব ভারী ব্যায়াম এ সময় না করাই ভালো।
৫. হাইড্রেটেড থাকা
প্রচুর পরিমাণে পানি পান করা পিরিয়ডের সময় অত্যন্ত জরুরি। শরীরে পানির অভাব হলে পেশিতে টান পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় এবং পেট ফাঁপা লাগে। দিনে অন্তত ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন। কুসুম গরম পানি পান করলে রক্ত সঞ্চালন ভালো থাকে।
৬. এসেনশিয়াল অয়েল ম্যাসাজ
ল্যাভেন্ডার বা ক্লারি সেজ অয়েলের মতো এসেনশিয়াল অয়েল দিয়ে তলপেটে হালকা হাতে ম্যাসাজ করলে ব্যথা অনেকটা কমে যায়। ম্যাসাজ করার সময় চক্রাকারে হাত ঘুরালে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং পেশি শান্ত হয়।
৭. পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও ঘুম
শরীরে ক্লান্তি থাকলে ব্যথার অনুভূতি বেশি হয়। পিরিয়ডের দিনগুলোতে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করা খুব জরুরি। শোয়ার সময় একপাশে কাত হয়ে হাঁটু কিছুটা পেটের দিকে ভাজ করে (Fetal Position) শুলে তলপেটের পেশিতে চাপ কম পড়ে, যা আরামদায়ক হতে পারে।
পিরিয়ডের ব্যথা কমানোর উপায় ঔষধের নাম
পিরিয়ড কোনো রোগ নয়, বরং শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এই সময় নিজের শরীরের প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়া এবং হাসিখুশি থাকা জরুরি। নিয়মিত সুষম খাবার খাওয়া এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকলে দীর্ঘমেয়াদে পিরিয়ডের ব্যথার সমস্যা কমে আসে। যদি বেশি ব্যথা হয় তাহলে নিচের ঔষধগুলো খেতে পারেন-
Rolac 10mg (Ketorolac)
Algin (tymonium mithayl sulphate)
এই দুইটি ঔষধ ২ বেলা খাবেন, আশা করছি আপনার ব্যথা ভালো হয়ে যাবে। যদি এতেও ভালো না হয় তাহলে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিন।

