লালসালু উপন্যাস সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর 5টি

লালসালু উপন্যাস সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর মূলত কাহিনি, চরিত্র, থিম ও লেখকের বার্তা গভীরভাবে বোঝার জন্য তৈরি করা হয়। শুধু মুখস্থ নয়, নিজের চিন্তা ও বিশ্লেষণ ক্ষমতা ব্যবহার করে উত্তর দিতে হয়। মজিদ চরিত্রের ভণ্ডামি, গ্রামীণ সমাজের অন্ধবিশ্বাস, ধর্মের অপব্যবহার এবং মানুষের সরলতা এসব বিষয় প্রশ্নের মাধ্যমে ফুটে ওঠে। সৃজনশীল পদ্ধতিতে শিক্ষার্থীরা ঘটনা ব্যাখ্যা, যুক্তি উপস্থাপন এবং বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিল খুঁজে লেখার সুযোগ পায়। এতে উপন্যাসের অন্তর্নিহিত অর্থ স্পষ্ট হয় এবং সাহিত্য সম্পর্কে সমালোচনামূলক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠে।

লালসালু উপন্যাস সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর

সৃজনশীল প্রশ্ন-১: মফিজ আলীর কোনো স্থির পেশা ছিল না। তার বাবা আরজ আলী ভূমিহীন কৃষক ছিল। ছেলেকে তিনি কলেজে পড়ানোর জন্য ঢাকায় পাঠিয়েছিলেন। ঢাকায় গিয়ে মফিজ পড়ালেখা বাদ দিয়ে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। কথায় কথায় বলে আল্লাহ বলে কেউ নেই। এক সময় তার বাবা টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেয়। দেখতে দেখতে তার চাকরির বয়সও শেষ হয়ে যায়। তারপর সে ফিরে আসে তার গ্রামে। মফিজ আলীর বর্তমান নাম হযরত শাহ সুফী মফীজ আলী ফরিদপুরী (র.)। কামেল পীর হিসেবে তার খ্যাতি এখনও দেশ জোড়া।

ক. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ কত সালে জন্মগ্রহণ করেন?
খ. ‘তাই তারা ছোটে, ছোটে।’ কেন ছোটে?
গ. উদ্দীপকের মফিজ আলীর সাথে মজিদের তুলনামূলক আলোচনা কর।
ঘ. সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদ চরিত্রের মধ্য দিয়ে কী ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন তা ব্যাখ্যা কর।

ক. উত্তর: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ১৯২২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।

খ. উত্তর: ‘তাই তারা ছোটে, ছোটে’ বলতে শস্যহীন অঞ্চলের ক্ষুধার্ত মানুষের কাজের সন্ধানে বা বাঁচার তাগিদে দেশান্তরী হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।

নোয়াখালী ও সংলগ্ন অঞ্চলের জমি ছিল অনুর্বর এবং সেখানে জনসংখ্যার তুলনায় খাদ্যের অভাব ছিল প্রকট। অভাবের তাড়নায় এই অঞ্চলের মানুষগুলো দিশেহারা হয়ে পড়ে। পেটের ক্ষুধা মেটানোর জন্য এবং একটু সচ্ছলতার আশায় তারা নিজ ভিটেমাটি ছেড়ে অজানা গন্তব্যের দিকে ছুটে চলে। এই নিরন্তর সংগ্রামের বিষয়টি বোঝাতেই লেখক আলোচ্য উক্তিটি করেছেন।

গ. উত্তর: উদ্দীপকের মফিজ আলী এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ উভয়েই ধর্মের লেবাস ধরে নিজের পরিচয় পরিবর্তন করেছে, তবে তাদের প্রেক্ষাপট ও পরিণতির মধ্যে বৈসাদৃশ্য রয়েছে।

মজিদ এবং মফিজ আলী দুজনেই অভাবী ও শিকড়হীন মানুষ। মজিদ গারো পাহাড়ের শস্যহীন অঞ্চল থেকে এসে মহব্বতনগর গ্রামে একটি পরিত্যক্ত কবরকে ‘মোদাচ্ছের পীরের মাজার’ হিসেবে ঘোষণা করে নিজের ভাগ্য পরিবর্তন করে। সে ধর্মকে পুঁজি করে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি ও অন্ন-বস্ত্রের সংস্থান করে। উদ্দীপকের মফিজ আলীও অভাবের তাড়নায় এবং রাজনৈতিক আদর্শে ব্যর্থ হয়ে গ্রামে ফিরে এসে পীর সেজে নিজের পরিচয় পাল্টে ফেলে।

