নাক দিয়ে পানি পড়া বন্ধ করার ঔষধ ও চিকিৎসা 2026

নাক দিয়ে পানি পড়া বন্ধ করার ঔষধ সাধারণত সর্দি, অ্যালার্জি বা ভাইরাস  সংক্রমণের কারণে হয়। এ সমস্যা কমাতে অ্যান্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ অ্যালার্জিজনিত নাক দিয়ে পানি পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে। নাক বন্ধ ও পানি পড়া কমাতে ডিকনজেস্ট্যান্ট ব্যবহার করা হয়, তবে তা স্বল্প সময়ের জন্য নেওয়া উচিত। স্যালাইন নাকের স্প্রে নাক পরিষ্কার রাখতে নিরাপদ ও কার্যকর। ভাইরাস সর্দিতে বিশ্রাম ও পর্যাপ্ত পানি পান গুরুত্বপূর্ণ। শিশু, গর্ভবতী নারী বা দীর্ঘদিন সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

নাক দিয়ে পানি পড়া বন্ধ করার ঔষধ

ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ঔষধ খাওয়া উচিত নয় নিচে কিছু নাক দিয়ে পানি পড়া বন্ধ করার ঔষধ দেওয়া হয়েছে। এসকল ঔষধ অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে খাবেন।

নাক দিয়ে পানি পড়া বা সর্দি হওয়ার পেছনে সাধারণত দুই ধরণের কারণ থাকে অ্যালার্জি অথবা সাধারণ ফ্লু বা ঠান্ডা লাগা। ঘরোয়া কিছু সমাধান বা সাধারণ ওভার-দ্য-কাউন্টার (OTC) ওষুধে এটি দ্রুত সেরে যায়।

হাঁচি নাক দিয়ে পানি পড়া ঔষধ ও পদ্ধতিগুলো নিচে দেওয়া হয়েছে:

১. অ্যান্টি-হিস্টামিন

অ্যালার্জিজনিত কারণে নাক দিয়ে পানি পড়লে এই ওষুধগুলো সবচেয়ে ভালো কাজ করে। এগুলো খেলে হাঁচি এবং নাক চুলকানোও কমে যায়। সাধারণ কিছু ওষুধের নাম হলো:

  • ফেক্সোফেনাডিন: এটি বেশ জনপ্রিয় কারণ এটি খেলে সাধারণত ঘুম আসে না। বাজারে এটি Fexo 120 (স্কোয়ার ফারমাসিটিকেল) বা Fenadin নামে পাওয়া যায়। (১২০ মিলিগ্রাম দিনে একবার)।

  • ডেসলোরাটাডিন: এটিও কার্যকর এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম। বাজারে এটি Deslor (অরিওন ফার্মাসিটিকেল) বা Destadin নামে পাওয়া যায়।

  • সেটিরিজিন: এটি খুব দ্রুত কাজ করে, তবে এটি খেলে কিছুটা ঘুম আসতে পারে। বাজারে এটি Alatrol (স্কোয়ার ফারমাসিটিকেল) বা Atova নামে পাওয়া যায়।

২. নাকের স্প্রে

যদি নাক বন্ধ হয়ে যায় বা অতিরিক্ত পানি পড়ে, তবে নাকের ড্রপ বা স্প্রে ব্যবহার করা যায়।

  • অক্সিডিন বা এন্টাজল : এটি দ্রুত নাক পরিষ্কার করে। তবে মনে রাখবেন, এটি টানা ৩ দিনের বেশি ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।

  • নরমাল স্যালাইন ড্রপ: এটি ছোট-বড় সবাই ব্যবহার করতে পারেন। এটি নাক পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে এবং কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

See More  খুব সহজেই দ্রুত 2 থেকে 3 ইঞ্চি লম্বা হওয়ার উপায় 2026

নাক দিয়ে পানি পড়া কিসের লক্ষণ 

নাক দিয়ে পানি পড়া মূলত কোনো রোগ নয়, বরং এটি শরীরের একটি সুরক্ষা ব্যবস্থা। আমাদের নাকের ভেতরে কোনো অস্বস্তি বা সংক্রমণের সৃষ্টি হলে শরীর সেই ক্ষতিকারক উপাদানগুলো বের করে দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত মিউকাস বা তরল তৈরি করে। এটি সাধারণত নিচের সমস্যাগুলোর লক্ষণ হতে পারে:

