বাচ্চাদের কাশির সিরাপ কোনটা ভালো এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে প্রথমে দেখতে হবে কাশিটা কেমন। কাশি মূলত দুই রকমের হয় শুকনা কাশি এবং কফ যুক্ত কাশি। এই দুটি জিনিসের উপর ভিত্তি করে অনেক সময় কাশির সিরাপ দেওয়া হয়। তবে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ প্রথমে শিশুর কন্ডিশন দেখে তার পর ঔষধ দিয়ে থাকেন তাই ভালো হয় শিশুকে একজন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখান।
বাচ্চাদের কাশির সিরাপ কোনটা ভালো?
বাচ্চাদের কাশির সঠিক কারণ নির্ণয় করা জরুরি (যেমন, সাধারণ ঠান্ডা, অ্যালার্জি, বা অন্য কোনো সংক্রমণ)। ডাক্তারই সবচেয়ে উপযুক্ত সিরাপটি নির্ধারণ করতে পারেন।
৬ বছরের নিচের বাচ্চাদের জন্য সিরাপ: আমেরিকান একাডেমি অফ পেডিয়াট্রিক্স (AAP) সাধারণত ৪ বছরের নিচে এবং অনেক ক্ষেত্রে ৬ বছরের নিচের শিশুদের জন্য ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) কাশির ওষুধ ব্যবহারের বিরুদ্ধে পরামর্শ দেয়। এসব ওষুধ সাধারণত কার্যকর নয় এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
-
মধু: ১ বছরের বেশি বয়সী বাচ্চাদের জন্য মধু খুবই কার্যকর। এটি গলা নরম করে এবং কাশি কমাতে সাহায্য করে।
-
লবণ-জল গার্গল: বড় বাচ্চারা গলা ব্যথা বা কাশির জন্য হালকা গরম লবণ-জল দিয়ে গার্গল করতে পারে।
-
পর্যাপ্ত তরল: বাচ্চাকে প্রচুর পরিমাণে জল বা অন্যান্য উষ্ণ তরল পান করতে দিন।
-
বাষ্প/হিউমিডিফায়ার: বাষ্প বা কুল-মিস্ট হিউমিডিফায়ার ব্যবহার করলে নাক ও গলার জমাট কফ আলগা হয় এবং শুষ্ক কাশি কমতে পারে।
বাচ্চাদের কাশির ভালো সিরাপ

১. এম্ব্রক্স
যেসব উপসর্গে নির্দেশিত-
- শ্লেষ্মাযুক্ত কাশি
- শ্লেষ্মাযুক্ত শ্বাসতন্ত্রের একিউট ও ক্রনিক প্রদাহ যেমন একিউট ও ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস
- শ্লেষ্মাযুক্ত রাইনোফেরিঞ্জিয়াল ট্রাক্ট এর প্রদাহ (ল্যারিজাইটিস, ফ্যারিন্জাইটিস, সাইনুসাইটিস এবং রাইনাইটিস)
- শ্লেষ্মাযুক্ত এ্যাজমাটিক ব্রঙ্কাইটিস, ব্রঙ্কিয়াল এ্যাজমা
- ব্ৰঙ্কিয়েকটেসিস
- ক্রনিক নিউমোনিয়া
দৈনিক সেবন মাত্রা (খাবার পর গ্রহণ করা উত্তম):
পেডিয়াট্রিক ড্রপস:
- ০-৬ মাস: ০.৫ মিলি ২ বার
- ৬-১২ মাস: দিনে ১ মিলি ২ বার
- ১-২ বছর: দিনে ১.২৫ মিলি ২ বার
সিরাপ:
- ২-৫ বছর: ২.৫ মিলি (১/২ চা চামচ) দিনে ২-৩ বার
- ৫-১০ বছর: ৫ মিলি (১ চা চামচ) দিনে ২-৩ বার
- ১০ বছর এবং প্রাপ্তবয়স্করা: ১০ মিলি (২ চা চামচ) দিনে ৩ বার।
সাস্টেইন্ড রিলিজ ক্যাপসুল: প্রাপ্ত বয়স্ক এবং ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশু: ১ ক্যাপসুল প্রতিদিন একবার।