তবে মূল পার্থক্য হলো তাদের উদ্দেশ্য ও পরিণতিতে। মজিদের ভণ্ডামি ছিল সুপরিকল্পিত এবং অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। সে আমৃত্যু মিথ্যা ও ভয়ের রাজত্ব কায়েম করে টিকে থাকতে চেয়েছে। অন্যদিকে উদ্দীপকের মফিজ আলীর চরিত্রটি সমাজ ও রাজনীতির নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একপর্যায়ে কামেল পীর হিসেবে পরিচিতি পায়। মজিদের চরিত্রের মূল ভিত্তি যেখানে শঠতা ও চাতুর্য, মফিজ আলীর পরিবর্তনটি উদ্দীপকে পরিস্থিতির শিকার হিসেবে দেখানো হয়েছে।

ঘ. উত্তর: সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ ‘লালসালু’ উপন্যাসে মজিদ চরিত্রের মধ্য দিয়ে মূলত ধর্মীয় শঠতা, ভণ্ডামি এবং ধর্মের অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ওপর আধিপত্য বিস্তারের কুৎসিত রূপটি ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন।

মজিদ কোনো অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী নয়, বরং সে অত্যন্ত ধূর্ত ও মনস্তাত্ত্বিক কৌশলে পারদর্শী এক মানুষ। সে জানে মহব্বতনগর গ্রামের মানুষ সহজ-সরল এবং ধর্মভীরু। তাদের এই দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে সে মিথ্যার ওপর ভিত্তি করে মাজার প্রতিষ্ঠা করে। মজিদ চরিত্রের মাধ্যমে লেখক দেখিয়েছেন কীভাবে ধর্মকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এক শ্রেণির মানুষ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করে এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী হয়।

পুরো উপন্যাসে মজিদ তার অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে প্রতিনিয়ত ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয়। সে খালেক ব্যাপারীর মতো প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রণ করে এবং সাধারণ মানুষের মনে পাপের ভয় ঢুকিয়ে দিয়ে তাদের শাসন করে। এমনকি নিজের অপকর্ম আড়াল করতে সে ধর্মের দোহাই দেয়। লেখকের মূল লক্ষ্য ছিল মজিদ চরিত্রের এই নির্লজ্জ সুবিধাবাদিতা এবং ধর্মের নামে সাধারণ মানুষের ওপর যে শোষণ চলে, তার স্বরূপ উন্মোচন করা। অর্থাৎ, মজিদ এখানে ব্যক্তি মাত্র নয়, সে হলো শোষক ও ধর্মব্যবসায়ী শ্রেণির এক জীবন্ত প্রতীক।

সৃজনশীল প্রশ্ন-২: বিধবা, নিঃসন্তান জয়তুন বেগমের সংসার আর চলছিল না। একদিন মাঝরাতে তিনি চিৎকার করে ঘুম থেকে জেগে উঠলেন এবং তারপর থেকেই তার সব আচরণ অস্বাভাবিক। দয়ারামপুর গ্রামের মানুষ বলাবলি করছে, স্বপ্নে তিনি এক বুজুর্গ ব্যক্তির কামিয়াবি হাসিল করেছেন। সবাই তার কাছে পানিপড়া আনতে যায়। জয়তুন বেগমের আয় রোজগার মাশাল্লা মন্দ নয়।

See More  ১৫০+ লালসালু উপন্যাস MCQ প্রশ্নের উত্তর 2026

ক. ‘সালু’ শব্দের অর্থ কী?
খ. হাসুনির মা দ্বিতীয় বিয়ে করতে অনাগ্রহী কেন?
গ. মজিদ এবং উদ্দীপকের জয়তুন বেগমের তুলনামূলক আলোচনা কর।
ঘ. উদ্দীপকের উল্লিখিত জয়তুন বেগম চরিত্রটি বিশ্লেষণ কর।

ক. উত্তর: ‘সালু’ শব্দের অর্থ হলো এক ধরনের লাল রঙের কাপড়।

খ. উত্তর: হাসুনির মা মূলত তার প্রথম স্বামী এবং নিজের জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণেই দ্বিতীয় বিয়ে করতে অনাগ্রহী।

হাসুনির মা তার আগের সংসারে চরম লাঞ্ছনা ও অভাব দেখেছে। তার বাবা (তমিজের বাপ) অত্যন্ত স্বার্থপর ছিল এবং তার মাকেও সে ঠিকমতো ভরণপোষণ দিত না। এই অভাবী ও অশান্তিময় জীবনের স্মৃতি তাকে এতটাই ভীত করে তুলেছে যে, নতুন করে কোনো পুরুষের ওপর সে আস্থা রাখতে পারছে না। তার কাছে মনে হয়েছে, আবার বিয়ে করা মানেই নতুন কোনো অশান্তি বা লাঞ্ছনার শিকার হওয়া।

গ. উত্তর: ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ এবং উদ্দীপকের জয়তুন বেগম উভয়েই অভাব ঘোচাতে ধর্মের অপব্যবহার এবং অলৌকিকত্বের আশ্রয় নিয়েছেন।

মজিদ যেমন নোয়াখালীর শস্যহীন অঞ্চল থেকে মহব্বতনগর গ্রামে এসে একটি বেওয়ারিশ কবরকে মাজার বানিয়ে নিজের ভাগ্য বদলেছে, জয়তুন বেগমও একইভাবে নিজের অভাব মেটাতে অলৌকিক স্বপ্ন দেখার নাটক করেছেন। মজিদ মানুষের ধর্মভীরুতাকে কাজে লাগিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ ও প্রতিপত্তি অর্জন করে। জয়তুন বেগমও ‘বুজুর্গ ব্যক্তির কামিয়াবি হাসিল’ করার কথা বলে মানুষের সরল বিশ্বাসকে পুঁজি করে ‘পানিপড়া’ দেওয়ার ব্যবসা শুরু করেছেন।

তবে তাদের মধ্যে একটি বড় পার্থক্য হলো কৌশল ও ব্যাপ্তি। মজিদ ছিল অত্যন্ত ধূর্ত এবং সে সুপরিকল্পিতভাবে একটি সামাজিক কাঠামো গড়ে তুলেছিল যেখানে তার একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় থাকে। অন্যদিকে জয়তুন বেগমের কর্মকাণ্ড কেবল নিজের পেট চালানোর ক্ষুদ্র গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ। মজিদ ধর্মকে রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতার হাতিয়ার বানিয়েছে, আর জয়তুন বেগম একে কেবল তাৎক্ষণিক উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন।

ঘ. উত্তর: উদ্দীপকের জয়তুন বেগম চরিত্রটি মূলত সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার এবং ধর্মকে পুঁজি করে জীবিকা নির্বাহের এক করুণ ও শঠতাপূর্ণ বাস্তবতাকে ফুটিয়ে তুলেছে।

জয়তুন বেগম বিধবা ও নিঃসন্তান হওয়ায় তার কোনো অবলম্বন ছিল না। চরম দারিদ্র্য থেকে বাঁচতে তিনি অস্বাভাবিক আচরণের মাধ্যমে নিজেকে ‘আধ্যাত্মিক শক্তির অধিকারী’ হিসেবে জাহির করেন। তার এই পরিবর্তন কোনো সত্য ঘটনা নয়, বরং এটি অস্তিত্ব রক্ষার একটি মরিয়া চেষ্টা। গ্রামের মানুষ সচেতনতার অভাবে তার এই অভিনয়কে সত্য বলে ধরে নেয়, যা আমাদের গ্রামীণ সমাজের অন্ধকার দিকটি স্পষ্ট করে।

মজিদের মতো জয়তুন বেগমও জানেন যে, এ দেশের সাধারণ মানুষ অলৌকিক শক্তিতে অন্ধ বিশ্বাস রাখে। তিনি বুঝতে পেরেছেন পরিশ্রম করে নয়, বরং নিজেকে ‘রহস্যময়’ করে তুললেই মানুষের কাছ থেকে অর্থ পাওয়া সম্ভব। তার ‘মাশাল্লাহ ভালো আয়-রোজগার’ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে যে, সমাজে ভণ্ডামির বাজার খুব সহজেই তৈরি হয়। জয়তুন বেগম চরিত্রটি মূলত সেই সব সুবিধাবাদী মানুষের প্রতিনিধি, যারা নিজের অসহায়ত্ব ঢাকতে ধর্মের লেবাস ধরে সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করে।

সৃজনশীল প্রশ্ন-৩: কাশেম মুন্সি মসজিদের মুয়াজ্জিন হিসেবে যখন চাকরি নিয়েছিল পনেরো বছর আগে, তখনও সে বিয়ে করেনি। ইতোমধ্যে সে বিয়ে করেছে, তিন কন্যা এবং দুটি পুত্রের পিতা হয়েছে কিন্তু বেতন বেড়ে মাত্র দুই হাজার টাকা হয়েছে। সামান্য টাকায় তার সংসার চলে না। কাশেম মুন্সি তাই বাড়তি আয়ের জন্যে গরিব মানুষকে ‘পানিপড়া’ দেয়, যদিও সে জানে এতে কোনো কাজ হয় না এবং এটা অনৈসলামিক কাজ; তবু সে এটা করে। কাজটা করতে তার খারাপ লাগে, তবু সে করে।

ক. মতলুব খাঁ কে?
খ. ‘মজিদ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। যোগসূত্র হচ্ছে রহিমা।’Ñ কেন?
গ. উদ্দীপকের কাশেম মুন্সি চরিত্রটির সাথে মজিদ চরিত্রের মিল-অমিল কোথায়?
ঘ. ‘লালসালু’ উপন্যাস পাঠ করে মজিদ চরিত্রটি সম্পর্কে তোমার কি ধরনের প্রতিক্রিয়া জেগেছে?

ক. উত্তর:

মতলুব খাঁ হলেন ‘লালসালু’ উপন্যাসে বর্ণিত মহব্বতনগর গ্রামের এক প্রভাবশালী ব্যক্তি, যাঁর বিশাল বাড়ি এবং আভিজাত্যের উল্লেখ রয়েছে।

খ. উত্তর:

‘মজিদ ধরা-ছোঁয়ার বাইরে। যোগসূত্র হচ্ছে রহিমা’ বলতে বোঝানো হয়েছে যে, মজিদ সরাসরি সাধারণ মানুষের সংস্পর্শে না গিয়ে তার স্ত্রী রহিমার মাধ্যমে নিজের আধিপত্য বজায় রাখে।

মজিদ নিজেকে একজন আধ্যাত্মিক ও গম্ভীর পুরুষ হিসেবে উপস্থাপন করে, যাতে গ্রামের মানুষের মনে তার প্রতি সম্ভ্রম ও ভয় কাজ করে। সে সাধারণ নারী-পুরুষের সাথে সরাসরি আলাপচারিতায় যায় না। অন্যদিকে, তার স্ত্রী রহিমা গ্রামের নারীদের সাথে মেশে এবং মজিদের নির্দেশগুলো তাদের কাছে পৌঁছে দেয়। মজিদকে গ্রামের মানুষ অনেকটা রহস্যময় ও ধরা-ছোঁয়ার বাইরের মানুষ মনে করে, আর রহিমা কাজ করে মজিদ ও গ্রামবাসীর মধ্যকার একটি সেতুবন্ধন বা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে।

See More  50+ মাসি পিসি গল্পের MCQ প্রশ্নের উত্তর ২০২৬

গ. উত্তর:

উদ্দীপকের কাশেম মুন্সি এবং ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ উভয়েই অভাবের তাড়নায় ধর্মের অপব্যবহার করেছেন, তবে তাদের নৈতিক অবস্থান ও চারিত্রিক দৃঢ়তায় বড় ধরনের অমিল রয়েছে।

মিল: উভয় চরিত্রই জীবিকা নির্বাহের জন্য ধর্মের লেবাস বা ধর্মীয় অনুষঙ্গকে ব্যবহার করেছেন। মজিদ যেমন একটি মাজারকে কেন্দ্র করে তার জীবন সাজিয়েছে, কাশেম মুন্সিও তেমনি অভাবের কারণে ‘পানিপড়া’ দেওয়ার মতো কাজ বেছে নিয়েছে। দুজনেরই মূল লক্ষ্য ছিল আর্থিক সচ্ছলতা অর্জন করা।

অমিল: মজিদ এবং কাশেম মুন্সির মধ্যে প্রধান অমিল হলো তাদের ‘বিবেকবোধ’। কাশেম মুন্সি জানেন যে পানিপড়া দেওয়া একটি ‘অনৈসলামিক কাজ’ এবং এতে কোনো কাজ হয় না; এই কাজ করতে গিয়ে তার ভেতরে অপরাধবোধ বা খারাপ লাগা কাজ করে। অর্থাৎ তার মধ্যে নৈতিকতা এখনও অবশিষ্ট আছে। অন্যদিকে মজিদ ছিল পুরোপুরি ধূর্ত এবং বিবেকহীন। সে মহব্বতনগর গ্রামে মিথ্যা মাজার প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে ঠকানোর সময় কখনো অনুশোচনায় ভোগেনি। মজিদ তার ভণ্ডামিকে ক্ষমতার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে, কিন্তু কাশেম মুন্সি এটি করেছেন স্রেফ পেটের দায়ে বাধ্য হয়ে।

ঘ. উত্তর:

‘লালসালু’ উপন্যাস পাঠ করে মজিদ চরিত্রটি সম্পর্কে আমার মনে এক ধরনের মিশ্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে, যা মূলত ঘৃণা এবং তার টিকে থাকার লড়াইয়ের প্রতি এক ধরণের বিস্ময়।

