শীতের সকাল অনুচ্ছেদ ক্লাস ৭, ক্লাস ৮, ক্লাস ৯ এবং এসএসসি

শীতের সকাল অনুচ্ছেদ রচনা ক্লাস ৭ থেকে শুরু করে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য এখানে শেয়ার করা হয়েছে। সকল পরীক্ষার্থীরা এখান থেকে অণুচ্ছেদ কপি করে তাদের খাতায় লিখে নিতে পারবে। নিচে দেওয়া হয়েছে-

শীতের সকাল অনুচ্ছেদ ক্লাস ৭-৯ 

শীতকাল মানেই প্রকৃতির এক ভিন্ন রূপ। আর এই শীতের সকালের আবেদন সত্যিই অন্যরকম। ঠান্ডা আর কুয়াশার চাদরে ঢাকা এই সময়টার একটা বিশেষ সৌন্দর্য আছে।

ভোরের দিকে কনকনে ঠান্ডায় ঘুম ভাঙে। চারপাশ থাকে একেবারে নীরব, কারণ কুয়াশার ঘন আবরণ ভেদ করে সূর্যের আলো তখনও পৌঁছাতে পারে না। সবকিছু যেন ঢাকা থাকে এক রহস্যময় ধোঁয়াশায়। এই সময়টায় বাইরে পা রাখলেই শরীরে একটা শিরশিরে অনুভূতি হয়। ঘাসের ডগায়, গাছের পাতায় মুক্তোর মতো জমে থাকা শিশির বিন্দুগুলো সূর্যের প্রথম আলোয় ঝলমল করে ওঠে, যা দেখতে খুবই মন মুগ্ধকর।

এই সময়টাতে গ্রামীণ জীবনে এক অন্যরকম ব্যস্ততা দেখা যায়। গ্রামের মানুষজন সাধারণত খড়কুটো জ্বালিয়ে গোল হয়ে বসে আগুন পোহাতে ভালোবাসে, আর সেই আগুনের উষ্ণতা নিতে নিতে চলে নানা গল্প-গুজব। শীতের পিঠা-পুলি তৈরির আয়োজনও শুরু হয়ে যায় সকাল সকাল। গরম ধোঁয়া ওঠা ভাপা পিঠা আর চিতই পিঠা খাওয়ার মজাই আলাদা।

শহরের সকাল অবশ্য একটু অন্যরকম। লেপ-কম্বলের উষ্ণতা ছেড়ে সহজে উঠতে ইচ্ছে করে না। তবে, একবার বাইরে বেরোলে দেখা যায় অনেকে জ্যাকেট, মাফলার পরে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়েছেন বা কাজে যাচ্ছেন। চায়ের দোকানে ভিড় বাড়ে গরম চায়ের চুমুক দেওয়ার জন্য। ধীরে ধীরে যখন কুয়াশা কেটে গিয়ে সোনালী রোদ চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন পরিবেশটা হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।

শীতের সকালের এই স্নিগ্ধতা, কুয়াশা আর উষ্ণতার মিশ্রণ এই সবকিছুই দিনটিকে একটি মিষ্টি শুরু এনে দেয়।

এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শীতের সকাল অনুচ্ছেদ

শীতকাল হলো প্রকৃতির নীরব, শান্ত এবং স্নিগ্ধতার ঋতু। আর শীতের সকাল সেই ঋতুর মুকুটে বসানো এক উজ্জ্বল রত্ন। এর শুরুটা হয় কুয়াশার ঘন চাদর মুড়ি দিয়ে, যা প্রকৃতিকে দেয় এক মায়াবী রূপ।

See More  কীর্তিমানের মৃত্যু নেই ভাবসম্প্রসারণ ক্লাস ৭ম, ৮ম ও এসএসসি

ভোরের দিকে যখন সূর্যের দেখা মেলে না, তখন চারপাশ ঢাকা থাকে ধূসর কুয়াশার আবরণে। দূরের জিনিস আবছা দেখায়। কনকনে ঠান্ডা বাতাস জানান দেয় যে শীত তার রাজত্ব শুরু করেছে। শিশির ভেজা ঘাস আর গাছের পাতাগুলো যেন মুক্তোর মালা পরে থাকে; সূর্যের প্রথম নরম আলো যখন এদের ওপর পড়ে, তখন সেই দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেয়। এই সময়ে গ্রামের দিকে খেটে খাওয়া মানুষজন উষ্ণতার খোঁজে খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুনের চারপাশে গোল হয়ে বসে। সেই আগুন থেকে ওঠা ধোঁয়া আর কুয়াশা মিলেমিশে তৈরি করে এক অদ্ভুত দৃশ্য।

শীতের সকালে আমাদের রন্ধনশালায় শুরু হয় এক বিশেষ উৎসবের আয়োজন। গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত ঘরে ঘরে চলে নানা রকম পিঠা তৈরির ধুম। গরম ভাপা পিঠা বা খেজুরের গুড়ের রসে ডোবানো চিতই পিঠার সুগন্ধ পুরো পরিবেশকে মাতিয়ে তোলে। খেজুরের টাটকা রসও শীতের সকালের অন্যতম আকর্ষণ। এই সময়ে পাউরুটি, সেদ্ধ ডিম আর গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে খবরের কাগজ পড়ার অভ্যাসটা বেশ আরামদায়ক।

শহরের কোলাহলময় জীবনও সকালে একটু থমকে যায়। গরম কাপড়ে শরীর মুড়ে মানুষজন তাদের দৈনন্দিন কাজ শুরু করেন। পার্কগুলোতে প্রাতঃভ্রমণকারীদের ভিড় বাড়ে, যারা ঘন কুয়াশার মধ্যেও নিজেদের সতেজ রাখতে বদ্ধপরিকর। চায়ের দোকানগুলোতে ভিড় লেগেই থাকে, কারণ এক কাপ গরম চা এই ঠান্ডায় সঞ্জীবনী সুধার মতো কাজ করে।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কুয়াশার জাল ফিকে হতে থাকে এবং সূর্য তার সমস্ত তেজ নিয়ে জেগে ওঠে। সেই সোনালী রোদ মিষ্টি উষ্ণতা নিয়ে আসে, যা অলসতা কাটিয়ে কর্মচঞ্চল হতে সাহায্য করে। এই রোদটা যেন শীতের সকালের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ, যা মনকে আনন্দে ভরিয়ে তোলে। শীতের সকাল তার নীরবতা, স্নিগ্ধতা আর উষ্ণতার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সারাদিনের জন্য তৈরি করে এক সুন্দর ভিত্তি।

See More  ৪0+ হট নোংরা ধাঁধা উত্তর সহ জেনে নিন সমাধান কি 2026

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *