বর্তমানে বেশ কিছু পাঠকের কাছে জনপ্রিয় পদ্মজা উপন্যাস pdf পর্ব ১। তাই আজকে আমরা আপনাদের সাথে এই উপন্যাসের পর্ব ১ pdf শেয়ার করব। উপন্যাসের মূল চরিত্র পদ্মজা একজন সাধারণ গ্রামবাংলার নারী। তার জীবন সংগ্রাম, স্বপ্ন, ভালোবাসা ও বেদনার মধ্য দিয়ে এগিয়ে চলে। সমাজের নানা বিধিনিষেধ, পারিবারিক চাপ এবং পুরুষতান্ত্রিক বাস্তবতার মধ্যে থেকেও পদ্মজা নিজের অস্তিত্ব খুঁজে নিতে চায়। তার চরিত্রটি দৃঢ় হলেও ভেতরে রয়েছে গভীর সংবেদনশীলতা, যা তাকে আরও মানবিক করে তোলে।
পদ্মজা উপন্যাস PDF পর্ব ১
পদ্মজার জীবনে সম্পর্কের টানাপোড়েন উপন্যাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ভালোবাসা এখানে শুধু সুখের নয়, ত্যাগ আর অপেক্ষার নামও। লেখক দেখিয়েছেন, কীভাবে সামাজিক অবস্থান, অর্থনৈতিক দুর্বলতা ও মানসিক দ্বন্দ্ব মানুষের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। পদ্মজার সিদ্ধান্তগুলো সব সময় সহজ নয়, কিন্তু সেগুলো বাস্তব এবং জীবনের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত।
এই উপন্যাসের আরেকটি বড় শক্তি হলো এর পরিবেশচিত্র। গ্রামবাংলার প্রকৃতি, নদী, মাঠ, ঋতুর পরিবর্তন এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন খুব জীবন্তভাবে ফুটে উঠেছে। প্রকৃতি এখানে শুধু পটভূমি নয়, বরং চরিত্রদের অনুভূতির সঙ্গে মিশে গেছে। নদীর স্রোত যেমন থেমে থাকে না, তেমনি পদ্মজার জীবনও নানা বাধা পেরিয়ে এগিয়ে চলে।
লেখকের ভাষা সহজ, স্বাভাবিক এবং আবেগপূর্ণ। কোথাও অপ্রয়োজনীয় জটিলতা নেই। সংলাপগুলো বাস্তবসম্মত, যা চরিত্রদের আরও কাছের করে তোলে। উপন্যাসে কোনো অতিনাটকীয়তা নেই, বরং নীরব কষ্ট, চাপা অনুভূতি আর না বলা কথার মধ্য দিয়েই গল্প এগিয়েছে।
পদ্মজা উপন্যাসটি মূলত নারী জীবনের গল্প হলেও এটি শুধু নারীর নয়, মানুষের গল্প। এখানে আশা আছে, ভাঙন আছে, আবার নতুন করে দাঁড়ানোর শক্তিও আছে। পাঠক পদ্মজার সঙ্গে হাঁটে, তার কষ্ট অনুভব করে এবং তার সাহসকে সম্মান করতে শেখে।
সব মিলিয়ে, পদ্মজা একটি বাস্তবধর্মী, মানবিক ও গভীর অনুভূতির উপন্যাস। এটি পাঠককে শুধু একটি গল্প শোনায় না, বরং সমাজ, সম্পর্ক ও জীবনের দিকে নতুন করে তাকাতে শেখায়। যারা জীবনঘনিষ্ঠ সাহিত্য ভালোবাসেন, তাদের জন্য পদ্মজা নিঃসন্দেহে একটি স্মরণীয় পাঠ।
Poddoja Uponnas PDF

দরদর করে ঘামছে ফাহিমা। ক্লান্তিতে শরীর ভেঙে পড়ার উপক্রম। কপালের বিন্দু বিন্দু ঘাম হাতের তালু দিয়ে মুছে শীর্ণ পায়ে হেঁটে একটা চেয়ার টেনে বসতেই তার হাত থেকে লাঠি পড়ে মেঝেতে মৃদু শব্দ তুলল। লাঠি তোলার আগ্রহ কিংবা শক্তি কোনোটাই পেল না সে, চেয়ারে ভার ছেড়ে দিয়ে চোখ বুজল।
সবচেয়ে বেশি বিক্রিত বই অনলাইনে কিনুন ফাহিমার অত্যন্ত দক্ষ হাত, শক্তিশালী বাহু। পুরুষের মতো উচ্চতা তার। জিজ্ঞাসাবাদের দায়িত্ব পালনে সে শতভাগ সফল। আসামির মুখ থেকে কথা বের করতে যেকোনো কিছু করতে বদ্ধপরিকর সে। বড় বড় রাঘব বোয়ালরাও তার সামনে টিকতে পারে না। অপরাধীরা তার হাত থেকে বাঁচার জন্য ভেতরের সব কথা উগড়ে দেয়নি এমন ঘটনা কখনো ঘটেনি। অথচ আজ পাঁচদিন দিন যাবৎ এক অল্প বয়সী মেয়ে তার হেফাজতে থাকা সত্ত্বেও মুখ দিয়ে টু শব্দটিও করেনি।
শারীরিক, মানসিক-কোনো নির্যাতন বাকি রাখা হয়নি তবুও তার আর্তনাদ কেউ শুনতে পায়নি! যেন একটা পাথরকে লাগাতার পেটানো হচ্ছে, যার জীবন নেই, ব্যথা নেই; একটি জড়বস্তু মাত্র! এই পাথরের রক্ত ঝরে, কিন্তু জবান খোলে না।
ফাহিমা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে চাপা আক্রোশ নিয়ে মেয়েটিকে শাসাল, ‘শেষবারের মতো বলছি, মুখ খোল।’
মেয়েটি তার থেকে দুই হাত দূরে চেয়ারে বাঁধা অবস্থায় ঝিমুচ্ছে।
এক মিনিট… দুই মিনিট করে দশ মিনিট পার হয়ে গেল কিন্তু মেয়েটির থেকে কোনো জবাব এলো না। ফাহিমা হতাশাবোধ করছে। চারপাশে থমথমে নীরবতা, মেয়েটি কি নিঃশ্বাসও নেয় না?
নীরবতা ভেঙে যায় বুটের ঠকঠক শব্দে। উপস্থিত হয় ইন্সপেক্টর তুষার। তাকে দেখেই ফাহিমা উঠে দাঁড়ায়, স্যালুট করে।
তুষার পেশাদারী কণ্ঠে প্রশ্ন করে, ‘কী অবস্থা?’
ফাহিমা নিজের ব্যর্থতা প্রকাশ করার সঙ্গে চারদিনের বর্ণনা দেয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে। তুষার বহুদর্শী চোখে মেয়েটিকে দেখল তার চারপাশে ঘুরতে ঘুরতে ফাহিমাকে বলল, ‘আপনি আসুন।’
রিমান্ডে আসামিকে বিভিন্ন নির্যাতনের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদ করার ব্যাপারটা ফাহিমার কাছে ভীষণ উপভোগ্য। কিন্তু এই প্রথম সে কোনো দায়িত্ব থেকে পালাতে চাচ্ছে। ফাহিমা হাঁফ ছেড়ে বেরিয়ে যায়।
তুষার একটি চেয়ার টেনে মেয়েটির সম্মুখ বরাবর বসে। ঠান্ডা গলায় বলে, ‘আজই আমাদের প্রথম দেখা।’
সামনের মানুষটা যেভাবে ছিল সেভাবেই রইল। কিছু বলল না, তাকালও না।
তুষার বলল, ‘মা-বাবাকে মনে পড়ে?’
মা-বাবা শব্দ দুটি যেন নিস্তব্ধ তীড়ে সমুদ্রের ঢেউ নিয়ে আসে। মেয়েটি নড়ে উঠে, চোখ তুলে তাকায়। তার অপূর্ব গায়ের রং, ঘোলাটে চোখ। কাটা ঠোঁট থেকে রক্ত ঝরছে। চোখের চারপাশে গাঢ় কালো দাগ। এ নতুন নয়, মুখের এমন দশা রিমান্ডে আসা সব আসামিরই হয়।
তুষার মুখের প্রকাশভঙ্গী আগের অবস্থানে রেখে পুনরায় প্রশ্ন করল, ‘মা-বাবাকে মনে পড়ে?’
মেয়েটি বাধ্যের মতো মাথা নাড়ায়। মনে পড়ে। তুষার কিছুটা ঝুঁকে এলো।
মেয়েটির দৃষ্টিজুড়ে নীলচে যন্ত্রণা। তুষার তার হাতের বাঁধন খুলে দিয়ে নির্বিকার ভঙ্গিতে প্রশ্ন ছুঁড়ল, ‘নাম কী?’
মেয়েটির নাম সহ খুঁটিনাটি সবই জানে তুষার, তবুও জিজ্ঞাসা করল। তার মনে হচ্ছে, অপর পক্ষ থেকে উত্তর আসবে।
তার ধারণাকে সত্য প্রমাণ করতে ভারাক্রান্ত কণ্ঠে মেয়েটি নিজের নাম উচ্চারণ করল, ‘পদ্ম…আমি…আমি পদ্মজা।’
পদ্মজা চৈতন্য হারিয়ে হেলে পড়ে তুষারের ওপর। তুষার দ্রুত তাকে বাহুডোরে আটকে ফেলল। উঁচু কণ্ঠে ফাহিমাকে ডাকল, ‘ফাহিমা, দ্রুত আসুন।’