মজিদ কোনো জন্মগত অপরাধী নয়, বরং সে প্রতিকূল পরিবেশ ও দারিদ্র্যের শিকার। তার নিজের ভাষায়, “শস্যহীন জনপদে” মানুষের হাহাকার তাকে দেশান্তরী হতে বাধ্য করেছিল। অস্তিত্ব রক্ষার এই লড়াইটি মানবিক মনে হলেও, সে যে পথ বেছে নিয়েছে তা চরম নিন্দনীয়। সে ধর্মের মতো পবিত্র একটি বিষয়কে পুঁজি করে নিজের মিথ্যা রাজত্ব কায়েম করেছে।

মজিদ চরিত্রটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:

  • ধর্ম ব্যবসায়ী: সে সাধারণ মানুষের সরলতা ও পরকালের ভয়কে কাজে লাগিয়ে নিজের আখের গুছিয়েছে।

  • স্বৈরাচারী মানসিকতা: গ্রামের কেউ তার বিরুদ্ধে কথা বললে বা নতুন কোনো মতবাদ (যেমন: আক্কাস আলীর স্কুল) নিয়ে এলে সে কৌশলে তা দমন করে।

  • মনস্তাত্ত্বিক চাতুর্য: সে জানে কখন রাগ করতে হয় এবং কখন দয়া দেখাতে হয়। এই চতুরতা তাকে অপরাজেয় করে রেখেছে।

সব মিলিয়ে মজিদ চরিত্রটি আমাদের সমাজের সেই শোষক শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব করে, যারা ধর্মের মোড়কে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে। তার প্রতি আমার কোনো সহানুভূতি জাগেনি, বরং তার ভণ্ডামি ও সাধারণ মানুষকে শোষণের কৌশল দেখে তীব্র ক্ষোভ ও ঘৃণার উদ্রেক হয়েছে।

সৃজনশীল প্রশ্ন-৪: ওয়াসিকা গ্রামের এক দুরন্ত মেয়ে। বন্ধুদের সঙ্গে ছুটোছুটি করা, অবাধে সাঁতার কাটা তার আনন্দের কাজ। তার বাবা অভাবের তাড়নায় ওয়াসিকাকে পাশের গ্রামের এক বুড়ো লোকের সাথে বিয়ে দিয়ে দিলেন। লোকটি গ্রামের মাতব্বর। তাকে সবাই একাব্বর মুন্সি বলে ডাকে। মুন্সির কথা গ্রামের সবাই মানলেও চঞ্চল ও স্বাধীনচেতা ওয়াসিকা তার কথা মানে না।

ক. ধলা মিয়া কেমন ধরনের মানুষ ছিল?
খ. ‘সজোরে নড়তে থাকা পাখাটার পানে তাকিয়ে সে মূর্তিবৎ বসে থাকে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. ওয়াসিকা ‘লালসালু’ উপন্যাসের জমিলার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ-ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকের একাব্বর মুন্সি ‘লালসালু’ উপন্যাসের মজিদ চরিত্রের সামগ্রিক দিক ধারণ করেনি-মূল্যায়ন কর।

সৃজনশীল প্রশ্ন-৫: প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেসা বড্ড ঘুমকাতুরে। নয়টা পাঁচটা অফিস করে বাসায় ফিরলেই তার ঘুম পায়। পনেরো বছর যাবৎ তিনি সংসারের ঘানি টানছেন। স্বামী আবিদুর রহমান এম.এসসি পাস হলেও ঘরে বসে থাকেন। চাকরি নাকি পরের গোলামি। তার কাজ সারাদিন টেলিভিশনে হিন্দি নাচগান দেখা। গতকাল এশার নামাজ না পড়েই ফজিলাতুন নেসা ঘুমিয়ে পড়েছিলেন বলে আবিদুর রহমান তাকে অনেক গালমন্দ করেন। ভদ্রমহিলা সারারাত নফল নামাজ পড়ে পরের দিন অফিসে গেছেন।

ক. মহব্বতনগর গ্রামে মজিদকে সবার আগে কে দেখেছিল?
খ. আমেনা বিবির পা দেখে মজিদের গলার কারুকার্য আরো সূক্ষ্ম হয় কেন?
গ. উদ্দীপকের ফজিলাতুন নেসার সাথে ‘লালসালু’ উপন্যাসের রহিমা চরিত্রটির তুলনামূলক আলোচনা কর।
ঘ. ঔপন্যাসিক সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ তাঁর ‘লালসালু’ উপন্যাসে রহিমা চরিত্রটি কীভাবে উপস্থাপন করেছেন তা বিশ্লেষণ কর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *