প্রমিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রতি বছর কিছু কিছু পরিবর্তন করা হয় যার ফলে অনেক শিক্ষার্থী কিছুটা বিরম্বনায় পরে যায়। আজকে আমরা এখানে ১০টি নিয়ম দিয়েছি এখান থেকে যেকোনো পরীক্ষায় নিশ্চিত কম পাবেন। এসএসসি বা এইচএসসি পরীক্ষায় সবসময় প্রশ্ন এসে তাহকে প্রমিত বাংলা বানানের ৫টি নিয়ম লেখ, এখানে আমরা ১০টি নিয়ম দিয়েছি তাই এখান থেকে পড়লে সহজেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া সম্ভব।
এইচএসসি বাংলা বানানের নিয়ম
(১) ভাষা ও জাতিবাচক শব্দের শেষে ‘ই’ কার ব্যবহৃত হবে। যেমন : বাঙালি, ইরানি, ইংরেজি, ফারসি ইত্যাদি।
(২) প্রাণিবাচক অ-তৎসম শব্দে ‘ই’-কার হবে। যেমন : হাতি, তিমি, চিংড়ি, মুরগি ইত্যাদি।
(৩) স্ত্রীবাচক অ-তৎসম শব্দে ‘ই’ কার হবে। যেমন : মাসি, পিসি, দিদি, বিবি ইত্যাদি।
(৪) ‘ইন’ বা ‘ঈ’ প্রত্যয়ের শেষে বর্ণ বা শব্দ যুক্ত হলে ‘ঈ’ কারের বদলে ‘ই’ কার ব্যবহৃত হবে।
যেমন : প্রতিযোগী+তা > প্রতিযোগিতা, প্রতিদ্বন্দ্বী+তা > প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সহযোগী+তা > সহযোগিতা ইত্যাদি।
(৫) কর্তা বা ব্যক্তিবাচক অ-তৎসম শব্দে ই-কার হবে। যেমন : কেরানি, মৌলবি, ঢাকি ইত্যাদি।
(৬) সকল অ-তৎসম শব্দেই শুধু হ্রস্ব স্বর অর্থাৎ ‘ই-কার’ এবং ‘উ-কার’ ব্যবহৃত হবে। যেমন : বাড়ি, পাখি, গাড়ি, মুলো, পুজো ইত্যাদি।স্ত্রীবাচক ও জাতিবাচক শব্দেও এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। যেমন : নানি, চাচি, বাঙালি ইত্যাদি।
(৭) অ-তৎসম শব্দের বানানে ‘ণ’ ব্যবহার হবে না। যেমন : হর্ন, হান্টার, প্রিন্টার, কর্নেল ইত্যাদি।
(৮) অ-তৎসম শব্দের বানানে কখনই ‘ষ’ এর ব্যবহার হবে না। যেমন : মাস্টার, স্টেশন, পোস্টার ইত্যাদি।
(৯) রেফ ( র্ম ) এর পর ব্যঞ্জনের দ্বিত্ব হবে না। যেমন :কর্তা, কর্ম, মর্ম ইত্যাদি।
(১০) শব্দের শেষে বিসর্গ ব্যবহার হবে না। যেমন : মূলত, কার্যত, বস্তুত ইত্যাদি।
(১১) হস চিহ্ন যথাসম্ভব বর্জন করতে হবে। যেমন: কাত, চটপট, কলকল, তছনছ ইত্যাদি।
(১২) সমাসবদ্ধ পদ একসাথে লিখতে হবে। যেমন: জটিলতামূলক, বিজ্ঞানসম্মত, সংবাদপত্র ইত্যাদি।
বাংলা একাডেমি প্রমিত বাংলা বানানের ১০টি নিয়ম
স্বরবর্ণের সঠিক ব্যবহার: স্বরবর্ণ (অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ) সঠিক স্থানে ব্যবহার করতে হবে। ভুল স্বরবর্ণ শব্দের অর্থ পরিবর্তন করতে পারে।
উদাহরণ: “পদ” এবং “পাড” – দুটি আলাদা অর্থ।
ব্যঞ্জনবর্ণের নিয়ম: ব্যঞ্জনবর্ণের (ক, খ, গ, ঘ, ঙ, চ…) সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে জ্ঞান, ঋণ, ণ ইত্যাদির ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
যুক্তাক্ষরের সঠিক ব্যবহার: দু’টি বা ততোধিক অক্ষরের সংযোগে যুক্তাক্ষর তৈরি হয়। যুক্তাক্ষরের সঠিক বানান গুরুত্বপূর্ণ।
উদাহরণ: “কর্ম” ঠিক, “কর্ম্ম” ভুল।
দ্বিতীয় ধ্বনির পুনরাবৃত্তি (দ্বিতীয় ব্যঞ্জনবর্ণের পুনরাবৃত্তি): শব্দের মাঝ বা শেষে কোনো ব্যঞ্জনবর্ণ দ্বিগুণ হলে তা ঠিকভাবে লিখতে হবে।
উদাহরণ: “পত্রিকা” ঠিক, “পত্রীক্কা” ভুল।
হ্রস্ব ও দীর্ঘ স্বরের পার্থক্য: হ্রস্ব এবং দীর্ঘ স্বর যেমন ই–ঈ, উ–ঊ আলাদা রাখতে হবে।
উদাহরণ: “বিকাশ” এবং “বীকাশ” – অর্থ ভিন্ন।
অব্যয় এবং যুক্ত প্রয়োগের নিয়ম: ক্রিয়া, অব্যয় বা বিশেষণ ব্যবহারে বানান ঠিক রাখতে হবে।
উদাহরণ: “সাথে” ঠিক, “সাথেে” ভুল।
অব্যবহৃত ধ্বনি বাদ দেওয়া: যে ধ্বনি বা অক্ষর কোনো শব্দে প্রয়োজন নেই তা লেখা যাবে না।
উদাহরণ: “মন্ত্র” ঠিক, “মনত্র” ভুল।
বচন, লিঙ্গ ও পদবিন্যাসের মিল: শব্দের বচন (একবচন/বহুবচন), লিঙ্গ এবং পদবিন্যাস সঠিক রাখতে হবে।
উদাহরণ: “ছেলে যায়” ঠিক, “ছেলে যায়ে” ভুল।
প্রত্যয় ও উপসর্গের সঠিক ব্যবহার: শব্দের অর্থ বোঝার জন্য প্রত্যয় ও উপসর্গ ঠিকভাবে ব্যবহার করতে হবে।
উদাহরণ: “অভিজ্ঞ” (অ+ভিজ্ঞ), “অজ্ঞ” (অ+জ্ঞ)।
শব্দের অর্থ অনুযায়ী বানান: একই উচ্চারণের শব্দের বানান অর্থ অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।
উদাহরণ: “চাল” (ধান), “চাল” (গাড়ি চালানোর ক্রিয়া) – প্রসঙ্গ অনুযায়ী বানান নিশ্চিত করতে হবে।

