১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পশ্চিম পাকিস্তানের কাছ থেকে আমরা বিজয় অর্জন করি। ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের বক্তব্য দিয়ে আমরা সেই সকল শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারব যাদের জীবনের বিনিময়ে আমরা বিজয় অর্জন করেছিলাম। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে অনেক জায়গায় বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়ে থাকে সেই সাথে আমরা অনেকেই বক্তব্য দেই কিন্তু ভালো বক্তব্য খুঁজে পায় না। তাদের জন্য আমাদের এখানে কিছু সুন্দর বক্তব্য তুলে ধরা হলো।
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস বক্তব্য শিক্ষার্থীদের
বক্তব্য-১
মাননীয় সভাপতি, উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকামণ্ডলী, সম্মানিত অভিভাবক এবং আমার প্রিয় সহপাঠীরা,
আসসালামু আলাইকুম।
আজ ১৬ই ডিসেম্বর, আমাদের জাতীয় জীবনের এক অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল দিন মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের পর আমরা অর্জন করেছিলাম আমাদের প্রিয় স্বাধীনতা। আজ আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় সেই বীর শহীদদের স্মরণ করছি, যাঁদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ আর প্রাণের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন একটি দেশ, একটি লাল-সবুজ পতাকা।
স্বাধীনতার ডাকে সাড়া দিয়ে এ দেশের আপামর জনতা ঝাঁপিয়ে পড়েছিল মুক্তিযুদ্ধে। ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত, দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রম এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম সাহসিকতার ফল এই বিজয়।
শিক্ষার্থী হিসেবে আমাদের মনে রাখতে হবে, এই বিজয় শুধু একটি দিন নয়; এটি আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতীক, আত্মমর্যাদার দলিল। আমরা যেন ভুলে না যাই, কী কষ্ট আর ত্যাগের মধ্য দিয়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে।
আমরা কোনো অবস্থাতেই যেন সাম্প্রদায়িকতা, দুর্নীতি বা অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করি। বীর শহীদদের স্বপ্ন ছিল একটি সোনার বাংলা, যেখানে থাকবে না কোনো বৈষম্য। সেই স্বপ্ন পূরণের দায়িত্ব এখন আমাদের কাঁধে।
আসুন, আমরা সকলে মিলে প্রতিজ্ঞা করি আমরা স্বাধীন বাংলাদেশের মর্যাদা রক্ষা করব এবং দেশের সঠিক ইতিহাস ও চেতনাকে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে ছড়িয়ে দেব।
সবাইকে বিজয় দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা।
বক্তব্য -২
মাননীয় সভাপতি, মঞ্চে উপস্থিত শিক্ষক-শিক্ষিকামণ্ডলী, সম্মানিত অতিথিবৃন্দ এবং আমার প্রাণপ্রিয় সহপাঠীরা,
আজ ১৬ই ডিসেম্বর, আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক অবিস্মরণীয় দিন মহান বিজয় দিবস। এই দিনটি আমাদের একটি স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম শেষে বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল এ দেশের মুক্তিপাগল জনতা।
আমাদের মনে রাখতে হবে, এই বিজয় সহজ ছিল না। এটি এসেছে লক্ষ লক্ষ মানুষের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ, মা-বোনের সম্ভ্রম এবং অগণিত মানুষের সীমাহীন কষ্টের বিনিময়ে। একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বপ্ন বুকে নিয়েই বাংলার সাহসী সন্তানেরা জীবন বাজি রেখেছিলেন। তাঁরা কোনো ভয়কে পরোয়া করেননি, কারণ তাঁদের হৃদয়ে ছিল দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা আর মুক্তির অদম্য আকাঙ্ক্ষা।
আজ এই দিনে আমরা সেই সব বীর শহীদ ও মুক্তিযোদ্ধাদের গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তাঁরাই আমাদের এই লাল-সবুজ পতাকার স্থপতি। আমরা যেন সেই আত্মত্যাগের মহিমাকে কখনো ভুলে না যাই। এই বিজয় দিবস আমাদের শেখায় অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে এবং দেশকে সবার আগে রাখতে।
বিজয় দিবসের এই চেতনাকে ধারণ করে আমরা যেন সবাই মিলে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও প্রগতিশীল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিই।
বক্তব্য-৩
মাননীয় সভাপতি, সম্মানিত অতিথি ও শিক্ষক মণ্ডলী এবং প্রিয় সহপাঠীবৃন্দ,
মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আপনাদের সামনে কিছু কথা বলার সুযোগ পাওয়ায় আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি। এই ১৬ই ডিসেম্বর আমাদের জাতীয় জীবনে এক অনন্য গৌরবের দিন। এই দিনে আমরা পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে অর্জন করেছিলাম আমাদের আকাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
মুক্তিযুদ্ধ ছিল একটি জনযুদ্ধ, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সকল বাঙালি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নিয়েছিল। এটি প্রমাণ করে, যখন একটি জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন কোনো শক্তিই তাকে পরাজিত করতে পারে না।
বিজয় দিবসের এই দিনে আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব। একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে আমাদের এগিয়ে যেতে হলে সব ভেদাভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আমাদের সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
প্রিয় বন্ধুরা, আমরা যেন আমাদের মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ গণতন্ত্র, সাম্য ও মানবতাকে কখনো ভুল না যাই। এই মূল্যবোধগুলোই আমাদের জাতিসত্তার ভিত্তি। নতুন প্রজন্ম হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো এই ঐক্যের বন্ধনকে আরও দৃঢ় করা এবং একটি প্রগতিশীল জাতি হিসেবে বিশ্ব দরবারে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা।
আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করি।
ধন্যবাদ।
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের বক্তব্য রাজনৈতিক
বক্তব্য – ১
মাননীয় সভাপতি, মঞ্চে উপস্থিত শ্রদ্ধেয় নেতৃবৃন্দ, দেশপ্রেমিক ভাই ও বোনেরা,
আজ ১৬ই ডিসেম্বর, আমাদের মহান বিজয় দিবস। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ও লাখো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই দিনটি আমাদের জাতীয় জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এই দিনে আমরা স্মরণ করি স্বাধীনতার মূল চেতনাকে: যা ছিল গণতন্ত্র, মানুষের ভোটাধিকার এবং মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ঘোষিত স্বাধীনতার ডাকে অনুপ্রাণিত হয়ে এ দেশের আপামর জনতা মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।
আজও আমাদের সংগ্রাম শেষ হয়নি। দেশের জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য। মহান বিজয় দিবসের এই পুণ্যলগ্নে, আমরা শপথ নিচ্ছি—একটি শোষণমুক্ত, গণতান্ত্রিক ও জনগণের মালিকানাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ধন্যবাদ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।
বক্তব্য – ২
মাননীয় সভাপতি, দলের সম্মানিত সহকর্মী ও দেশবাসী,
মহান বিজয় দিবসের এই দিনে আমরা গভীর শ্রদ্ধা জানাচ্ছি মুক্তিযুদ্ধে শাহাদাত বরণকারী সকল শহীদকে। বিশেষ করে আমরা স্মরণ করছি স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে, যাঁর সাহসী নেতৃত্ব ও দূরদর্শী পরিকল্পনা আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে দিকনির্দেশনা দিয়েছে।
বিজয় দিবস আমাদের শেখায় জাতীয় ঐক্য ও সংহতি। মুক্তিযুদ্ধে সকল দল ও শ্রেণির মানুষের যে অভূতপূর্ব ঐক্য দেখা গিয়েছিল, আজ এই দিনে সেই ঐক্যের ভিত্তিতেই আমাদের আবার একসাথে দাঁড়াতে হবে।
দেশের গণতন্ত্র আজ সঙ্কটে। মানুষের কণ্ঠস্বর রুদ্ধ। এই অবস্থায়, জাতীয়তাবাদী শক্তির ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, শহীদ জিয়ার আদর্শকে সামনে রেখে এবং জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা আবারও দেশের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনব এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।
ধন্যবাদ। আমরা সবাই জিয়া, আমরা সবাই দেশপ্রেমিক।
বক্তব্য – ৩
মাননীয় সভাপতি, প্রিয় উপস্থিতি,
বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা। এই দিনে আমরা যখন স্বাধীনতার সুবর্ণ ফসল ভোগ করছি, তখন প্রশ্ন জাগে—যে আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল, তা কি সম্পূর্ণ পূরণ হয়েছে?
মুক্তিযুদ্ধের প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজনৈতিক স্বাধীনতার পাশাপাশি অর্থনৈতিক মুক্তি এবং জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, বর্তমানে দেশের মানুষ ভোটাধিকার বঞ্চিত এবং অর্থনীতিতে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা।
আমরা এই বিজয়ের মাসে ঘোষণা করছি: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনার জন্য, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করার জন্য এবং একটি জনবান্ধব কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক সংগ্রাম চালিয়ে যাবে। জনগণের আস্থা এবং ভালোবাসা নিয়ে আমরা এই দেশকে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও সত্যিকারের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে পরিণত করব।
আসুন, আমরা সকলে মিলে বিজয় দিবসের চেতনাকে অর্থবহ করে তুলি।
ধন্যবাদ। আসুন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করি।

