২১ শে ফেব্রুয়ারি বক্তব্য সাধারণত ভাষা শহীদদের স্মরণ, মাতৃভাষার গুরুত্ব এবং বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষার অঙ্গীকারকে কেন্দ্র করে তৈরি করা হয়। ১৯৫২ সালের এই দিনে বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকেই জীবন উৎসর্গ করেছিলেন।
তাই বক্তব্যে তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং নতুন প্রজন্মকে ভাষা, সংস্কৃতি ও দেশপ্রেমের মূল্য বোঝানো হয়। সহজ, আবেগঘন ও অনুপ্রেরণামূলক কথার মাধ্যমে মাতৃভাষাকে ভালোবাসা, শুদ্ধভাবে ব্যবহার করা এবং দেশের ঐতিহ্য রক্ষা করার বার্তা দেওয়াই মূল লক্ষ্য। এতে শ্রোতাদের মধ্যে গর্ব ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়।
২১ শে ফেব্রুয়ারি বক্তব্য 2026
বক্তব্য ১:
সম্মানিত শিক্ষক মণ্ডলী এবং আমার সহপাঠী বন্ধুরা,
সবাইকে আজকের এই মহান দিবসের শুভেচ্ছা। আজ ২১শে ফেব্রুয়ারি, আমাদের জাতীয় জীবনের এক স্মরণীয় দিন। আজ থেকে অনেক বছর আগে ১৯৫২ সালে, আমাদের ভাষার অধিকার রক্ষার জন্য রফিক, সালাম, বরকতসহ আরও অনেকে রাজপথে বুকের রক্ত দিয়েছিলেন।
পৃথিবীতে আমরাই একমাত্র জাতি, যারা ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি। তাঁদের এই আত্মত্যাগের কারণেই আজ আমরা বাংলায় কথা বলতে পারছি। শুধু তাই নয়, আমাদের এই দিনটি এখন সারা বিশ্বে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে পালন করা হয়।
আমাদের আজকের শপথ হওয়া উচিত আমরা আমাদের মাতৃভাষাকে ভালোবাসব এবং শুদ্ধভাবে বাংলা বলা ও লেখা শিখব। ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি।
ধন্যবাদ সবাইকে।
বক্তব্য ২:
উপস্থিত শ্রদ্ধেয় শিক্ষকবৃন্দ এবং আমার প্রিয় বন্ধুরা,
আজকের এই কুয়াশাভেজা সকালে আমরা এখানে সমবেত হয়েছি সেইসব বীর সন্তানদের স্মরণ করতে, যাঁরা ১৯৫২ সালের এই দিনে ঢাকার রাজপথ নিজের রক্তে রঞ্জিত করেছিলেন।
বন্ধুরা, ২১শে ফেব্রুয়ারি কেবল একটি তারিখ নয়, এটি আমাদের অস্তিত্ব আর অহংকারের প্রতীক। পাকিস্তানি শাসকরা যখন আমাদের ওপর উর্দুকে চাপিয়ে দিতে চেয়েছিল, তখন ছাত্র সমাজই প্রথম গর্জে উঠেছিল। সেই মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন আমাদের ভাইয়েরা। তাঁদের সেই আত্মত্যাগের মাধ্যমেই আজ বাংলা ভাষা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা পেয়েছে এবং ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো একে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দিয়েছে।
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব কেবল এই দিনে ফুল দেওয়া নয়, বরং বাংলা ভাষার মর্যাদা রক্ষা করা। আমরা যেন অন্য ভাষার ভিড়ে নিজের ভাষাকে ভুলে না যাই। আমাদের উচিত নিয়মিত বাংলা সাহিত্য পড়া এবং ভাষার সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করা।
আসুন, আমরা সবাই মিলে প্রতিজ্ঞা করি, আমাদের কৃষ্টি ও সংস্কৃতিকে আমরা সবসময় হৃদয়ে ধারণ করব। শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে আমি বিদায় নিচ্ছি।
আসসালামু আলাইকুম
রাজনৈতিক নেতাদের ২১ শে ফেব্রুয়ারি বক্তব্য
বক্তব্য ১:
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
উপস্থিত সংগ্রামী ভাই ও বোনেরা,
আজ একুশে ফেব্রুয়ারি। আমাদের আত্মপরিচয় রক্ষার দিন। আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেইসব বীর শহীদদের, যাঁদের রক্তের বিনিময়ে আজ আমরা মায়ের ভাষায় কথা বলতে পারছি। স্মরণ করছি আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে, যিনি আমাদের শিখিয়েছিলেন কীভাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে হয়।
বন্ধুরা, বায়ান্নর একুশ আমাদের শিখিয়েছে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করতে। আজ যখন আমাদের কথা বলার অধিকার সংকুচিত, যখন গণতন্ত্র অবরুদ্ধ, তখন একুশের চেতনা আমাদের জন্য আরও বেশি প্রাসঙ্গিক। একুশ মানেই প্রতিরোধ, একুশ মানেই বিপ্লব।
আজকের এই দিনে আমাদের শপথ হোক যে বাক-স্বাধীনতা আর ভোটের অধিকারের জন্য আমাদের ভাইয়েরা রাজপথে রক্ত দিয়েছিলেন, সেই অধিকার আমরা পুনরুদ্ধার করবই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শ আর আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সুন্দর, গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলব।
শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেব না। লড়াই চলবে, জয় আমাদের নিশ্চিত।
বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। শহীদ জিয়া অমর হোক।
বক্তব্য ২:
উপস্থিত সুধীবৃন্দ এবং জাতীয়তাবাদী আদর্শের সৈনিকগণ,
শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি ১৯৫২ সালের ভাষা শহীদদের। ১৯৫২ সালে আমাদের পূর্বসূরীরা বুলেটের সামনে বুক পেতে দিয়েছিলেন শুধু একটি ভাষার জন্য নয়, বরং একটি জাতির আত্মমর্যাদার জন্য।
দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, আজ দেশের মানুষ নিজের ভাষায় সত্য কথা বলতে ভয় পায়। যে গণতন্ত্রের স্বপ্ন নিয়ে ভাষা আন্দোলন আর স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছিল, সেই গণতন্ত্র আজ নির্বাসিত। আমরা এমন এক বাংলাদেশে বাস করছি যেখানে মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নেই, মানুষের ভোটের অধিকার নেই।
আমরা শহীদ জিয়ার সৈনিক। আমরা ভয় পেতে শিখিনি। আজকের এই দিনে আমাদের অঙ্গীকার যতক্ষণ না দেশের মানুষের মুখে হাসি ফুটবে, যতক্ষণ না একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে, ততক্ষণ আমরা রাজপথ ছাড়ব না। একুশের চেতনাকে বুকে ধারণ করে আমরা সকল অন্যায় আর জুলুমের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।
আসুন, আমরা দেশ ও দশের কল্যাণে নিজেদের উৎসর্গ করি এবং শহীদদের স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ ফিরিয়ে আনি।
আল্লাহ হাফেজ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।

