নেকলেস গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর নিচে দেওয়া হয়েছে। নেকলেস গল্পটি মূলত মানুষের অহংকার, লোভ ও ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি নিয়ে একটি শিক্ষামূলক কাহিনি। এই গল্প থেকে সৃজনশীল প্রশ্ন তৈরি করলে চরিত্র বিশ্লেষণ, ঘটনার কারণ-পরিণতি, নৈতিক শিক্ষা এবং নিজের মতামত প্রকাশের সুযোগ থাকে। যেমন ম্যাথিল্ডার স্বভাব, তার অসন্তোষ, নেকলেস হারানোর ঘটনা ও শেষের করুণ সত্য নিয়ে প্রশ্ন করা যায়।
নেকলেস গল্পের সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর
১/ মেধাবী রুবিনার বাবা খুব সামান্য বেতনে চাকরি করেন। তার সহপাঠীরা সকলেই অবস্থাপন্ন পরিবারের। সহপাঠীদের পোশাক, জীবনাচরণের সঙ্গে রুবিনার কিছুতেই খাপ খায় না। তবু তা নিয়ে সে মোটেই হীনমন্যতায় ভোগে না। তার ধনী সহপাঠীরাও রুবিনার বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে তার মেধাকেই বেশি গুরুত্ব দেয়। নিজের কঠোর পরিশ্রমে রুবিনা পরীক্ষায় খুব ভালো ফল করে। আজ তিনি একজন বড় কর্মকর্তা।
ক. বন্দুক কিনতে মসিঁয়ে কত ফ্রাঁ সঞ্চয় করেছিল?
খ. মাদাম লোইসেল আমন্ত্রণ-লিপিখানা টেবিলের উপর নিক্ষেপ করেন কেন?
গ. রুবিনার সঙ্গে মাদাম লোইসেলের সাদৃশ্যপূর্ণ দিকটি বর্ণনা কর।
ঘ. পারস্পরিক সাদৃশ্য থাকা সত্ত্বেও জীবন পরিণতিতে দুজনের জীবন ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত।- উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. উত্তর: বন্দুক কেনার জন্য মসিঁয়ে লোইসেল ৪০০ ফ্রাঁ সঞ্চয় করেছিলেন।
খ. উত্তর: মাদাম লোইসেল ছিলেন উচ্চাকাঙ্ক্ষী এবং বিলাসপ্রিয়। যখন তার স্বামী অনেক কষ্টে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি বল নাচের (Ball dance) অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্র নিয়ে আসেন, তখন তিনি আনন্দিত হওয়ার বদলে বিরক্ত হন। কারণ, সেই জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে যাওয়ার মতো কোনো দামি পোশাক বা অলঙ্কার তার ছিল না। নিজের এই অভাবজনিত ক্ষোভ এবং অভিমানে তিনি আমন্ত্রণপত্রটি টেবিলের ওপর ছুড়ে ফেলে দেন।
গ. উত্তর:রুবিনা এবং মাদাম লোইসেলের মধ্যে প্রধান সাদৃশ্য হলো তাদের আর্থিক সীমাবদ্ধতা বা মধ্যবিত্ত অবস্থান।
মাদাম লোইসেল একজন সাধারণ কেরানির স্ত্রী ছিলেন, যার অভাবের কারণে তার শৌখিন জীবনযাপনের স্বপ্ন অপূর্ণ থেকে যেত। অন্যদিকে, রুবিনার বাবাও খুব সামান্য বেতনে চাকরি করেন, যার ফলে তার জীবনযাত্রাও তার অবস্থাপন্ন সহপাঠীদের তুলনায় সাধারণ। দুজনেরই পারিপার্শ্বিক অবস্থা তাদের বড় কোনো প্রাপ্তি বা উৎসবের সামনে নিজেদের অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
রুবিনা যেমন তার সহপাঠীদের চাকচিক্যের মাঝে নিজের সাধারণ অবস্থান নিয়ে বড় হয়েছে, মাদাম লোইসেলকেও তেমনি তার উচ্চবিত্ত বন্ধুদের তুলনায় নিজের সাধারণ জীবন নিয়ে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করতে হয়েছে।
ঘ. উত্তর: উদ্দীপকের রুবিনা এবং গল্পের মাদাম লোইসেল উভয়েই অভাবী পরিবার থেকে আসলেও, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতার পার্থক্যের কারণে তাদের জীবন পরিণতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়েছে। এই ভিন্নতার কারণগুলো নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:
রুবিনা তার দরিদ্র অবস্থা নিয়ে কখনোই হীনমন্যতায় ভোগেনি। সে বাহ্যিক চাকচিক্যের চেয়ে মেধাকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। অন্যদিকে, মাদাম লোইসেল সবসময় তার দারিদ্র্য নিয়ে অতৃপ্ত ছিলেন এবং আভিজাত্যের মোহে ভুগতেন।
রুবিনা তার মেধাকে পুঁজি করে কঠোর পরিশ্রম করেছে। তার লক্ষ্য ছিল নিজের যোগ্যতায় নিজেকে প্রমাণ করা। কিন্তু মাদাম লোইসেল পরিশ্রমের চেয়ে লোকদেখানো আভিজাত্যকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলেন, যার ফলে একটি ধারের হার হারিয়ে তিনি ১০ বছরের অবর্ণনীয় কষ্টে নিপতিত হন।
রুবিনা তার ধৈর্য ও মেধার কারণে আজ একজন বড় কর্মকর্তা হিসেবে সুপ্রতিষ্ঠিত। তার জীবন সাফল্যের আলোয় উজ্জ্বল। বিপরীতে, মাদাম লোইসেল ক্ষণিকের কৃত্রিম আভিজাত্য বজায় রাখতে গিয়ে ঋণের জালে জড়িয়ে পড়েন এবং অকালে বার্ধক্য ও সীমাহীন কষ্টের শিকার হন।
পরিশেষে বলা যায়, রুবিনার জীবন গড়ে উঠেছে তার সততা ও আত্মবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে, আর মাদাম লোইসেলের জীবন ধ্বংস হয়েছে তার অবাস্তব কল্পনা ও অসতৃপ্তির কারণে। একারণেই শুরুর দিকটা একই রকম দারিদ্র্যপীড়িত হলেও তাদের চূড়ান্ত পরিণতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ধারায় প্রবাহিত হয়েছে।
২/ ধনাঢ্য ব্যবসায়ী মিরাজ সাহেব ব্যাংক ঋণে জর্জরিত হয়ে হারিয়ে ফেললেন সমস্ত বিষয় সম্পত্তি। এমনকি তাদের রাজপ্রাসাদের মতো বাড়িও উঠল নিলামে। কিন্তু সাহস ও মনোবল দিয়ে তিনি টিকে রইলেন কঠোর পরিশ্রম করে। শুরু করলেন নতুন ব্যবসা। শোধ করতে লাগলেন ব্যাংক ঋণ। এত বড় বিপদে একমাত্র মনোবল ও সাহসই তাঁকে বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
ক. লোইসেল ও তার স্ত্রী ঋণ শোধের জন্য কত বছর কষ্ট করেছিল?
