ঠান্ডা জ্বর হলে করণীয় ও প্রতিকার করবেন যেভাবে

ঠান্ডা জ্বর হলে করণীয় প্রথম কাজ হলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া। শরীরকে আরাম দিলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালোভাবে কাজ করতে পারে। হালকা গরম খাবার, স্যুপ আর প্রচুর তরল পান করা দরকার, যেন শরীর পানিশূন্য না হয়। ঠান্ডা এড়িয়ে চলা এবং গরম কাপড় পরা জরুরি। কুসুম গরম পানিতে গোসল বা গার্গল করলে গলা আর শরীর কিছুটা স্বস্তি পায়। জ্বর বেশি হলে বা কয়েক দিন না কমলে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ঠান্ডা জ্বর হলে করণীয়

ঋতু পরিবর্তনের সময় বা অতিরিক্ত গরমে হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজলে আমাদের দেশে ঠান্ডা-জ্বর হওয়া খুব সাধারণ বিষয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সাধারণ ভাইরাল ফিভার হলেও সঠিক যত্ন না নিলে তা বেশ কয়েকদিন আপনাকে কষ্ট দিতে পারে। ঠান্ডা-জ্বর হলে শরীর দ্রুত সেরে তোলার জন্য কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি।

নিচে ঠান্ডা-জ্বর হলে করণীয় বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন

শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা যখন ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে, তখন শরীর খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই সময় জোর করে কাজ না করে শরীরকে পূর্ণ বিশ্রাম দেওয়া উচিত। দিনে অন্তত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরকে দ্রুত পুনর্গঠিত হতে সাহায্য করে।

শরীর হাইড্রেটেড রাখা

জ্বরের সময় শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, যার ফলে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে অনেকটা পানি বেরিয়ে যায়। তাই ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা রোধে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন। পানির পাশাপাশি ফলের রস, ডাবের পানি বা পাতলা স্যুপ খেতে পারেন। কুসুম গরম পানি পান করলে গলায় আরাম পাওয়া যায় এবং কফ পাতলা হয়।

পুষ্টিকর ও তরল খাবার

ঠান্ডা-জ্বরের সময় মুখে রুচি থাকে না, তাই একবারে বেশি না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার পুষ্টিকর খাবার খান। ভিটামিন-সি যুক্ত ফল যেমন কমলা, লেবু বা মাল্টা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। আদা ও লবঙ্গ দিয়ে বানানো লাল চা বা গরম স্যুপ এই সময়ে বেশ কার্যকর।

See More  খুব সহজেই দ্রুত 2 থেকে 3 ইঞ্চি লম্বা হওয়ার উপায় 2026

ঘরোয়া টোটকা

গলা ব্যথা বা খুসখুসে কাশি থাকলে হালকা গরম পানিতে লবণ দিয়ে দিনে ২-৩ বার গার্গল করুন। এছাড়া আদা, তুলসি পাতা ও মধু মিশিয়ে খেলে ঠান্ডা ও কাশির তীব্রতা কমে। রাতে শোয়ার আগে এক গ্লাস গরম দুধের সাথে সামান্য হলুদ মিশিয়ে খেতে পারেন, যা অ্যান্টিসেপটিক হিসেবে কাজ করে।

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ

জ্বর বেশি হলে কপালে জলপট্টি দিন এবং সারা শরীর ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে ফেলুন (স্পঞ্জিং)। খেয়াল রাখবেন পানি যেন খুব বেশি ঠান্ডা না হয়, সাধারণ তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করাই ভালো। এর ফলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে আসে।

কখন ডাক্তারের পরামর্শ নেবেন?

সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ভাইরাল জ্বর সেরে যায়। তবে কিছু লক্ষণ দেখা দিলে দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত:

  • যদি জ্বর ১০৩ ডিগ্রি ফারেনহাইটের উপরে উঠে যায়।

  • টানা তিন দিনের বেশি উচ্চ তাপমাত্রা থাকলে।

  • শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা অনুভূত হলে।

  • অতিরিক্ত বমি বা তীব্র মাথাব্যথা থাকলে।

  • গলায় প্রচণ্ড ব্যথার কারণে খাবার গিলতে অসুবিধা হলে।

মনে রাখার মতো কিছু সতর্কতা

  • অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে সতর্কতা: মনে রাখবেন, সাধারণ ভাইরাস জ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক কোনো কাজ করে না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে কোনো অ্যান্টিবায়োটিক শুরু করবেন না।

  • পরিচ্ছন্নতা: হাঁচি বা কাশির সময় রুমাল ব্যবহার করুন এবং নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন যেন আপনার থেকে পরিবারের অন্য কেউ আক্রান্ত না হয়।

  • গোসল: জ্বর খুব বেশি থাকলে গোসল না করে শরীর মুছে নিন। তবে জ্বর কমে গেলে কুসুম গরম পানিতে দ্রুত গোসল সেরে নেওয়া যেতে পারে।

সঠিক সময়ে সচেতনতা এবং একটু বাড়তি যত্ন নিলে ঘরে বসেই সাধারণ ঠান্ডা-জ্বর থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *