মাত্র সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায় আসলে কথাও পাবেন না। মোটা হওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে কিছু সময় হাতে রাখতে হবে কারণ রাতারাতি মোটা হওয়ার উপায় থাকলেও সেগুলো খুবই ক্ষতিকর। প্রাকৃতিক নিয়মে মোটা হওয়ার জন্য প্রথমে আপনাকে খাবার অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে সেই সাথে খাবার মেনু পরিবর্তন করা জরুরি।
সাত দিনে মোটা হওয়ার উপায়
আপনি কি স্বাস্থ্যকর উপায়ে ওজন বাড়াতে চাইছেন? রোগা শরীর নিয়ে হতাশা কাটিয়ে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে চান? তাহলে এই পোস্টটি আপনার জন্য! অনেকে মনে করেন ওজন বাড়ানো বুঝি খুব সহজ, কিন্তু সঠিক কৌশল না জানলে এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
১. খাবারের পরিমাণ বাড়ান
ওজন বাড়ানোর সবচেয়ে সহজ উপায় হলো খাবারের পরিমাণ বাড়ানো। প্রতিদিন ভাত, রুটি বা পাস্তা সামান্য বেশি খান। খাবারের সঙ্গে কিছু ঘি বা অলিভ অয়েল মেশানো যায়। সকালে বা সন্ধ্যায় দুধের সঙ্গে ওটস, কলা আর সামান্য মধু খাওয়া ভালো। এতে শরীরে ক্যালোরি দ্রুত যোগ হয়। হঠাৎ করে খুব বেশি খাবার খাওয়া পেট খারাপ করতে পারে। তাই ধীরে ধীরে খাবারের পরিমাণ বাড়ান। ছোট ছোট পরিবর্তনই দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। নিয়মিত খাওয়া ও পর্যাপ্ত ক্যালোরি শরীরকে শক্তি দেয়।
২. দিনে পাঁচ বা ছয়বার খান
শরীর একবারে খুব বেশি খাবার নিতে পারে না। তাই দিনে তিন বেলা প্রধান খাবারের সঙ্গে দুই থেকে তিনটি ছোট স্ন্যাকস রাখবেন। এতে শরীর সারাদিন ক্যালোরি পায় এবং ক্ষুধাও নিয়মিত থাকে। একবারে বেশি খেলে হজমে সমস্যা হতে পারে। ছোট ছোট বেলায় খাওয়া সহজে ক্যালোরি বৃদ্ধি করে এবং ওজন বাড়ায়। বিকেলবেলায় বাদাম, কাজু, কলা বা পিনাট বাটার খাওয়া ভালো। এতে শক্তি বজায় থাকে এবং শরীর স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বৃদ্ধি করতে পারে।
৩. প্রোটিন জাতীয় খাবার খান
প্রোটিন পেশি গঠন করে এবং শরীরকে শক্ত রাখে। প্রতিদিন ডিম, মুরগি, মাছ, ডাল, দই বা পনির খাবারের সঙ্গে রাখুন। কেবল ভাত বা রুটি খেলে শরীর ক্যালোরি নেয়, কিন্তু পেশি তৈরি হয় না। প্রতিটি বেলায় সামান্য প্রোটিন রাখা শরীরকে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। প্রোটিন থাকলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে থাকে, শক্তি ধরে থাকে এবং হজমও ভালো হয়। পেশি বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে শরীরের মেদও স্বাস্থ্যকরভাবে জমে।
৪. স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খাবেন
ভাজা বা জাঙ্ক ফুড নয়, বরং স্বাস্থ্যকর ফ্যাট ওজন বাড়ায়। বাদাম, কাজু, পিনাট বাটার, অ্যাভোকাডো বা অলিভ অয়েল খাওয়া উচিত। খাবারের সঙ্গে ঘি বা অলিভ অয়েল মেশানো যায়। এগুলো শরীরে সহজে ক্যালোরি যোগ করে এবং মেদ স্বাস্থ্যকরভাবে জমায়। ফ্যাট ক্যালোরি বেশি হওয়ায় শরীর সহজে শক্তি পায়। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর ফ্যাট খেলে ওজন ধীরে ধীরে বাড়ে। এতে হজমও ভালো থাকে। স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরকে শক্তি দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে ওজন বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৫. শেক বা স্মুদি
যারা একসাথে বেশি খেতে পারে না, তাদের জন্য শেক বা স্মুদি খুব কার্যকর। দুধ, কলা, ওটস, মধু আর পিনাট বাটার দিয়ে শেক বানানো যায়। এটি সহজে ক্যালোরি যোগ করে এবং হজমও সহজ হয়। দিনে একবার বা দুইবার শেক খেলে শরীর শক্তি পায়। এটি বিকেলের স্ন্যাকস হিসেবে খুব ভালো। শরীর সহজে শক্তি ব্যবহার করতে পারে। নিয়মিত শেক খেলে ওজন স্বাস্থ্যকরভাবে বাড়ে। এছাড়াও, শেকের মধ্যে প্রোটিন ও কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা পেশি গঠনে সাহায্য করে।
৬. হালকা বা মাঝারি ব্যায়াম করুন
অনেকে ভাবেন ব্যায়াম করলে ওজন কমে, কিন্তু হালকা বা মাঝারি ওজনের ব্যায়াম পেশি তৈরি করে এবং ক্ষুধা বাড়ায়। স্কোয়াট, লঞ্জ, পুশ আপ বা ডাম্বেল ব্যায়াম করলে শরীর গঠিত হয় এবং খাওয়া খাবার পেশিতে পরিণত হয়। হালকা জগিং বা হালকা দৌড়ও শরীরের রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়। ব্যায়াম শরীরকে সক্রিয় রাখে, মেটাবলিজম উন্নত করে এবং শক্তি যোগ করে। নিয়মিত ব্যায়াম করলে শরীর শক্তি ধরে রাখে এবং স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়ে। ব্যায়াম করলে শরীরের ফ্যাটও সমানভাবে জমে, ফলে ওজন বাড়লেও দেখতে স্বাস্থ্যসম্মত লাগে।
৭. পর্যাপ্ত ঘুমান
ঘুম শরীরের ওজন বাড়ানোর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাতে ৭–৮ ঘণ্টা ঘুম না হলে শরীর খাবার ঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারে না। পেশি গঠনের জন্য ঘুম অপরিহার্য। ঘুমানোর আগে দুধ বা দই খেলে ঘুম ভালো হয় এবং শরীর শক্তি সঞ্চয় করে। পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করে, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হজম ঠিক রাখে। ঘুম কম হলে খাবারের ক্যালোরি সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় না, ফলে ওজন ঠিকমতো বাড়ে না। নিয়মিত ঘুম স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়ানোর জন্য অপরিহার্য।
৮. নিয়মিত পানি খান
শরীর ঠিকভাবে হজম করতে ওজন বাড়ানোর জন্য পর্যাপ্ত পানি প্রয়োজন। প্রতিদিন ২–২.৫ লিটার পানি পান করুন। খাবারের আগে বা পরে খুব বেশি পানি খাওয়া এড়াও, এতে হজমে সমস্যা হয়। পানি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে, খাবারের পুষ্টি ঠিকভাবে কাজে লাগায় এবং শক্তি ধরে রাখে। পর্যাপ্ত পানি শরীরের মেটাবলিজম ঠিক রাখে এবং খাবারের ক্যালোরি সঠিকভাবে কাজে লাগায়। পানি ঠিকভাবে না খেলে ওজন বাড়ার প্রক্রিয়া ধীর হয়। নিয়মিত পানি খাওয়া স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়ানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
উপরের নিয়মগুলো অনুসরণ করুন আশা করছি ১৫ দিনে মোটা হওয়ার উপায় গুলো আপনাদের কাজে দিবে।

