কস্তুরী খেলে কি হয় বা কস্তুরী ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম এই সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করব। কস্তুরী মূলত পুরুষ মৃগ বা হরিণের নাভি থেকে সংগৃহীত একটি অত্যন্ত মূল্যবান এবং দুষ্প্রাপ্য সুগন্ধি পদার্থ। প্রাচীনকাল থেকেই চিকিৎসাশাস্ত্রে এর বিবিধ ব্যবহারের কথা প্রচলিত রয়েছে। কস্তুরী খাওয়ার প্রভাব নিচে আলোচনা করা হলো:
শারীরিক ও মানসিক উপকারিতা: কস্তুরী মূলত স্নায়ুতন্ত্রের ওপর শক্তিশালী প্রভাব ফেলে। এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং জীবনীশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আয়ুর্বেদিক ও ইউনানি চিকিৎসায় একে মানসিক অবসাদ, হিস্টিরিয়া এবং স্নায়বিক দুর্বলতা নিরাময়ে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া, এটি হৃদপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়াতে এবং রক্তসঞ্চালন প্রক্রিয়া উন্নত করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করে। শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানির সমস্যা উপশমেও এর কিছু ব্যবহার লক্ষ্য করা যায়। অনেক ক্ষেত্রে এটি প্রাকৃতিক কামোদ্দীপক হিসেবে কাজ করে এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।
সতর্কতা ও ঝুঁকি: উপকারিতা থাকলেও কস্তুরী অত্যন্ত উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এবং ‘গরম’ প্রকৃতির পদার্থ। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সরাসরি এটি গ্রহণ করলে শরীরে অতিরিক্ত উত্তাপ তৈরি হতে পারে, যা থেকে মাথাব্যথা, বমিভাব বা হার্টের ধড়ফড়ানি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী এবং শিশুদের জন্য এটি এড়িয়ে চলা আবশ্যক।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমানে কস্তুরী হরিণ একটি বিলুপ্তপ্রায় প্রাণী এবং এর নাভি সংগ্রহ করা আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ। বাজারে যেসব কস্তুরী পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগই কৃত্রিম বা রাসায়নিক মিশ্রিত নকল পণ্য, যা খেলে লিভার বা কিডনির অপূরণীয় ক্ষতি হতে পারে। তাই এটি গ্রহণের আগে এর উৎস এবং বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
কস্তুরী ট্যাবলেট খাওয়ার নিয়ম
কস্তুরী অত্যন্ত শক্তিশালী এবং সংবেদনশীল একটি ভেষজ উপাদান। বাজারে সাধারণত বিভিন্ন ইউনানি বা আয়ুর্বেদিক কোম্পানি কস্তুরীকে অন্যান্য উপাদানের সাথে মিশিয়ে ট্যাবলেট বা পিল আকারে বাজারজাত করে (যেমন: হাব্বে কস্তুরী)। এগুলো সেবনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
খাওয়ার নিয়ম নিচে দেওয়া হলো:
-
মাত্রা: সাধারণত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন ১টি ট্যাবলেট রাতে ঘুমানোর আগে সেবন করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সমস্যার ধরণ অনুযায়ী এটি দিনে দুবারও হতে পারে।
-
সেবনের মাধ্যম: এই ট্যাবলেটটি সাধারণত হালকা গরম দুধের সাথে খেলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। দুধ কস্তুরীর তীব্রতা বা “গরম” ভাবকে শরীরের জন্য সহনীয় করতে সাহায্য করে। দুধ না থাকলে হালকা গরম পানির সাথেও খাওয়া যেতে পারে।
-
সময়কাল: এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদী ওষুধ নয়। সাধারণত নির্দিষ্ট কোনো দুর্বলতা দূর করার জন্য ১০ থেকে ১৫ দিন বা সর্বোচ্চ এক মাস খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সতর্কতা:
১. ডাক্তারের পরামর্শ: কস্তুরী শরীরের রক্তচাপ এবং হৃদস্পন্দনের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই নিবন্ধিত কোনো আয়ুর্বেদিক বা ইউনানি চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এটি খাওয়া একেবারেই উচিত নয়।
২. রক্তচাপ ও হার্টের রোগী: যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগ আছে, তাদের জন্য কস্তুরী ট্যাবলেট খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
৩. নকল থেকে সাবধান: বাজারে কস্তুরীর নামে প্রচুর ভেষজ ট্যাবলেট পাওয়া যায় যেগুলোতে স্টেরয়েড বা ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো থাকে। তাই শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত এবং প্রতিষ্ঠিত কোম্পানির (যেমন: হামদর্দ বা সাধনা) পণ্য কিনুন।
৪. পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: এটি খাওয়ার পর যদি শরীরে অতিরিক্ত তাপ অনুভব করেন, বুক ধড়ফড় করে বা অনিদ্রা দেখা দেয়, তবে দ্রুত সেবন বন্ধ করে দিন।

