আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে উপন্যাস PDF download করতে চাইলে আমাদের এই খান থেকে করতে পারেন। আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে একটি আবেগপ্রবণ ও হৃদয়ছোঁয়া উপন্যাস, যেখানে ভালোবাসা, ত্যাগ, বিশ্বাস আর অপেক্ষার গল্প গভীরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এই উপন্যাসের মূল শক্তি এর অনুভূতির গভীরতা। গল্পটি কেবল প্রেমের নয়, বরং জীবনের বাস্তবতার সঙ্গে প্রেম কীভাবে লড়াই করে এবং টিকে থাকে, তারই প্রতিফলন।
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে উপন্যাস PDF
উপন্যাসে ভালোবাসা খুব সহজ বা রূপকথার মতো নয়। এখানে প্রেমের সঙ্গে আছে কষ্ট, ভুল বোঝাবুঝি, দূরত্ব এবং সময়ের নিষ্ঠুরতা। চরিত্রগুলো বাস্তব, তাদের অনুভূতি স্বাভাবিক এবং সিদ্ধান্তগুলো জীবনের মতোই জটিল। তাই পাঠক সহজেই গল্পের সঙ্গে নিজেকে মিলিয়ে নিতে পারে।
এই উপন্যাসে প্রেম মানে শুধু কাছে পাওয়া নয়, বরং প্রিয় মানুষটির জন্য অপেক্ষা করা, তাকে বুঝতে চেষ্টা করা এবং প্রয়োজনে নিজের চাওয়াকে পিছনে সরিয়ে রাখা। লেখক দেখিয়েছেন, ভালোবাসা কখনো নীরব হয়, কখনো অসম্পূর্ণ, তবু তা গভীর এবং স্থায়ী।
লেখার ভাষা সহজ, সরল এবং আবেগপূর্ণ। অপ্রয়োজনীয় নাটকীয়তা নেই, কিন্তু অনুভূতির ভার খুব শক্তিশালী। সংলাপগুলো হৃদয় থেকে উঠে আসা মনে হয়, যা পাঠকের মনে দাগ কাটে। অনেক জায়গায় গল্প থেমে গিয়ে ভাবতে বাধ্য করে, ভালোবাসা আসলে কী এবং আমরা কতটা দিতে পারি।
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে উপন্যাসটি মূলত তাদের জন্য, যারা নিঃশব্দ ভালোবাসা, অসমাপ্ত সম্পর্ক এবং গভীর আবেগের গল্প পছন্দ করেন। এটি এমন একটি গল্প, যা পড়ে শেষ হলেও অনুভূতিগুলো দীর্ঘদিন মনে থেকে যায়। ভালোবাসা যে সময়, দূরত্ব কিংবা পরিণতির ওপর নির্ভর করে না, এই উপন্যাস সেটাই শান্তভাবে মনে করিয়ে দেয়।
আমৃত্যু ভালোবাসি তোকে উপন্যাস PDF Download
৭ বছর পর বাড়ি ফিরছে খান বংশের বড় ছেলে সাজ্জাদুল_খান_আবির । বাড়ি ফিরছে বললে ভুল হবে বিদেশ থেকে দেশে ফিরছে আবির। এই ৭ বছরে খান বাড়িতে ঘটে গেছে অনেক ঘটনা যার সাথে স্ব শরীরে যুক্ত নেই আবির, তবে আত্মিকভাবে প্রতিটা ঘটনায় জরিয়ে আছে সে৷
আবিরের বাবা চাচা তিনজন, আবিরের বাবা সবার বড় নাম,’আলী আহমদ খান’
তানভীরের বাবা মেজো নাম, ‘মোজাম্মেল খান’
ছোট চাচ্চুর নাম ‘ ইকবাল খান’
আবির তার বাবা মায়ের একমাত্র ছেলে৷
মেজো চাচা মানে মোজাম্মেল খানের এক ছেলে এক মেয়ে। ছেলের নাম তানভির_খান। মেয়ের নাম মাহদিবা_খান_মেঘ
ছোট চাচার এক মেয়ে এক ছেলে মীম আর আদি। এখনো তারা এলাকার যৌথ পরিবারগুলোর মধ্যে শ্রেষ্ঠ। বাড়ির সকলের প্রাণ যেনো এক সুতোয় বাঁধা ।
৫ ভাইবোনের মধ্যে আবির সকলের চোখের মনি। আবিরের জন্মের পর তার বাবা মা দ্বিতীয় সন্তান নেওয়ায় চিন্তায় করেন নি। HSC পর্যন্ত সে বাড়িতেই ছিল সবার নয়নের মনি৷ আবিরের চাঞ্চল্যে মেতে থাকতো খান বাড়ি৷ আচমকা যেনো পরিবেশটা পাল্টে গিয়েছিল। ১৮ বছর বয়সে আবিরের হঠাৎ করে স্কলারশিপে বিদেশে পড়তে যাওয়া, বাড়ির সকলের সাথে শারীরিক ভাবে যেমন দূরত্ব বেড়েছিল৷ তেমনি দূরত্ব বেড়েছে মানসিকতার৷
৭ বছর পূর্বের আবিরের সাথে বর্তমান আবিরের আকাশ পাতাল পার্থক্য। দেখেও যেনো চেনার উপায় নেই। ৬ ফুট লম্বা ছেলেটা গায়ের রঙ শ্যামলা, গাল ভর্তি ছাপ দাঁড়ি, চুলের স্টাইল কোনো নায়কের থেকে কম না তার ফ্যাশন আর লুকে যেকোনো মেয়ে এক দেখাতেই প্রেমে পরতে বাধ্য৷
প্লেনে বসে আবির অবলীলায় ভেবে যাচ্ছে অতীতে ফেলে আসা স্মৃতি গুলো।
সেই চাঞ্চল্যকর মুহুর্তগুলো এখন শুধুই স্মৃতির পাতায়। মা কে রেখে এসেছিল সেই যৌবনের প্রথম দিকে যখন তার বয়স ছিল ১৮ ৷ সেই সময়ে মা ই ছিল তার একমাত্র বন্ধু৷ আজ সে ২৪ বছরের যুবক। এতগুলো বছরের একটা দিনও বাদ যায় নি যে মায়ের সাথে ফোনে কথা বলে নি সে। বাড়ির সকলের সাথেই মোটামুটি কথা বলার চেষ্টা করেছে৷ ছোটবেলার স্মৃতি গুলো ভাবতে ভাবতে নিজের দেশে পৌছে গিয়েছে আবির৷
এয়ারপোর্টে আবিরের বাবা ‘আলী আহমদ খান’ আর তানভীর দাঁড়িয়ে আছে। তানভীর সম্পর্কে তার চাচাতো ভাই আর বয়সে ২ বছরের ছোট কিন্তু দুজন দুজনের বেস্ট ফ্রেন্ড আর কলিজার বন্ধু । তানভীর আবিরকে দেখেই দৌড়ে এসে জরিয়ে ধরলো। এই ৭ বছরে একবারের জন্য ও বাড়ি ফেরেনি আবির। তবে প্রতিনিয়ত কথা হয় আবির তানভীরের।
আবির তার আব্বুকে সালাম করে জরিয়ে ধরে। তারপর বাড়ি ফিরে তিনজন। বাড়িতে যেনো হৈহৈ রৈরৈ ব্যাপার । হবে নাই বা কেন
বাড়ির বড় ছেলে এত বছর পর বাড়ি ফিরছে। রান্নাঘরে বাহারি রকমের রান্নার ধুম পরেছেন মা চাচিদের। হঠাৎ দরজায় আবিরকে দেখে সবার মধ্যে হৈচৈ শুরু হয়ে গেছে। আবিরের আম্মু দৌড়ে এসে জরিয়ে ধরলেন ছেলেকে। আবেগাপ্লুত হয়ে মাকে জরিয়ে ধরলো আবির।
মমতাময়ী মাকে সেই ৭ বছর আগে ছুঁয়েছিল আজ এত বছর পর মায়ের ছোঁয়া পেলো আবির। মা চাচিদের সালাম করলো। সোফায় বসিয়ে ছেলেকে একের পর এক শরবত নাস্তা দিতে ব্যস্ত সবাই। এরিমধ্যে উদয় হলো মীম আর আদির৷ মিমের বয়স ১৪ বছর। তার ছোটভাই আদির বয়স মাত্র ১০ বছর। আদিই এই বাড়ির সবচেয়ে ছোট । আবির যখন দেশ ছেড়ে ছিল তখন আদির ৩ বছর হয়েছে মাত্র৷ ভিডিও কলে দেখতে দেখতে ভাইকে সে একটু একটু চিনে৷ দৌড়ে এসে জরিয়ে ধরেছে ভাই কে। আবিরও জরিয়ে ধরেছে আদিকে। মীম ও আবিরের পাশে বসেছে৷ খোঁশগল্প করছে সবাই মিলে৷
আদি জিজ্ঞেস করছে
‘ভাইয়া, আমার জন্য কি এনেছো? ‘
আবির যেইনা উঠতে যাবে মা চাচিরা উঠতে দিচ্ছে না। আগে শরবত খাবি তারপর উঠবি। আবির তানভিরের দিকে তাকিয়ে বললো
‘ঐ লাগেজ টা নিয়ে আয় তো ‘
তানভির একটা লাগেজ টান দিতে যাবে আবির আচমকা বসা থেকে দাঁড়িয়ে
‘ঐটা তে ছুঁবি না ‘
তানভির সহ বাড়ির সকলেই যেনো অবাক হয়ে গেলো।
আবির আবার ঠান্ডা মাথায় বললো পাশের লাগেজ টা নিয়ে আয়….
তানভিরও তার কথা মতো লাগেজ নিয়ে আসলো৷ লাগেজ খুলে যে যার মতো জিনিস বের করছে আর জিজ্ঞেস করছে এটা কার,ঐটা কার। আবির শরবত খেতে খেতে উত্তর করছে।
আদির জন্য বিদেশি দামি দামি খেলনা, মীমের জন্য ড্রেস,কসমেটিকস বক্স, মা কাকিদের জন্য অনেক গিফট। তানভীরের জন্য মোবাইল, একটা ল্যাপটপ অন্যান্য গিফট৷ আলাদা আরেকটা ল্যাপটপ আছে।
মীম জিজ্ঞেস করছে, ‘ভাইয়া এই ল্যাপটপ টা কি তোমার? ‘
আবির উত্তর দেয়, ‘না এটা মেঘের’
মেঘের মা ‘ হালিমা খান’ জিজ্ঞেস করলেন মেঘের ল্যাপটপ কি দরকার বাবা?