১. সাধারণ সর্দি বা ফ্লু: এটি নাক দিয়ে পানি পড়ার সবচেয়ে সাধারণ কারণ। রাইনোভাইরাসের মতো বিভিন্ন ভাইরাসের কারণে আমাদের শ্বাসতন্ত্রে যখন সংক্রমণ হয়, তখন শরীর সর্দির মাধ্যমে তা প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে।

২. অ্যালার্জি: ধুলাবালি, ফুলের রেণু, ধোঁয়া বা পোষা প্রাণীর সংস্পর্শে এলে অনেকের নাকে চুলকানি হয় এবং পানি পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বলা হয়।

৩. সাইনোসাইটিস: যদি নাকের চারপাশের সাইনাসে প্রদাহ বা সংক্রমণ হয়, তবে নাক দিয়ে ঘন পানি পড়তে পারে। এর সাথে সাধারণত কপালে বা চোখে ব্যথা থাকে।

৪. আবহাওয়ার পরিবর্তন: অতিরিক্ত ঠান্ডা বাতাস বা শুষ্ক আবহাওয়ায় নাকের ভেতরের ঝিল্লি সিক্ত রাখার জন্য শরীর বেশি তরল নিঃসরণ করে। এ ছাড়া অতিরিক্ত ঝাল খাবার খেলেও সাময়িকভাবে নাক দিয়ে পানি পড়তে পারে।

৫. ভ্যাসোমোটর রাইনাইটিস: অনেক সময় কোনো সংক্রমণ বা অ্যালার্জি ছাড়াও বায়ুচাপের পরিবর্তন বা তীব্র গন্ধের কারণে নাক দিয়ে পানি পড়ে।

যদি নাকের পানির রঙ পরিষ্কার থাকে, তবে চিন্তার কারণ কম। কিন্তু যদি সর্দি হলুদ বা সবুজ হয় এবং সাথে জ্বর থাকে, তবে সেটি ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে। এমন অবস্থায় পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রচুর পানি পান করা প্রয়োজন।

নাক দিয়ে পানি পড়া বন্ধ করার ঘরোয়া উপায়

নাক দিয়ে পানি পড়া বন্ধ করার জন্য নিচে তিনটি কার্যকর ঘরোয়া উপায় দেওয়া হলো:

১. গরম পানির ভাপ নেওয়া নাক পরিষ্কার করার জন্য ভাপ নেওয়া সবচেয়ে প্রাচীন ও কার্যকর পদ্ধতি। একটি পাত্রে গরম পানি নিয়ে তার ওপর মাথা রেখে একটি বড় তোয়ালে দিয়ে ঢেকে নিন। এবার গরম পানির ভাপটা নাক দিয়ে টেনে নেওয়ার চেষ্টা করুন। এটি নাকের ভেতরের পথ প্রশস্ত করে এবং জমে থাকা সর্দি বের করে দিয়ে দ্রুত আরাম দেয়। দিনে দুই থেকে তিনবার এটি করলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

See More  20+ হট নাইট মেয়েদের নাইট ড্রেস ডিজাইন 2026

২. আদা ও মধুর চা আদাতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান নাকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। এক কাপ গরম পানিতে কয়েক টুকরো আদা দিয়ে ভালো করে ফুটিয়ে নিন। এরপর তাতে সামান্য মধু মিশিয়ে ধীরে ধীরে পান করুন। গরম এই চা নাকের অস্বস্তি কমায় এবং শরীরকে ভেতর থেকে গরম রেখে পানি পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে।

৩. হালকা গরম পানির গার্গল ও লবণ-পানি এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে আধা চামচ লবণ মিশিয়ে গার্গল করুন। এটি কেবল গলার অস্বস্তি কমায় না, বরং নাকের পেছনের নালির প্রদাহ কমাতেও সাহায্য করে। এ ছাড়া, একটি ড্রপার দিয়ে এই লবণ-পানির মিশ্রণ দুই নাকে কয়েক ফোঁটা করে দিলে নাকের ভেতরের জীবাণু ও অতিরিক্ত মিউকাস পরিষ্কার হয়ে যায়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *