দ্রুত বা সহজেই 2 থেকে 3 ইঞ্চি লম্বা হওয়ার উপায় নেই তবে আপনি যদি সময় নিয়ে চলতে পারেন তাহলে নিশ্চিত লম্বা হতে পারবেন। লম্বা হওয়ার জন্য সবার আগে প্রয়োজন নিজের ধৈর্য। নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার এর পাশা পাশি আমাদের দেওয়া টিপস অনুসরণ করলে সহজেই লম্বা হহতে পারবেন।
দ্রুত 2 থেকে 3 ইঞ্চি লম্বা হওয়ার উপায়
লম্বা হওয়ার প্রক্রিয়াটি মূলত বংশগতি এবং নির্দিষ্ট বয়স পর্যন্ত গ্রোথ প্লেট খোলা থাকার ওপর নির্ভর করে। ছেলেদের ক্ষেত্রে সাধারণত ১৬-১৮ বছর এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ১৪-১৬ বছর বয়সের পর প্রাকৃতিকভাবে উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়া বন্ধ হয়ে যায়, কারণ এই বয়সে হাড়ের গ্রোথ প্লেটগুলো ফিউজ হয়ে যায়।
তবে, আপনার বয়স যদি এখনো বাড়ার মধ্যে থাকে, তাহলে সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমে আপনি আপনার উচ্চতার পূর্ণ সম্ভাবনা অর্জন করতে পারবেন এবং কিছু উপায়ে শারীরিক উচ্চতাকে আরও বেশি বারাতে পারবেন।
খাদ্যাভ্যাস
উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য পুষ্টিকর খাবার অপরিহার্য। দুধ, ডিম, মাছ ও মুরগি প্রোটিনের উৎকৃষ্ট উৎস, যা হাড় ও পেশি শক্ত রাখে। ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ দুধ, পনির, ছোলা এবং ব্রকলির মতো সবজি হাড়কে মজবুত করে। এছাড়া সূর্যালোকের মাধ্যমে ভিটামিন ডি প্রাপ্তি হাড়ের বৃদ্ধিতে সহায়ক। বাদাম, বীজ এবং শাকসবজি থেকে জিঙ্ক ও ম্যাগনেসিয়াম গ্রহণ করলে হাড় ও পেশি আরও শক্তিশালী হয়। নিয়মিত ফল ও সবজি খাওয়া শরীরকে প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে।
ব্যায়াম ও স্ট্রেচিং
নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্ট্রেচিং হাড় ও মেরুদণ্ডকে প্রসারিত করে। হ্যাংগিং বা বার ধরে ঝুলে থাকা মেরুদণ্ডকে সোজা ও লম্বা রাখতে সাহায্য করে। যোগব্যায়াম যেমন সুর্যনমস্কার, কোবরা পোজ এবং ক্যাট-কাউ পোজ মেরুদণ্ড প্রসারিত করে। সাঁতার, পুল আপ, লাফানো এবং ভলিবল বা বাস্কেটবল খেলা শরীরকে ফিট রাখে ও উচ্চতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।
ঘুম ও জীবনধারা
পর্যাপ্ত ঘুম উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাতের ৭–৯ ঘণ্টা ঘুম বৃদ্ধি হরমোনকে সঠিকভাবে নিঃসৃত করতে সহায়তা করে। ঘুমের সময় সোজা মেরুদণ্ড রাখার জন্য আরামদায়ক বিছানা ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া দৈনন্দিন জীবনে সঠিক ভঙ্গি বজায় রাখা দাঁড়িয়ে বা বসে পিঠ সোজা রাখা উচ্চতাকে সাময়িকভাবে আরও উঁচু দেখাতে সাহায্য করে।
সাপ্লিমেন্ট ও চিকিৎসা
যদি প্রাকৃতিক উপায়ে লম্বা হওয়ার প্রচেষ্টা সফল না হয়, চিকিৎসকের পরামর্শে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে। বয়ঃসন্ধি শেষ হওয়ার পর হরমোন ইনজেকশন বা চিকিৎসাবিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে লেংথেনিং সার্জারি বিবেচনা করা যেতে পারে, তবে এগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এবং দীর্ঘ রিকভারি প্রক্রিয়া নিয়ে আসে।
উচ্চতা বাড়ানো সহজ কাজ নয়, তবে নিয়মিত অভ্যাস, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং সঠিক জীবনধারা মেনে চললে স্বাভাবিকভাবে ২–৩ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হওয়া সম্ভব। এটি শুধু শারীরিক বৃদ্ধি নয়, আত্মবিশ্বাস ও শারীরিক সুস্থতাকেও বৃদ্ধি করে। ধৈর্য, যত্ন এবং ধারাবাহিকতা এই যাত্রার মূল চাবিকাঠি।

