মাথা ব্যথা কমানোর উপায় জানার আগে মাথা ব্যথার ধরণ জানতে হবে। মাথা ব্যথার বিভিন্ন কারণ হতে পারে যার মধ্যে মাইগ্রেনের ব্যথা, জেনেটিক বা অন্য কোনো রোগের কারণে হতে পারে। মাথা ব্যথা কমানোর জন্য কিছু সহজ ও কার্যকর উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত ঘুম মাথা ব্যথা কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করলে ডিহাইড্রেশনজনিত মাথা ব্যথা কমে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ এড়িয়ে চলা এবং নিয়মিত বিশ্রাম নেওয়া দরকার। হালকা গরম বা ঠান্ডা সেঁক মাথায় আরাম দেয়। চোখের ওপর চাপ কমাতে স্ক্রিনের ব্যবহার সীমিত করা উচিত।
সাইনাসের মাথা ব্যথা কমানোর উপায়
মাথা ব্যথা আমাদের প্রতিদিনের জীবনের খুব সাধারণ একটি সমস্যা। এটি যেমন সাধারণ, তেমনি মাঝে মাঝে এটি অসহ্য হয়ে ওঠে। মাথাব্যথা শুরু হলে কাজে মন দেওয়া তো দূরে থাক, স্বাভাবিকভাবে কথা বলাও কঠিন হয়ে পড়ে। আমরা অনেকেই ব্যথানাশক ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ি, যা দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
১. পর্যাপ্ত পানি পান করা
ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা মাথাব্যথার অন্যতম প্রধান কারণ। যখন শরীরে পানির অভাব হয়, তখন মস্তিষ্ক সাময়িকভাবে সংকুচিত হয়ে রক্তনালী থেকে দূরে সরে আসে, যা ব্যথার সৃষ্টি করে।
করণীয়: মাথাব্যথা শুরু হলে প্রথমেই এক গ্লাস পানি পান করুন। সারাদিনে অন্তত ২-৩ লিটার পানি পান করার অভ্যাস করুন। তবে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় বা অতিরিক্ত মিষ্টি পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।
২. ম্যাগনেসিয়াম সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ
গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ঘনঘন মাইগ্রেন বা তীব্র মাথাব্যথা হয়, তাদের শরীরে ম্যাগনেসিয়ামের অভাব থাকতে পারে। ম্যাগনেসিয়াম রক্তনালীকে শিথিল করতে এবং স্নায়ুর উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করে।
উৎস: পালং শাক, কুমড়োর বীজ, ডার্ক চকলেট, কলা এবং বাদাম ম্যাগনেসিয়ামের চমৎকার উৎস। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নেওয়া যেতে পারে।
৩. আদা চায়ের জাদুকরী ভূমিকা
আদাকে বলা হয় প্রাকৃতিক অ্যাসপিরিন। এতে থাকা ‘জিঞ্জেরল’ নামক উপাদান মস্তিষ্কের প্রদাহ কমায় এবং রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখে। এটি মাইগ্রেনের কারণে হওয়া বমি ভাব কমাতেও সমান কার্যকর।
পদ্ধতি: এক কাপ গরম পানিতে কয়েক টুকরো আদা ফুটিয়ে চা বানিয়ে পান করুন। দ্রুত ফল পেতে আদার রসের সাথে সামান্য মধু মিশিয়ে নিতে পারেন।
৪. এসেনশিয়াল অয়েলের ব্যবহার
ল্যাভেন্ডার এবং পিপারমিন্ট অয়েল মাথাব্যথা উপশমে দারুণ কাজ করে। পিপারমিন্ট অয়েলে থাকা মেন্থল পেশি শিথিল করে এবং ল্যাভেন্ডারের সুবাস মানসিক চাপ কমিয়ে প্রশান্তি আনে।
ব্যবহার: কয়েক ফোঁটা অয়েল কপালে এবং রগ (temples) এর ওপর হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন। এছাড়া রুমালে নিয়ে ঘ্রাণ নিলেও উপকার পাবেন।
৫. পর্যাপ্ত ঘুম ও বিশ্রামের ভারসাম্য
অনিদ্রা বা ঘুমের অনিয়ম মাথাব্যথার খুব বড় একটি কারণ। আবার খুব বেশি ঘুমালেও মাথা ভার হয়ে থাকতে পারে।
টিপস: প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যান এবং অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করুন। শোবার ঘর যেন অন্ধকার এবং শান্ত থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
৬. চোখের ওপর চাপ কমানো
বর্তমান যুগে আমরা দীর্ঘক্ষণ মোবাইল বা কম্পিউটারের স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকি। একে বলা হয় ‘ডিজিটাল আই স্ট্রেইন’, যা থেকে প্রচণ্ড মাথাব্যথা হতে পারে।
২০-২০-২০ নিয়ম: প্রতি ২০ মিনিট পর পর ২০ ফুট দূরের কোনো বস্তুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকুন। এতে চোখের পেশি বিশ্রাম পায়।
৭. সেঁক দেওয়া
ব্যথার ধরণ অনুযায়ী ঠান্ডা বা গরম সেঁক বেশ আরামদায়ক হতে পারে।
ঠান্ডা সেঁক: মাইগ্রেন বা তীব্র ব্যথার ক্ষেত্রে ঘাড়ের পেছনে বা কপালে বরফ কাপড় দিয়ে পেঁচিয়ে ১০-১৫ মিনিট রাখুন। এটি রক্তনালী সংকুচিত করে ব্যথা কমায়।
গরম সেঁক: স্ট্রেস বা উত্তেজনার কারণে হওয়া ব্যথার ক্ষেত্রে গরম জলের ব্যাগ ঘাড়ে বা মাথায় দিলে পেশি শিথিল হয়।
৮. সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং ক্যাফেইন নিয়ন্ত্রণ
কিছু খাবার যেমন অতিরিক্ত চিজ, প্রক্রিয়াজাত মাংস বা কৃত্রিম চিনি অনেক সময় মাথাব্যথা ট্রিগার করে। অন্যদিকে, সামান্য ক্যাফেইন (চা বা কফি) মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করলেও এর মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার উল্টো ফল দিতে পারে।
পরামর্শ: আপনার যদি কফি খাওয়ার অভ্যাস থাকে এবং হঠাৎ তা বন্ধ করে দেন, তবে ‘ক্যাফেইন উইথড্রয়াল’ মাথাব্যথা হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে অভ্যাস পরিবর্তন করুন।
৯. যোগব্যায়াম এবং প্রাণায়াম
মানসিক চাপের কারণে হওয়া মাথাব্যথা কমাতে যোগব্যায়ামের বিকল্প নেই। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা প্রাণায়াম করলে মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ে।
পদ্ধতি: শান্ত হয়ে বসে চোখ বন্ধ করে ধীরে ধীরে নাক দিয়ে লম্বা শ্বাস নিন এবং মুখ দিয়ে ছাড়ুন। এটি নিয়মিত করলে দীর্ঘমেয়াদী মাথাব্যথা কমে আসে।
কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?
সব মাথাব্যথাই সাধারণ নয়। যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে ঘরোয়া চিকিৎসার ওপর নির্ভর না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন:
-
হঠাৎ করে তীব্র ও অসহ্য ব্যথা শুরু হলে।
-
মাথাব্যথার সাথে কথা জড়িয়ে যাওয়া বা চোখে ঝাপসা দেখা দিলে।
-
মাথায় চোট পাওয়ার পর ব্যথা শুরু হলে।
-
ব্যথার সাথে জ্বর এবং ঘাড় শক্ত হয়ে গেলে।
এই ছিলো মাথা ব্যথা কমানোর উপায়। মাথাব্যথা মুক্ত জীবন যাপনের জন্য প্রয়োজন একটি সুশৃঙ্খল জীবনধারা। সঠিক সময়ে খাবার খাওয়া, পর্যাপ্ত পানি পান এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকা এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান। ঘরোয়া উপায়গুলো অনুসরণ করলে আপনি শুধু সাময়িক আরাম পাবেন না, বরং ব্যথানাশক ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া থেকেও বাঁচবেন।

