শবে কদর নামাজের নিয়ম ও নিয়ত 2026

bisshas5169

March 8, 2026

শবে কদর ইসলামে অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি রাত। এই রাতে মুসলমানরা বেশি বেশি নফল ইবাদত, দোয়া এবং কুরআন তিলাওয়াত করেন। শবে কদরের নামাজ নির্দিষ্ট কোনো আলাদা ফরজ নামাজ নয়, বরং নফল নামাজ পড়ে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার চেষ্টা করা হয়। সাধারণভাবে দুই রাকাত করে নফল নামাজ পড়া হয় এবং প্রতিটি রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে অন্য সূরা তিলাওয়াত করা হয়। নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা, দোয়া ও জিকির করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই রাতে ইবাদত করলে অনেক সওয়াব পাওয়া যায় বলে মুসলমানরা সারা রাত ইবাদতে কাটানোর চেষ্টা করেন।

শবে কদর নামাজের নিয়ম

শবে কদর বা লাইলাতুল কদর হলো হাজার মাসের চেয়েও উত্তম এক মহিমান্বিত রাত। এই রাতে ইবাদত করা ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদত করার চেয়েও বেশি সওয়াবের। শবে কদরের নামাজ মূলত নফল নামাজ, যা অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে আদায় করা উচিত।

শবে কদরের আলাদা কোনো বিশেষ পদ্ধতি নেই, এটি অন্যান্য নফল বা তাহাজ্জুদ নামাজের মতোই পড়তে হয়। তবে এই রাতে দীর্ঘ সময় নিয়ে নামাজ পড়া উত্তম।

  1. রাকাত সংখ্যা: শবে কদরের নামাজ নফল বিধায় এর নির্দিষ্ট কোনো রাকাত সংখ্যা নেই। আপনি ২ রাকাত করে যত খুশি তত রাকাত (৪, ৮, ১২ বা তার বেশি) পড়তে পারেন।

  2. নামাজের নিয়ত: মনে মনে এভাবে নিয়ত করতে পারেন “আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করছি, আল্লাহু আকবার।”

  3. সুরা পাঠ: প্রথম রাকাতে সুরা ফাতিহার পর অন্য যেকোনো সুরা পড়তে পারেন। অনেক আলেম সুরা কদর বা সুরা ইখলাস দিয়ে পড়ার পরামর্শ দেন, তবে এটি বাধ্যতামূলক নয়। আপনার মুখস্থ থাকা যেকোনো সুরা দিয়েই এই নামাজ আদায় করা যাবে।

  4. রুকু ও সেজদা: নফল নামাজে রুকু ও সেজদায় দীর্ঘ সময় তসবিহ পাঠ করা এবং ধীরস্থিরভাবে ইবাদত করা অনেক বেশি সওয়াবের।

শবে কদর নামাজের নিয়ত 

শবে কদরের নামাজ নফল ইবাদত। যেকোনো নামাজের মতো এই নামাজের মূল নিয়ত বা সংকল্প মনে মনে করাই যথেষ্ট। তবে আমাদের দেশে অনেকেই মুখে নিয়ত করতে পছন্দ করেন। নিচে আরবী ও বাংলা উভয় নিয়ম দেওয়া হলো:

See More  ৫০+ নেকলেস গল্পের MCQ প্রশ্নের উত্তর 2026

১. মনে মনে নিয়ত

আপনি মনে মনে এই ইচ্ছা করলেই হবে যে—

“আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করছি।” এরপর ‘আল্লাহু আকবার’ বলে হাত বেঁধে নামাজ শুরু করবেন।

২. মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত (আরবী)

যদি আপনি আরবী শব্দে নিয়ত করতে চান, তবে এভাবে বলতে পারেন:

নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তাআলা রাকআতাই সালাতি লাইলাতিল কাদরি নাফলি, মুতাওয়াজ্জিহান ইলা জিহাতিল কাবাতিশ শারিফাতি আল্লাহু আকবার।

৩. মুখে উচ্চারণ করে নিয়ত (বাংলা)

“আমি কেবলামুখী হয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য শবে কদরের দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করছি, আল্লাহু আকবার।”

শবে কদর নামাজের দোয়া

রাসুলুল্লাহ (সা.) এই রাতে একটি বিশেষ দোয়া পাঠ করার শিক্ষা দিয়েছেন। হযরত আয়েশা (রা.) যখন জিজ্ঞাসা করলেন, “হে আল্লাহর রাসুল! আমি যদি শবে কদর পাই তবে কী দোয়া করব?” তখন তিনি এই দোয়াটি শিখিয়ে দেন:

اللَّهُمَّ إِنَّكَ عَفُوٌّ تُحِبُّ الْعَفْوَ فَاعْفُ عَنِّي (আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া ফাফু আন্নি)

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, আপনি ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব আমাকে ক্ষমা করে দিন।

শবে কদরের আমল

কেবল নামাজই নয়, এই রাতকে কাজে লাগাতে আপনি আরও কিছু আমল করতে পারেন:

  • কুরআন তেলাওয়াত: অর্থসহ কুরআন তেলাওয়াত করা এই রাতের অন্যতম সেরা ইবাদত।

  • জিকির ও তসবিহ: সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার এবং বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা।

  • তওবা ও ইস্তেগফার: বিগত জীবনের গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে খাঁটি মনে ক্ষমা চাওয়া।

  • দান-সদকা: সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু দান করা, কারণ এই রাতের একটি টাকা দান করা হাজার মাস দান করার সমান সওয়াব এনে দিতে পারে।

  • মোনাজাত: নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং সারা বিশ্বের মুসলিম উম্মাহর জন্য চোখের পানি ফেলে দোয়া করা।

শবে কদর নামাজ কত রাকাত

শবে কদরের নামাজের নির্দিষ্ট কোনো রাকাত নেই এটি একটি নফল ইবাদত তাই আপনি চাইলে ২ রাকাত করে ৪,৮,১২ বা তার বেশিও নামাজ আদায় করতে পারেন।

See More  দুর্জন বিদ্বান হলেও পরিত্যাজ্য ভাবসম্প্রসারণ বাংলা ২য় পত্র

শবে কদর ফজিলত 

শবে কদর বা লাইলাতুল কদর হলো মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহ তায়ালার পক্ষ থেকে এক বিশাল উপহার। পবিত্র কুরআনে এই রাতের গুরুত্ব বোঝাতে ‘আল-কদর’ নামে একটি স্বতন্ত্র সুরা নাজিল হয়েছে। শবে কদরের ফজিলত ও গুরুত্ব অপরিসীম।

নিচে শবে কদরের প্রধান ফজিলতগুলো আলোচনা করা হলো:

১. হাজার মাসের চেয়ে উত্তম

কুরআনের ঘোষণা অনুযায়ী, এই এক রাতের ইবাদত হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। অর্থাৎ, কোনো ব্যক্তি যদি এই রাতে ইবাদত করেন, তবে তিনি ৮৩ বছর ৪ মাস ইবাদত করার চেয়েও বেশি সওয়াব লাভ করবেন। মানুষের গড় আয়ু যেখানে ৬০-৭০ বছর, সেখানে মাত্র এক রাতে এত সওয়াব পাওয়া বড় নিয়ামত।

২. কুরআন নাজিলের রাত

মানবজাতির হেদায়েতের আলোকবর্তিকা ‘আল-কুরআন’ এই মহিমান্বিত রাতেই লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে নাজিল করা হয়েছিল। এ কারণেই এই রাতের মর্যাদা এত বেশি।

৩. ফেরেশতাদের পদচারণা

শবে কদরে ফেরেশতাদের সরদার জিবরাঈল (আ.) অসংখ্য ফেরেশতা নিয়ে পৃথিবীতে নেমে আসেন। তারা মুমিন বান্দাদের ইবাদত দেখেন এবং তাদের জন্য শান্তির দোয়া করেন। ফজর হওয়া পর্যন্ত এই শান্তিময় পরিবেশ বজায় থাকে।

৪. গুনাহ মাফের সুযোগ

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ঈমানের সাথে সওয়াব লাভের আশায় কদরের রাতে ইবাদত করবে, তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে।” (বুখারি ও মুসলিম)। এটি নিজেকে পবিত্র করার এক সুবর্ণ সুযোগ।

৫. ভাগ্য নির্ধারণ

‘কদর’ শব্দের এক অর্থ হলো ভাগ্য বা পরিমাপ। এই রাতে পরবর্তী এক বছরের জন্য মানুষের আয়ু, রিজিক ও অন্যান্য বিষয়াবলি ফেরেশতাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তাই এই রাতে দোয়া করলে ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয়।

Leave a Comment