খ. ‘সামান্য একটি বস্তুতে কী করে একজন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে আবার বাঁচতেও পারে।’- ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের সিরাজ সাহেবের মনোভাব কীভাবে ‘নেকলেস’ গল্পে প্রতিফলিত হয়েছে? -ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও ‘নেকলেস’ গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উদ্দীপকে উপস্থিত।”- বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. উত্তর: মাদাম লোইসেল ও তার স্বামী হারানো নেকলেসটির দাম বাবদ নেওয়া ঋণ শোধ করার জন্য দীর্ঘ ১০ বছর কঠোর পরিশ্রম ও কষ্ট করেছিলেন।
খ. উত্তর: উক্তিটি দিয়ে ভাগ্যের বিড়ম্বনা এবং জীবনের অনিশ্চয়তাকে বোঝানো হয়েছে। মাদাম লোইসেলের জীবনে একটি সামান্য কৃত্রিম নেকলেস কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। সেই হারটি হারিয়ে যাওয়ার পর তা ফেরত দেওয়ার জন্য ঋণ করতে গিয়ে তিনি এবং তার স্বামী সর্বস্বান্ত হন। মাত্র এক রাতের শৌখিনতার জন্য তাদের জীবনের ১০টি বছর নষ্ট হয়ে যায়। অথচ হারটি যদি না হারাতো বা সেটি যদি আসল না হতো, তবে তাদের জীবন অন্যরকম হতে পারত। অর্থাৎ মানুষের জীবনের তুচ্ছ একটি ঘটনা বা বস্তু পুরো জীবনকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে, আবার তার সঠিক সিদ্ধান্ত তাকে বাঁচিয়েও রাখতে পারে।
গ. উত্তর: উদ্দীপকের মিরাজ সাহেবের মনোবল ও লড়াই করার মানসিকতা ‘নেকলেস’ গল্পের লোইসেল দম্পতির ঋণ পরিশোধের অধ্যায়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
গল্পে দেখা যায়, হারানো নেকলেসটির দেনা মেটানোর জন্য মাদাম লোইসেল ও তার স্বামী তাদের সাজানো জীবন ত্যাগ করেন। তারা ছোট একটি চিলেকোঠার ঘরে আশ্রয় নেন এবং কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন। মাদাম লোইসেল নিজে থালাবাসন ধোয়া থেকে শুরু করে বাজারের দরাদরি—সব কাজ করতেন। উদ্দীপকের মিরাজ সাহেবও যেমন সম্পদ হারিয়ে ভেঙে না পড়ে কঠোর পরিশ্রম আর মনোবলের মাধ্যমে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন, লোইসেল দম্পতিও তেমনি তাদের ভুলের মাশুল দিতে ১০ বছর হাড়ভাঙা খাটুনি খেটেছেন। এই হার না মানা মানসিকতা ও সততার দিকটিই মিরাজ সাহেবের চরিত্রে প্রতিফলিত হয়েছে।
ঘ. উত্তর: “প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও ‘নেকলেস’ গল্পের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উদ্দীপকে উপস্থিত” উক্তিটি যথার্থ।
উদ্দীপকে মিরাজ সাহেব একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন যিনি ব্যবসায়িক কারণে সর্বস্বান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে মাদাম লোইসেল অভাবী হয়েও বিলাসিতার মোহে পড়ে ঋণের জালে জড়িয়েছিলেন। দুজনের বিপর্যয়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ আলাদা একজনের বিপর্যয় পেশাগত কারণে, অন্যজনেরটি ছিল চারিত্রিক দুর্বলতা ও ভাগ্যের পরিহাস।
তবে গল্পের যে গুরুত্বপূর্ণ দিকটি উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে তা হলো ‘বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠার সংগ্রাম ও চারিত্রিক দৃঢ়তা’। মিরাজ সাহেব যেমন সম্পদ হারিয়ে মনোবল হারাননি, মাদাম লোইসেলও তেমনি দেনা শোধের জন্য নিজের আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে দারিদ্র্যকে মেনে নিয়েছিলেন। ১০ বছর ধরে তিল তিল করে টাকা জমিয়ে ঋণ শোধ করার মাধ্যমে তারা চরম দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিয়েছিলেন।
পরিশেষে বলা যায়, মিরাজ সাহেবের ঘুরে দাঁড়ানোর সংকল্প এবং মাদাম লোইসেলের ঋণ শোধের দীর্ঘ লড়াই উভয় ক্ষেত্রেই প্রতিকূলতাকে জয় করার মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে। প্রেক্ষাপট যা-ই হোক, জীবনের কঠিন সময়ে ভেঙে না পড়ে লড়াই করার এই সর্বজনীন শিক্ষাটিই উভয় কাহিনীকে একসূত্রে গেঁথেছে।
৩/ চুরির দায়ে চাকরি হারানোর পর দুবছর পেরিয়েছে। তবুও কাজের অভাব হয় নি সাকিবের। মিথ্যে সাক্ষ্যের কারণে দুবছরে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধ করার রায় হয়েছে তার বিরুদ্ধে। অভাবের সংসার হলেও রাতদিন পরিশ্রম করে সাকিব ও তার স্ত্রী উভয়ে মিলে এ অসাধ্যকে সাধন করেছে।
ক. হারটি খুঁজতে গিয়ে পরদিন সকাল কয়টার দিকে লোইসেল বাড়ি ফিরে এলো?
খ. “ঐ জড়োয়া গহনা ফেরত দেয়ার ব্যবস্থা আমার করতে হবে।” উক্তিটি বুঝিয়ে লেখ।
গ. উদ্দীপকের সাকিবের সঙ্গে ‘নেকলেস’ গল্পের মি. লোইসেলের সাদৃশ্য নিরূপণ কর।
ঘ. “প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের পাত্র-পাত্রী যেন মাদাম ও তার স্বামী লোইসেলের মানসিকতার প্রতিচ্ছবি।”-উক্তিটি বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর
ক. উত্তর: হারানো হারটি খুঁজতে বেরিয়ে পরদিন সকাল সাতটার দিকে মসিঁয়ে লোইসেল খালি হাতে বাড়ি ফিরে এলেন।
খ. উত্তর: উক্তিটি মাদাম লোইসেলের সততা এবং দায়িত্ববোধকে প্রকাশ করে। বন্ধু মাদাম ফোরস্টিয়ারের কাছ থেকে ধার নেওয়া নেকলেসটি বল নাচের অনুষ্ঠানে হারিয়ে ফেলার পর মাদাম লোইসেল চরম মুষড়ে পড়েন। কিন্তু তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, যেভাবেই হোক এই গয়নাটি তাকে ফেরত দিতেই হবে। এটি ছিল অন্যের আমানত রক্ষা করার একটি নৈতিক দায়বদ্ধতা। এই দায় মেটাতে গিয়েই তারা নিজেদের সর্বস্ব বিক্রি করে এবং ঋণ করে নতুন একটি হার কিনে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।
গ. উত্তর: উদ্দীপকের সাকিবের সঙ্গে ‘নেকলেস’ গল্পের মসিঁয়ে লোইসেলের প্রধান সাদৃশ্য হলো বিপর্যয় মোকাবিলায় অক্লান্ত পরিশ্রম ও নৈতিক দায়িত্বশীলতা।
সাকিব চুরির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে মিথ্যা সাক্ষ্যের কারণে পাঁচ লাখ টাকা পরিশোধের দণ্ড পান। এই বিশাল অংকের টাকা শোধ করতে তিনি দিনরাত পরিশ্রম করেন। একইভাবে, মসিঁয়ে লোইসেলও তার স্ত্রীর হারিয়ে ফেলা নেকলেসটির দাম শোধ করতে নিজের পৈতৃক সম্পত্তি বিসর্জন দেন এবং বাকি ঋণের টাকা জোগাড় করতে অফিসের কাজের পর রাতেও ওভারটাইম বা নকলনবিশের কাজ করতেন। অভাবের সংসারে সাকিবের মতো লোইসেলও ভাগ্যের পরিহাসকে মেনে নিয়ে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে দায়মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করেছেন। দুজনের মধ্যেই পরিবারের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ার মানসিকতা বিদ্যমান।
ঘ. উত্তর: “প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপকের পাত্র-পাত্রী যেন মাদাম ও তার স্বামী লোইসেলের মানসিকতার প্রতিচ্ছবি।”—উক্তিটি অত্যন্ত যথার্থ।
উদ্দীপক ও গল্পের প্রেক্ষাপটে ভিন্নতা আছে। সাকিবের বিপর্যয় এসেছে মিথ্যে মামলা ও চুরির অপবাদের কারণে, যা ছিল মূলত আইনি জটিলতা। অন্যদিকে, লোইসেল দম্পতির বিপর্যয় ছিল মাদাম লোইসেলের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং একটি সামাজিক অনুষ্ঠানের দুর্ঘটনাজনিত কারণ। কিন্তু এই দুই ভিন্ন প্রেক্ষাপটের পরেও তাদের মানসিক শক্তি ও নৈতিক দৃঢ়তা একই রকম।
উদ্দীপকে সাকিব ও তার স্ত্রী দুজনে মিলে যেমন পরিশ্রম করে অসাধ্য সাধন করেছেন, গল্পেও দেখা যায় মসিঁয়ে লোইসেল ও মাদাম লোইসেল দুজনে মিলে দীর্ঘ ১০ বছর দারিদ্র্যের চরম সীমা সহ্য করে ঋণ শোধ করেছেন।
সাকিব যেমন অন্যের পাওনা (জরিমানা) মেটাতে আপসহীন, লোইসেল দম্পতিও তেমনি অন্যের গয়না ফেরত দিতে নিজেদের জীবনকে তিলে তিলে ক্ষয় করেছেন।
মাদাম লোইসেল একসময় বিলাসিতার স্বপ্ন দেখতেন, কিন্তু বিপদে পড়ে তিনি সাধারণ গৃহিণীর মতো কঠোর পরিশ্রমী হয়ে ওঠেন। সাকিবের স্ত্রীর মধ্যেও একই রকম সংগ্রামী মানসিকতা দেখা যায়।
পরিশেষে বলা যায়, পরিস্থিতির চাপে পড়ে মানুষ যখন নিজের সুখ-আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে সততার সাথে লড়াই করে টিকে থাকে, তখন সেই মানসিকতা সার্বজনীন হয়ে ওঠে। উদ্দীপকের দম্পতি এবং লোইসেল দম্পতি উভয়েই প্রমাণ করেছেন যে ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা এবং মনোবল থাকলে যেকোনো বড় আর্থিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। এই লড়াকু মানসিকতাই তাদের একে অপরের প্রতিচ্ছবি হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছে।
নেকলেস গল্পের সৃজনশীল
৪/ নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও:
দৈন্য যদি আসে আসুক লজ্জা কিবা তাহে?
মাথা উঁচু রাখিস
সুখের সাথী মুখের পানে যদি না চাহে,
ধৈর্য ধরে থাকিস।
ক. “নিয়তির ভুলেই যেন এক কেরানির পরিবারে তার জন্ম হয়েছে।”-কার?
খ. মাদাম লোইসেল কেন তার ধনী বান্ধবীর সাথে দেখা করতে চাইত না?
গ. উদ্দীপকের ভাবনার সাথে ‘নেকলেস’ গল্পের মাদাম লোইসেলের ভাবনার বৈসাদৃশ্য নিরূপণ কর।
ঘ. ‘নেকলেস’ গল্পের প্রেক্ষিতে উদ্দীপকের অংশটুকুর যৌক্তিকতা তুলে কর।
৫/ নিচের উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
পেটটি ভরে পায় না খেতে, বুকের কখান হাড়
সাক্ষী দেছে অনাহারে কদিন গেছে তার।
মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ রাশি
থাপরেতে নিবিয়ে গেছে দারুণ অভাব আসি
পরনে তার শতেক তালির শতেক ছেঁড়া বাস
সোনালি তার গার বরণের করছে উপহাস।
ক. দীর্ঘদিন পর মাদাম ফোরস্টিয়ারের সাথে মাদাম লোইসেলের কোথায় দেখা হয়েছিল?
খ. মাদাম ফোরস্টিয়ার কেন মাদাম লোইসেলকে চিনতে পারলেন না?
গ. উদ্দীপকে ‘নেকলেস’ গল্পের প্রতিফলিত দিকটি ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “উদ্দীপকে ‘নেকলেস’ গল্পের একটি বিষয়ের প্রতিফলন ঘটলেও সমগ্রতা ধারণ করেনি।” উত্তরের স্বপক্ষে যুক্তি দাও।

