কম্পিউটার টাইপিং শেখার নিয়ম বলতে গেলে একেবারে শুরু থেকে বলতে হবে। টাইপিং হচ্ছে একটি অনুশীলনমূলক কাজ তাই আপনার নিজস্ব কম্পিউটার থাকা এখানে বাদ্ধতানুলক। কারণ নিজের কম্পিউটার থাকলে আপনি সহজেই টাইপিং শিখতে পারবেন। কম্পিউটার টাইপিং শেয়ার আরেকটি সহজ নিয়ম হলো আপনাকে প্রতিদিন কিছু না কিছু লিখতে হবে। আসুন এগুলো বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
কম্পিউটার টাইপিং শেখার নিয়ম
টাইপিং শেখার প্রথম ধাপ হলো আঙুলগুলো কিবোর্ডের হোম রো (Home Row) অর্থাৎ এ, এস, ডি, এফ (ASDF) এবং জে, কে, এল, সেমিকোলন (JKL;) চিহ্নের ওপর রাখা। প্রতিটি আঙুলের জন্য নির্দিষ্ট কী বরাদ্দ থাকে, যা নড়াচড়া না করে টাইপ করতে সাহায্য করে। একে বলা হয় টাচ টাইপিং। শুরুতে কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়ে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে টাইপ করার অভ্যাস করুন। এতে আপনার আঙুলের জড়তা কাটবে এবং মেমোরি তৈরি হবে।
প্রতিদিন অন্তত ২০-৩০ মিনিট টাইপিং প্র্যাকটিস করা জরুরি। অনুশীলনের সময় তাড়াহুড়ো না করে নির্ভুল টাইপ করার দিকে নজর দিন। টাইপিং স্পিড বাড়ানোর জন্য অনলাইন টিউটর বা বিভিন্ন গেমের সাহায্য নিতে পারেন। মনে রাখবেন, সঠিক নিয়ম মেনে নিয়মিত অনুশীলন করলে খুব অল্প দিনেই আপনি কিবোর্ডে দক্ষ হয়ে উঠবেন।
দ্রুত কম্পিউটার টাইপিং শেখার পূর্ণাঙ্গ গাইড
আজকের ডিজিটাল যুগে কম্পিউটার টাইপিং কেবল একটি অতিরিক্ত গুণ নয়, বরং এটি একটি প্রয়োজনীয় দক্ষতা। আপনি শিক্ষার্থী হোন কিংবা চাকরিজীবী, দ্রুত এবং নির্ভুলভাবে টাইপ করতে পারা আপনার অনেক সময় বাঁচিয়ে দেবে। তবে টাইপিং শেখার মানে শুধু কিবোর্ডে আঙুল চালানো নয়, বরং একটি সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা। নিচে দ্রুত টাইপিং শেখার কিছু কার্যকর নিয়ম আলোচনা করা হলো।
১. আঙুলের সঠিক অবস্থান বা ‘হোম রো’
টাইপিং শেখার প্রথম এবং প্রধান ধাপ হলো কিবোর্ডের ওপর আঙুলের সঠিক অবস্থান নিশ্চিত করা। কিবোর্ডের মাঝের সারিকে বলা হয় হোম রো।
-
বাম হাতের অবস্থান: কনিষ্ঠ আঙুল ‘A’ তে, অনামিকা ‘S’ এ, মধ্যমা ‘D’ তে এবং তর্জনী ‘F’ কী-র ওপর থাকবে।
-
ডান হাতের অবস্থান: তর্জনী ‘J’ তে, মধ্যমা ‘K’ তে, অনামিকা ‘L’ এ এবং কনিষ্ঠ আঙুল থাকবে ‘;’ (সেমিকোলন) চিহ্নের ওপর।
কিবোর্ডের ‘F’ এবং ‘J’ কী-র ওপর ছোট একটি উঁচু দাগ থাকে। এটি মূলত আপনাকে কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়েও হাতের সঠিক অবস্থান বুঝতে সাহায্য করে। টাইপ করার সময় অন্য যেকোনো সারিতে আঙুল গেলেও কাজ শেষে পুনরায় এই হোম রো-তে ফিরে আসার অভ্যাস করতে হবে।
২. টাচ টাইপিং বা না তাকিয়ে লেখার অভ্যাস
