পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাবসম্প্রসারণ লিখতে বাক্য বা পঙ্ক্তিকে কেন্দ্র করে তার ভেতরের গূঢ় অর্থ, গভীরতা এবং জীবনের সঙ্গে তার সম্পর্ককে ফুটিয়ে তোলা। এটি মূলত তিনটি ধাপে করা হয়:
১. মূল ভাব: প্রথমে প্রদত্ত উক্তিটির সরাসরি অর্থ বা মূল বক্তব্যটি সংক্ষেপে লেখা হয়।
২. সম্প্রসারিত ভাব: এরপর মূল ভাবটিকে বিশ্লেষণ করে তার পেছনের তত্ত্ব, যুক্তি ও তাৎপর্য ব্যাখ্যা করা হয়। উদাহরণ, উপমা বা বাস্তব জীবনের ঘটনার সাহায্যে এই ভাবটিকে বিস্তৃত করা হয়।
৩. মন্তব্য: সবশেষে, এই ভাবটির দ্বারা মানবজীবনে যে শিক্ষা বা বার্তা দেওয়া হয়েছে, তা একটি সংক্ষিপ্ত ও উপসংহারমূলক বাক্যে তুলে ধরা হয়।
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি ভাবসম্প্রসারণ

মূলভাবঃ পরিশ্রম বা কঠোর প্রচেষ্টাই হলো সৌভাগ্য বা সফলতার জন্মদাত্রী। জগতে যা কিছু মহৎ, সুন্দর ও কল্যাণকর, তার মূলে রয়েছে মানুষের অক্লান্ত কর্মপ্রচেষ্টা।
সম্প্রসারিত ভাবঃ মানুষের জীবনে সফলতা বা সৌভাগ্য কখনও অলসভাবে অপেক্ষা করে আসে না। কপাল চাপড়ে ভাগ্যের দোহাই দিয়ে বসে থাকা মানুষের জন্য সফলতা সুদূর পরাহত। জীবন হলো একটি যুদ্ধক্ষেত্র; এখানে টিকে থাকতে হলে এবং নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে হলে নিরন্তর সংগ্রাম করে যেতে হয়।
পরিশ্রম কেবল শারীরিক হতে পারে না, এটি মানসিকও হতে পারে। একজন কৃষক যেমন মাঠে কঠোর শ্রম দিয়ে ফসল ফলায়, ঠিক তেমনি একজন বিজ্ঞানী ল্যাবরেটরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানসিক শ্রম দিয়ে নতুন আবিষ্কার করেন, বা একজন শিক্ষার্থী গভীর মনোযোগ দিয়ে অধ্যয়ন করে ভালো ফলাফল করে। এই সব ক্ষেত্রেই সাফল্যের বীজ লুকিয়ে থাকে তার পেছনের ত্যাগ ও ত্যাগের মাধ্যমে।
ইতিহাস সাক্ষী, পৃথিবীর সব বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব তাঁরা হন শিল্পী, সাহিত্যিক, নেতা বা গবেষক প্রত্যেকেই তাঁদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে সফলতা পেয়েছেন অধ্যবসায় ও পরিশ্রমের মাধ্যমে। আলস্যকে প্রশ্রয় দেওয়া মানে নিজের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া।
মন্তব্যঃ তাই পরিশ্রমকে কখনও বোঝা মনে করা উচিত নয়। এটি আসলে সৌভাগ্য বা উন্নতির চাবিকাঠি। জীবনে সত্যিকারের সুখ ও সফলতা লাভ করতে হলে আমাদের অবশ্যই আলস্য ত্যাগ করে কর্মঠ হতে হবে এবং সঠিক পথে কঠোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। যারা পরিশ্রমী, সৌভাগ্য সর্বদা তাদেরই বরণ করে নেয়।