অধিকাংশ মানুষ টাইপ করার সময় কিবোর্ডের দিকে তাকিয়ে থাকে। এটি টাইপিং স্পিড বাড়ানোর পথে সবচেয়ে বড় বাধা। আপনাকে রপ্ত করতে হবে টাচ টাইপিং। এর অর্থ হলো কিবোর্ডের দিকে না তাকিয়ে সরাসরি স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে টাইপ করা। শুরুতে এটি কঠিন মনে হতে পারে এবং ভুলও হবে অনেক, কিন্তু হাল ছাড়া যাবে না। আপনার আঙুলের মাসল মেমোরি একবার সেট হয়ে গেলে আপনি না দেখেই ঝড়ের গতিতে টাইপ করতে পারবেন।
৩. হাতের কবজি ও বসার ভঙ্গি
টাইপিং স্পিড কেবল আঙুলের ওপর নয়, বরং আপনার বসার ভঙ্গি বা পসচারের ওপরও নির্ভর করে।
-
পিঠ সোজা রেখে আরামদায়কভাবে বসুন।
-
হাতের কবজি টেবিলের ওপর একদম নামিয়ে রাখবেন না, বরং কিবোর্ড থেকে সামান্য উঁচুতে রাখুন। এতে আঙুলগুলো কিবোর্ডের চারপাশে সহজে চলাচল করতে পারবে।
-
স্ক্রিন থেকে আপনার চোখের দূরত্ব যেন সঠিক থাকে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
৪. নির্ভুলতার দিকে নজর দিন, গতির দিকে নয়
অনেকে শুরুতেই খুব দ্রুত টাইপ করার চেষ্টা করেন, যার ফলে প্রচুর ভুল হয়। মনে রাখবেন, শুরুতে গতির চেয়ে নির্ভুলতা (Accuracy) বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনি যদি ভুল টাইপ করেন, তবে সেই ভুল মুছতে গিয়ে আপনার সময় বেশি নষ্ট হবে। তাই প্রথমে ধীরে ধীরে নির্ভুলভাবে টাইপ করার চেষ্টা করুন। যখন দেখবেন আপনার আঙুলগুলো কোনো ভুল ছাড়াই সঠিক কী খুঁজে পাচ্ছে, তখন গতি এমনিতেই বাড়তে শুরু করবে।
৫. শিফট এবং স্পেস বারের ব্যবহার
বড় হাতের অক্ষর টাইপ করার জন্য বিপরীত হাতের শিফট (Shift) কী ব্যবহার করুন। যেমন, বাম হাতের কোনো অক্ষর বড় করতে চাইলে ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুল দিয়ে শিফট চেপে ধরুন। বুড়ো আঙুল ব্যবহার করুন শুধু স্পেস বার (Space Bar) চাপার জন্য। সাধারণত ডান হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে স্পেস চাপা সুবিধাজনক।
৬. নিয়মিত অনুশীলন ও অনলাইন টুলস
টাইপিং শেখার জন্য একদিনে ১০ ঘণ্টা প্র্যাকটিস করার চেয়ে প্রতিদিন ৩০ মিনিট প্র্যাকটিস করা অনেক বেশি কার্যকর। ইন্টারনেটে অনেক ফ্রি ওয়েবসাইট আছে যেখানে আপনি মজাদার গেমের মাধ্যমে টাইপিং শিখতে পারেন। যেমন:
-
TypingClub: এটি নতুনদের জন্য দারুণ একটি সাইট।
-
10FastFingers: এখানে আপনি আপনার বর্তমান স্পিড যাচাই করতে পারবেন।
-
Keybr: এটি আপনার দুর্বল অক্ষরগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো বেশি বেশি প্র্যাকটিস করায়।
কম্পিউটার টাইপিং শেখা অনেকটা সাইকেল চালানোর মতো; একবার শিখে গেলে এটি আর ভুলবেন না। ধৈর্য হারাবেন না এবং কিবোর্ডের দিকে তাকানোর লোভ সামলান। যদি প্রতিদিন নিয়ম মেনে অল্প সময়ও ব্যয় করেন, তবে দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে আপনি নিজেই নিজের উন্নতি দেখে অবাক হবেন।

